০৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আর নেই শহর শুধু ঘুমানোর জায়গা নয়: মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কেন্দ্র করেই নগর পরিকল্পনা হওয়া উচিত মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ, বাধ্যতামূলক হচ্ছে বয়স যাচাই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ, শপথ নিলেন ৩৫ নতুন মন্ত্রী কোরিয়ার অর্থনৈতিক সাফল্যের আড়ালে বাড়ছে বৈষম্যের নতুন রেখা পাকিস্তানে কৌশলগত তেল মজুতের পরিকল্পনা, ইরান সংকটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্যোগ পাকিস্তানের ব্যাংক জাতীয়করণের অন্যতম কারণ ছিল বাংলাদেশ সৃষ্টির ফলে সম্পদের উৎস হারানো কুয়েতে ইরানের হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের চট্টগ্রামের হোটেলে রহস্যজনক মৃত্যু, কক্ষে মিলল দম্পতির মরদেহ

ভোটের কাউন্টডাউন: মঙ্গলবার সকালে শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচার

  • ইউএনবি
  • ০৮:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 57

১৯ দিন ধরে সমাবেশ, ইশতেহার ঘোষণা ও জোরালো প্রচারণার পর বাংলাদেশের নির্বাচনী ম্যারাথন মঙ্গলবার সকালে শেষ হতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবারের সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি থাকতে রাজনৈতিক উত্তেজনা চূড়ায় পৌঁছেছে, যা উচ্চঝুঁকির গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার শেষ পর্বকে নির্দেশ করছে।

রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি ২০২৫ অনুযায়ী সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের তিন সপ্তাহ আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কেউ কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না এবং ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা শেষ করতে হবে।

এর আগে প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়।

বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।

দেশের ২৯৯টি আসনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করায় ৩০০টির পরিবর্তে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে।

যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে তিন দিন সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে বলে ২৭ জানুয়ারি জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচন দিবসে ট্রাক, মাইক্রোবাস, ট্যাক্সিক্যাব ও মোটরসাইকেল—এই চার ধরনের যানবাহন ২৪ ঘণ্টা চলাচল করতে পারবে না।

একই সঙ্গে ভোটের দিন নৌযান চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

কোনো প্রার্থী বা সমর্থক ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন বা প্রচার চালাতে পারবেন না।

ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য কোনো যানবাহন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন

১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট ও সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সাত দিনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সংস্থার প্রায় ১০ লাখ সদস্য সারা দেশে মোতায়েন রয়েছে।

এ ছাড়া ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনের জন্য আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও শাস্তি নিশ্চিত করতে ১,০৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচনী দায়িত্বে মোট ৯,৭০,৯৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।

এদের মধ্যে রয়েছেন ১,০০,০০৩ জন সেনাসদস্য, ৫,০০০ জন নৌবাহিনী সদস্য, ৩,৭৩০ জন বিমানবাহিনী সদস্য, ৩৭,৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য, ৩,৫৮৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ১,৮৭,৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, ৯,৩৪৯ জন র‍্যাব সদস্য, ৫,৭৬,৪৮৩ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য, ১,৯২২ জন বিএনসিসি ক্যাডেট এবং ৪৫,৮২০ জন চৌকিদার ও দফাদার।

সরকারি এক সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‍্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন নির্বাচনী এলাকায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

বিজিবি, র‍্যাব, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে কাজ করবে এবং কোস্টগার্ড উপকূলীয় এলাকায় মোতায়েন থাকবে।

মহানগর এলাকার বাইরে প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৭ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

মহানগর এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন থাকবে।

২৫ জেলার দুর্গম এলাকায় প্রতিটি কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

ডাকযোগে ১০ লাখের বেশি ভোট

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো ১২০টির বেশি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি-সমর্থিত হাইব্রিড ডাক ভোটিং পদ্ধতি চালু করেছে, যেখানে ডিজিটাল নিবন্ধন ও ম্যানুয়াল ভোট একত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই ডাক ভোটিং পদ্ধতি দেশের ভেতরে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং আইনগত হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন।

সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ডাকযোগে মোট ১০,৩১,২৬৯ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে ৫,১১,৭৫৭ জন প্রবাসী।

ডাক ভোটের জন্য মোট নিবন্ধিত ভোটার ১৫,২৮,১৩১ জন। এর মধ্যে বিদেশে ভোটদান কর্মসূচির আওতায় ৭,৬৭,২৩৩ জন প্রবাসী এবং দেশের ভেতরের ডাক ভোট কর্মসূচিতে ৭,৬০,৮৯৮ জন সরকারি কর্মকর্তা, ভোটকর্মী ও বন্দি রয়েছেন।

এই নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২,৭২,৯৮,৫২২ জন। এর মধ্যে ৬,৪৬,২০,০৭৭ জন পুরুষ, ৬,২৬,৭৭,২৩২ জন নারী এবং ১,২১৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার।

৩০০টি আসন মিলিয়ে মোট ভোটার ১২,৭৭,১১,৮৯৯ জন—এর মধ্যে ৬,৪৮,২৫,১৫৪ জন পুরুষ, ৬,২৮,৮৫,৫২৫ জন নারী এবং ১,২২০ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার।

