১০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের জলাশয়ের নাম বদলে ট্রাম্পের উদ্যোগে ধাক্কা, মার্কিনদের আগ্রহ নেই: সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষক পেনসিলভানিয়ায় ভয়াবহ হাম ছড়িয়ে পড়ছে, ঝুঁকিতে টিকাদান-অযোগ্য শিশুরা নেপালে বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা:আগাম সতর্কতার সীমাবদ্ধতা ইরান ছয় মাস পরও অটুট, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র জিন কেটে চিরতরে উচ্চ কোলেস্টেরল দূর করার আশায় বিজ্ঞানীরা

ইরান পরমাণু আলোচনা ঘিরে ধৈর্যের পরীক্ষা, সমঝোতা না সংঘাতের পথে বিশ্ব রাজনীতি

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শুরু হওয়া আলোচনা আবারও দীর্ঘায়িত কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তেহরানের আলোচনাকে সময়ক্ষেপণের পথে নিয়ে যাওয়ার পুরোনো ইতিহাস সামনে এনে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এবার মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধৈর্য ধরে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোবে, নাকি দ্রুত সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।

আলোচনার সূচনা ও কূটনৈতিক বার্তা
ওমানে অনুষ্ঠিত বৈঠক সরাসরি সংঘাত বা তিক্ততায় শেষ না হওয়াকে ইতিবাচক সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরির কথা বলেছেন এবং পরবর্তী ধাপে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে তেহরান স্পষ্ট করেছে যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে তারা আপস করবে না এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বিষয় নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত ও আঞ্চলিক উদ্বেগ
ওয়াশিংটনের মূল দাবি হলো ইরান যেন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করে, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সীমিত করে এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করে। ইসরায়েল ইতোমধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সময়ে অঞ্চলজুড়ে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো কূটনৈতিক চাপের অংশ হলেও সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিতও বহন করছে।

ধৈর্য, কৌশল ও সম্ভাব্য সংঘাত
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরান বর্তমান দুর্বলতার মধ্যেও আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সাফল্য দেখাতে চাইলেও দীর্ঘ যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে চায়। এই দ্বন্দ্বই আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। সামরিক হস্তক্ষেপ হলেও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের নিশ্চয়তা নেই; বরং আরও কঠোর শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

সমঝোতার সীমা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধে ইরানের অনাগ্রহ এবং সীমিত মাত্রায় সমৃদ্ধকরণে সম্ভাব্য সম্মতি নতুন সমঝোতার পথ খুলতে পারে। তবে আগের চুক্তির মতো কাঠামো ফিরে এলে সেটিকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা কঠিন হবে। ফলে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও ভাঙনের ঝুঁকি সমানভাবে রয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা

ইরান পরমাণু আলোচনা ঘিরে ধৈর্যের পরীক্ষা, সমঝোতা না সংঘাতের পথে বিশ্ব রাজনীতি

০৮:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শুরু হওয়া আলোচনা আবারও দীর্ঘায়িত কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তেহরানের আলোচনাকে সময়ক্ষেপণের পথে নিয়ে যাওয়ার পুরোনো ইতিহাস সামনে এনে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এবার মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধৈর্য ধরে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোবে, নাকি দ্রুত সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।

আলোচনার সূচনা ও কূটনৈতিক বার্তা
ওমানে অনুষ্ঠিত বৈঠক সরাসরি সংঘাত বা তিক্ততায় শেষ না হওয়াকে ইতিবাচক সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরির কথা বলেছেন এবং পরবর্তী ধাপে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে তেহরান স্পষ্ট করেছে যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে তারা আপস করবে না এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বিষয় নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত ও আঞ্চলিক উদ্বেগ
ওয়াশিংটনের মূল দাবি হলো ইরান যেন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করে, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সীমিত করে এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করে। ইসরায়েল ইতোমধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সময়ে অঞ্চলজুড়ে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো কূটনৈতিক চাপের অংশ হলেও সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিতও বহন করছে।

ধৈর্য, কৌশল ও সম্ভাব্য সংঘাত
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরান বর্তমান দুর্বলতার মধ্যেও আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সাফল্য দেখাতে চাইলেও দীর্ঘ যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে চায়। এই দ্বন্দ্বই আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। সামরিক হস্তক্ষেপ হলেও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের নিশ্চয়তা নেই; বরং আরও কঠোর শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

সমঝোতার সীমা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধে ইরানের অনাগ্রহ এবং সীমিত মাত্রায় সমৃদ্ধকরণে সম্ভাব্য সম্মতি নতুন সমঝোতার পথ খুলতে পারে। তবে আগের চুক্তির মতো কাঠামো ফিরে এলে সেটিকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা কঠিন হবে। ফলে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও ভাঙনের ঝুঁকি সমানভাবে রয়ে গেছে।