১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
এআই একচেটিয়া হতে পারে না, বিশ্বজুড়ে সহযোগিতার আহ্বান শি জিনপিংয়ের এফবিআইর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার গ্যাং সদস্য নিতিশ কৌশল যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১৯% কমেছে, দামে ও পরিমাণে একসঙ্গে ধাক্কা বিশ্বকাপের শেষ বাঁশির পর: ফুটবল যে আয়নায় আমেরিকা ও বিশ্বের ভবিষ্যৎ দেখা গেল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষত ও অনশনের আর্তনাদ: আমরা কবে শুনব ক্ষুধার ভাষা? শুধু শ্রদ্ধা নয়, শহীদ সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রের প্রকৃত দায়িত্ব এখনই পালন করতে হবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিলে বিশেষ সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফের সতর্কবার্তা: প্রবৃদ্ধি ৩.৫%, মধ্যমেয়াদে ৩ শতাংশের নিচে নামার শঙ্কা বাগেরহাটে ঘরে মিলল দম্পতির মরদেহ, পাশে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার দেড় মাসের শিশু বিশ্বকাপের পরাজয়ের যন্ত্রণা নয়, অনুভূতিহীনতাই জীবনের সবচেয়ে বড় হার

ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১৯% কমেছে, দামে ও পরিমাণে একসঙ্গে ধাক্কা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে দেশটির পোশাক রপ্তানির মূল্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ৭২৮ কোটি ইউরোতে (প্রায় ৮.৩৩ বিলিয়ন ডলার) নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইইউর প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় পতন।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহিউদ্দিন রুবেল বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ‘দ্বৈত দুর্বলতার’ মুখোমুখি। অর্থাৎ, একই সঙ্গে রপ্তানির পরিমাণ এবং প্রতি ইউনিটের দাম—দুই ক্ষেত্রেই দেশটি পিছিয়ে পড়ছে।

রপ্তানির পরিমাণ ও দামে একসঙ্গে পতন

তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-মে সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ১০ দশমিক ৪৬ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে প্রতি ইউনিট পণ্যের গড় দাম কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই দুই সূচকের পতনই বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

শুধু মে মাসের চিত্রও উদ্বেগজনক। ওই মাসে রপ্তানি মূল্য ১৭ দশমিক ১২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং ইউনিট মূল্য কমেছে ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।

ইইউ বাজারেও কমেছে পোশাকের চাহিদা

বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি এমন সময়ে এসেছে, যখন ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানিও কমেছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইইউর মোট পোশাক আমদানি ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ৩৩.৮৪ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩৭.৫৮ বিলিয়ন ইউরো।

বিশ্বব্যাপী এই পতনের পেছনে রপ্তানির পরিমাণ ৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং ইউনিট মূল্য ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে যাওয়া ভূমিকা রেখেছে। অর্থাৎ, ভোক্তা চাহিদা হ্রাস এবং কম দামে বিক্রি—দুই কারণই বাজারকে প্রভাবিত করেছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর ভিন্ন কৌশল

বাংলাদেশ যখন একই সঙ্গে পরিমাণ ও দামে পিছিয়ে পড়ছে, তখন অন্যান্য বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো ভিন্ন কৌশলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেছে।

সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী চীনের রপ্তানি মূল্য কমেছে মাত্র ৪ দশমিক ২০ শতাংশ। তবে দেশটি ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি পণ্য সরবরাহ করে বাজারে অংশীদারিত্ব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যদিও এজন্য গড় মূল্য ৬ দশমিক ০৫ শতাংশ কমাতে হয়েছে।

ভিয়েতনাম সবচেয়ে স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। দেশটির রপ্তানি মূল্য কমেছে মাত্র ১ দশমিক ৫১ শতাংশ। যদিও রপ্তানির পরিমাণ ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ কমেছে, তবে ইউনিট মূল্য ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ বাড়িয়ে তারা রপ্তানি আয় তুলনামূলকভাবে ধরে রাখতে পেরেছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের রপ্তানি মূল্য ১৭ দশমিক ০১ শতাংশ কমেছে। যদিও দেশটির রপ্তানির পরিমাণ ৩ শতাংশ বেড়েছে, তবুও ইউনিট মূল্য ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে যাওয়ায় আয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে।

ভারতের রপ্তানি মূল্য ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমেছে। তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার ক্ষেত্রে মূলত রপ্তানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় পতন ঘটেছে, যদিও দুই দেশই ইউনিট মূল্য কিছুটা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। আর ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, ২৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে।

কাঠামোগত সংকটের ইঙ্গিত

মোহিউদ্দিন রুবেলের মতে, এপ্রিলের পর মে মাসেও একই ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকায় এটি সাময়িক নয়, বরং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে একই সঙ্গে রপ্তানির পরিমাণ এবং ইউনিট মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই এত বড় মাত্রায় পতন দেখা যাচ্ছে।

