৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও বুরুন্ডি সরকারের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি দ্বিপাক্ষিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য আমেরিকা ফার্স্ট বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কৌশলকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সংক্রামক রোগের হুমকি থেকে আমেরিকানদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
অর্থায়ন ও প্রতিশ্রুতি
সমঝোতা অনুযায়ী, কংগ্রেসের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগামী পাঁচ বছরে বুরুন্ডিতে এইচআইভি/এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় সহায়তার জন্য ১২৯ মিলিয়নের বেশি ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। একই সময়ে বুরুন্ডি সরকার নিজস্ব স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় ২৬ মিলিয়ন ডলার বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে, যাতে দেশটি ধীরে ধীরে নিজস্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আরও স্বনির্ভর হতে পারে।
সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সক্ষমতা বৃদ্ধি
বুরুন্ডিতে দীর্ঘদিন ধরে এইচআইভি/এইডস ও ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যে সহায়তা চলমান রয়েছে, এই নতুন সমঝোতা তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। পাশাপাশি বুরুন্ডির রোগ শনাক্তকরণ, নজরদারি ও প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে।
পাঁচ বছরের এই উদ্যোগের ফলে বুরুন্ডিতে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী মানুষের ৯৭ শতাংশ চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে ম্যালেরিয়াজনিত মৃত্যুহার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সমন্বিত সেবা প্রদানের উন্নত ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খরচের দক্ষতা, সেবার মান এবং রোগীদের চিকিৎসায় ধরে রাখার সক্ষমতাও বাড়বে। এতে জীবন রক্ষা যেমন সহজ হবে, তেমনি ভবিষ্যৎ সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বুরুন্ডির স্বনির্ভরতাও শক্তিশালী হবে।
বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সহযোগিতার বিস্তৃত প্রভাব
এ পর্যন্ত স্বাক্ষরিত আমেরিকা ফার্স্ট বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কৌশলভিত্তিক সমঝোতা স্মারকগুলো মিলিয়ে নতুন স্বাস্থ্য অর্থায়নের পরিমাণ ১৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ১১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার এবং অংশীদার দেশগুলোর যৌথ বিনিয়োগ ৭ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার। এই বিনিয়োগ বিশ্বজুড়ে এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মাসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের অগ্রগতিকে আরও শক্তিশালী করছে।
৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মোট ১৬টি দ্বিপাক্ষিক বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, যা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