বৃহস্পতিবার ২৯৯টি আসনের ৪২,৬০০টির বেশি ভোটকেন্দ্রে প্রায় আট লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন এবং কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন আরও প্রায় আট লাখ নিরাপত্তা সদস্য।

এদিকে ৮০টি নিবন্ধিত দেশীয় সংস্থার প্রায় ৫০ হাজার পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচনের ওপর নজর রাখবেন।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ সংক্রান্ত গণভোট একসঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আয়োজনের তফসিল ঘোষণা করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আর নেই

ভোটের কাউন্টডাউন: মঙ্গলবার সকালে শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচার

০৮:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১৯ দিন ধরে সমাবেশ, ইশতেহার ঘোষণা ও জোরালো প্রচারণার পর বাংলাদেশের নির্বাচনী ম্যারাথন মঙ্গলবার সকালে শেষ হতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবারের সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি থাকতে রাজনৈতিক উত্তেজনা চূড়ায় পৌঁছেছে, যা উচ্চঝুঁকির গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার শেষ পর্বকে নির্দেশ করছে।

রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি ২০২৫ অনুযায়ী সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের তিন সপ্তাহ আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কেউ কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না এবং ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা শেষ করতে হবে।

এর আগে প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়।

বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।

দেশের ২৯৯টি আসনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করায় ৩০০টির পরিবর্তে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে।

যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে তিন দিন সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে বলে ২৭ জানুয়ারি জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচন দিবসে ট্রাক, মাইক্রোবাস, ট্যাক্সিক্যাব ও মোটরসাইকেল—এই চার ধরনের যানবাহন ২৪ ঘণ্টা চলাচল করতে পারবে না।

একই সঙ্গে ভোটের দিন নৌযান চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

কোনো প্রার্থী বা সমর্থক ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন বা প্রচার চালাতে পারবেন না।

ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য কোনো যানবাহন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন

১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট ও সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সাত দিনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সংস্থার প্রায় ১০ লাখ সদস্য সারা দেশে মোতায়েন রয়েছে।

এ ছাড়া ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনের জন্য আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও শাস্তি নিশ্চিত করতে ১,০৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচনী দায়িত্বে মোট ৯,৭০,৯৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।

এদের মধ্যে রয়েছেন ১,০০,০০৩ জন সেনাসদস্য, ৫,০০০ জন নৌবাহিনী সদস্য, ৩,৭৩০ জন বিমানবাহিনী সদস্য, ৩৭,৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য, ৩,৫৮৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ১,৮৭,৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, ৯,৩৪৯ জন র‍্যাব সদস্য, ৫,৭৬,৪৮৩ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য, ১,৯২২ জন বিএনসিসি ক্যাডেট এবং ৪৫,৮২০ জন চৌকিদার ও দফাদার।

সরকারি এক সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‍্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন নির্বাচনী এলাকায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

বিজিবি, র‍্যাব, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে কাজ করবে এবং কোস্টগার্ড উপকূলীয় এলাকায় মোতায়েন থাকবে।

মহানগর এলাকার বাইরে প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৭ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

মহানগর এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন থাকবে।

২৫ জেলার দুর্গম এলাকায় প্রতিটি কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

ডাকযোগে ১০ লাখের বেশি ভোট

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো ১২০টির বেশি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি-সমর্থিত হাইব্রিড ডাক ভোটিং পদ্ধতি চালু করেছে, যেখানে ডিজিটাল নিবন্ধন ও ম্যানুয়াল ভোট একত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই ডাক ভোটিং পদ্ধতি দেশের ভেতরে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং আইনগত হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন।

সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ডাকযোগে মোট ১০,৩১,২৬৯ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে ৫,১১,৭৫৭ জন প্রবাসী।

ডাক ভোটের জন্য মোট নিবন্ধিত ভোটার ১৫,২৮,১৩১ জন। এর মধ্যে বিদেশে ভোটদান কর্মসূচির আওতায় ৭,৬৭,২৩৩ জন প্রবাসী এবং দেশের ভেতরের ডাক ভোট কর্মসূচিতে ৭,৬০,৮৯৮ জন সরকারি কর্মকর্তা, ভোটকর্মী ও বন্দি রয়েছেন।

এই নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২,৭২,৯৮,৫২২ জন। এর মধ্যে ৬,৪৬,২০,০৭৭ জন পুরুষ, ৬,২৬,৭৭,২৩২ জন নারী এবং ১,২১৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার।

৩০০টি আসন মিলিয়ে মোট ভোটার ১২,৭৭,১১,৮৯৯ জন—এর মধ্যে ৬,৪৮,২৫,১৫৪ জন পুরুষ, ৬,২৮,৮৫,৫২৫ জন নারী এবং ১,২২০ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার।

বৃহস্পতিবার ২৯৯টি আসনের ৪২,৬০০টির বেশি ভোটকেন্দ্রে প্রায় আট লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন এবং কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন আরও প্রায় আট লাখ নিরাপত্তা সদস্য।

এদিকে ৮০টি নিবন্ধিত দেশীয় সংস্থার প্রায় ৫০ হাজার পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচনের ওপর নজর রাখবেন।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ সংক্রান্ত গণভোট একসঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আয়োজনের তফসিল ঘোষণা করে।