ইইউতে জানুয়ারি-মে সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৮.৮৯ শতাংশ কমেছে। রপ্তানির পরিমাণ ও ইউনিট মূল্য একসঙ্গে কমে যাওয়াকে শিল্পের কাঠামোগত সংকটের ইঙ্গিত বলছেন বিশ্লেষক।

#বাংলাদেশ #পোশাকশিল্প #রপ্তানি #ইইউ #গার্মেন্টস #অর্থনীতি #ব্যবসা #ইউরোপীয়ইউনিয়ন #Bangladesh #RMG

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই একচেটিয়া হতে পারে না, বিশ্বজুড়ে সহযোগিতার আহ্বান শি জিনপিংয়ের

ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১৯% কমেছে, দামে ও পরিমাণে একসঙ্গে ধাক্কা

১০:০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে দেশটির পোশাক রপ্তানির মূল্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ৭২৮ কোটি ইউরোতে (প্রায় ৮.৩৩ বিলিয়ন ডলার) নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইইউর প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় পতন।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহিউদ্দিন রুবেল বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ‘দ্বৈত দুর্বলতার’ মুখোমুখি। অর্থাৎ, একই সঙ্গে রপ্তানির পরিমাণ এবং প্রতি ইউনিটের দাম—দুই ক্ষেত্রেই দেশটি পিছিয়ে পড়ছে।

রপ্তানির পরিমাণ ও দামে একসঙ্গে পতন

তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-মে সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ১০ দশমিক ৪৬ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে প্রতি ইউনিট পণ্যের গড় দাম কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই দুই সূচকের পতনই বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

শুধু মে মাসের চিত্রও উদ্বেগজনক। ওই মাসে রপ্তানি মূল্য ১৭ দশমিক ১২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং ইউনিট মূল্য কমেছে ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।

ইইউ বাজারেও কমেছে পোশাকের চাহিদা

বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি এমন সময়ে এসেছে, যখন ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানিও কমেছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইইউর মোট পোশাক আমদানি ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ৩৩.৮৪ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩৭.৫৮ বিলিয়ন ইউরো।

বিশ্বব্যাপী এই পতনের পেছনে রপ্তানির পরিমাণ ৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং ইউনিট মূল্য ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে যাওয়া ভূমিকা রেখেছে। অর্থাৎ, ভোক্তা চাহিদা হ্রাস এবং কম দামে বিক্রি—দুই কারণই বাজারকে প্রভাবিত করেছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর ভিন্ন কৌশল

বাংলাদেশ যখন একই সঙ্গে পরিমাণ ও দামে পিছিয়ে পড়ছে, তখন অন্যান্য বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো ভিন্ন কৌশলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেছে।

সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী চীনের রপ্তানি মূল্য কমেছে মাত্র ৪ দশমিক ২০ শতাংশ। তবে দেশটি ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি পণ্য সরবরাহ করে বাজারে অংশীদারিত্ব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যদিও এজন্য গড় মূল্য ৬ দশমিক ০৫ শতাংশ কমাতে হয়েছে।

ভিয়েতনাম সবচেয়ে স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। দেশটির রপ্তানি মূল্য কমেছে মাত্র ১ দশমিক ৫১ শতাংশ। যদিও রপ্তানির পরিমাণ ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ কমেছে, তবে ইউনিট মূল্য ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ বাড়িয়ে তারা রপ্তানি আয় তুলনামূলকভাবে ধরে রাখতে পেরেছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের রপ্তানি মূল্য ১৭ দশমিক ০১ শতাংশ কমেছে। যদিও দেশটির রপ্তানির পরিমাণ ৩ শতাংশ বেড়েছে, তবুও ইউনিট মূল্য ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে যাওয়ায় আয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে।

ভারতের রপ্তানি মূল্য ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমেছে। তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার ক্ষেত্রে মূলত রপ্তানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় পতন ঘটেছে, যদিও দুই দেশই ইউনিট মূল্য কিছুটা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। আর ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, ২৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে।

কাঠামোগত সংকটের ইঙ্গিত

মোহিউদ্দিন রুবেলের মতে, এপ্রিলের পর মে মাসেও একই ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকায় এটি সাময়িক নয়, বরং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে একই সঙ্গে রপ্তানির পরিমাণ এবং ইউনিট মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই এত বড় মাত্রায় পতন দেখা যাচ্ছে।

ইইউতে জানুয়ারি-মে সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৮.৮৯ শতাংশ কমেছে। রপ্তানির পরিমাণ ও ইউনিট মূল্য একসঙ্গে কমে যাওয়াকে শিল্পের কাঠামোগত সংকটের ইঙ্গিত বলছেন বিশ্লেষক।

#বাংলাদেশ #পোশাকশিল্প #রপ্তানি #ইইউ #গার্মেন্টস #অর্থনীতি #ব্যবসা #ইউরোপীয়ইউনিয়ন #Bangladesh #RMG