দশকের পর দশক পরীক্ষাগারে সীমাবদ্ধ থাকার পর পুনর্জনন চিকিৎসা এখন ধীরে ধীরে বাস্তব চিকিৎসা ব্যবস্থার দিকে এগোতে শুরু করেছে। স্টেম সেলভিত্তিক চিকিৎসা ও টিস্যু পুনর্গঠন পদ্ধতি হৃদ্যন্ত্র ব্যর্থতা, মেরুদণ্ডের আঘাত এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো জটিল রোগে প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। তবে বিস্তৃত প্রয়োগের আগে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও শক্ত প্রমাণ নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
হারানো ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার আশা
আধুনিক চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রে রোগ নিয়ন্ত্রণ, প্রতিস্থাপন বা পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করলেও সম্পূর্ণভাবে হারানো কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে পারে না। পুনর্জনন চিকিৎসা সেই অপূর্ণতার জায়গা পূরণের প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিন ধরে দিয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও সীমিত ক্লিনিক্যাল প্রয়োগ ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই প্রতিশ্রুতি ধীরে ধীরে বাস্তবতার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।
হৃদ্যন্ত্র ব্যর্থতায় ল্যাব-উৎপাদিত প্যাচ
হৃদ্যন্ত্র পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অগ্রগতি এসেছে ল্যাবরেটরিতে তৈরি হৃদ্পেশির প্যাচ ব্যবহারে। উন্নত পর্যায়ের হৃদ্যন্ত্র ব্যর্থতায় আক্রান্ত এক রোগীর শরীরে এমন প্যাচ প্রতিস্থাপনের পর দেখা গেছে, প্রতিস্থাপিত টিস্যু হৃদ্যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে টিকে থাকতে পেরেছে। সরাসরি কোষ ইনজেকশনের ঝুঁকি যেমন অনিয়ন্ত্রিত হৃদ্স্পন্দন বা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি—প্যাচ পদ্ধতিতে তা তুলনামূলক কম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা গুরুতর রোগীদের জন্য এটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে এই চিকিৎসা এখনো বিশেষায়িত কেন্দ্র, অস্ত্রোপচার সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল।
মেরুদণ্ড আঘাতে সতর্ক অগ্রগতি
মেরুদণ্ডের স্নায়ুতন্ত্র পুনর্গঠন আরও জটিল। তবু সীমিত গবেষণায় কিছু রোগীর মোটর কার্যক্ষমতায় উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। দীর্ঘমেয়াদি অনুসরণেও কিছু স্নায়বিক উন্নতি টিকে থাকার প্রমাণ মিলেছে। যদিও রোগীর সংখ্যা খুব কম, তবু নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রিত কোষ উৎপাদন ও সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ—এই তিনটি শর্ত পূরণের দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা।
অস্টিওআর্থ্রাইটিসে সীমিত উপকারের প্রশ্ন
হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে স্টেম সেল ইনজেকশন ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে প্রচার পাচ্ছে। কিন্তু বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, স্বল্পমেয়াদে ব্যথা ও চলাচলে সামান্য উন্নতি ছাড়া বড় ধরনের উপকারের স্পষ্ট প্রমাণ নেই। জীবনমান, গঠনগত পরিবর্তন বা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সম্পর্কেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফলে বিশেষজ্ঞরা নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল গবেষণার বাইরে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলছেন।
নিয়ন্ত্রকদের বার্তা, প্রমাণ ছাড়া নয় অনুমোদন
গুরুতর রোগে কার্যকর নতুন চিকিৎসা দ্রুত পৌঁছে দিতে চাইলেও অননুমোদিত পদ্ধতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। অনিয়ন্ত্রিত চিকিৎসায় অন্ধত্ব, টিউমার, সংক্রমণসহ নানা জটিলতার অভিযোগ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বৈজ্ঞানিক সংগঠনগুলিও স্পষ্ট করে বলছে, পরীক্ষাগারভিত্তিক দাবি নিশ্চিত ক্লিনিক্যাল প্রমাণ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















