পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে একটি শিয়া মসজিদে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং আরও ১৬৯ জন আহত হওয়ার ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জঙ্গি দমনে কিছু সাফল্য দেখালেও এই হামলা প্রমাণ করেছে যে হুমকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
নিরাপত্তা অগ্রগতির ভঙ্গুর বাস্তবতা
পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় বহু ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট জঙ্গিকে গ্রেপ্তার, কারাবন্দি বা হত্যা করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে প্রশংসা ও পেয়েছে। কিন্তু রাজধানীর কাছে এমন বড় হামলা দেখিয়ে দিয়েছে যে নিরাপত্তা অগ্রগতি এখনও ভঙ্গুর। গত তিন মাসের মধ্যে ইসলামাবাদে এটি দ্বিতীয় বড় আক্রমণ, যা শহরাঞ্চলে জঙ্গি সহিংসতা ফিরে আসার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
কঠিন হয়ে উঠছে জঙ্গি শনাক্তকরণ
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামিক স্টেট ছোট ছোট গোপন কোষে কাজ করে এবং সম্ভাব্য নতুন সদস্য খুঁজে নিয়ে দ্রুত হামলা চালাতে পারে। এ কারণেই তাদের গতিবিধি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং আকস্মিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ও সংগঠনটির হামলা বেড়েছে, যা তাদের বৈশ্বিক সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শোক, আতঙ্ক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কা
বিস্ফোরণের পরদিন নিহতদের জানাজায় শত শত মানুষ জড়ো হন। কফিনে মোড়ানো স্বজনদের দেখে স্বজনহারাদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠীর শিয়া মসজিদে হামলা নতুন করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল চেকপোস্ট ও ব্যারিকেড স্থাপন নিরাপত্তার স্থায়ী সমাধান নয়; বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
তদন্ত, গ্রেপ্তার ও সীমান্ত রাজনীতি
কর্তৃপক্ষ হামলাকারীকে ২৬ বছর বয়সী এক পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন। হামলায় সহায়তার অভিযোগে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আফগানিস্তান ভিত্তিক ইসলামিক স্টেটের শাখাকে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা বড় হুমকি হিসেবে দেখলেও তালেবান সরকার দাবি করছে তারা সংগঠনটিকে অনেকটাই নির্মূল করেছে। এ নিয়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পরস্পরকে দোষারোপ করছে।
অর্থনীতি ও বিনিয়োগে প্রভাবের শঙ্কা
নতুন সহিংসতা পাকিস্তানের দুর্বল অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টাকেও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ভিত্তিক বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চললেও নিরাপত্তা অস্থিরতা বিদেশি প্রতিনিধিদলের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তান সহ সম্পদ সমৃদ্ধ এলাকায় ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















