চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোনো এক দেশের একক আধিপত্যের ক্ষেত্র হতে পারে না। এআই উন্নয়নকে তিনি বৈশ্বিক সহযোগিতার একটি “সিম্ফনি” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন উন্মুক্ত সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক ঐকমত্য এবং মানবিক প্রজ্ঞার সমন্বয়।
শুক্রবার সাংহাইয়ে ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স (WAIC)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে শি এসব মন্তব্য করেন। চীনের সবচেয়ে বড় বার্ষিক এআই সম্মেলনে তার সরাসরি উপস্থিতি এ খাতকে দেশটির প্রযুক্তিগত ও ভূরাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্র উন্নত সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি এবং শীর্ষস্থানীয় এআই মডেলে বিদেশি প্রবেশাধিকার সীমিত করার নীতি বজায় রাখার মধ্যে চীন প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে।
সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, এনভিডিয়ার উন্নত H200 চিপ খুব সীমিত পরিমাণে চীনে পৌঁছেছে। যদিও গত ডিসেম্বর থেকে কিছু ক্ষেত্রে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা হয়েছে, তবুও উন্নত এআই প্রসেসরের সরবরাহ অত্যন্ত কম রয়েছে।

উন্মুক্ততা ও সহযোগিতার ওপর জোর
শি জিনপিং বলেন, এআই উন্নয়নে “উন্মুক্ততা” এবং “পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা” অনুসরণ করা জরুরি। তিনি ওপেন-সোর্স প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
তার ভাষায়, বর্তমান বিশ্ব এআই প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব উদ্ভাবনের যুগে প্রবেশ করেছে। এই অগ্রগতি যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি শাসনব্যবস্থা ও নীতিনির্ধারণের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসছে।
নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত এআই
চীনা প্রেসিডেন্ট এআই উন্নয়নে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রযুক্তিটি অবশ্যই “নিরাপদ এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য” হতে হবে। এজন্য সময়োপযোগী আইন, বিধিমালা এবং আগাম নজরদারি ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এআই যেন মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য এবং মানুষের প্রজ্ঞা অপরিহার্য।
জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা
শি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরিক্ত বিস্তৃত করা উচিত নয়। একই সঙ্গে কোনো একটি দেশের নিরাপত্তাকে অন্য দেশের স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার প্রবণতারও বিরোধিতা করেন তিনি।
তার মতে, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে প্রযুক্তি খাতে নতুন ধরনের বৈষম্য ও অন্যায়ের জন্ম দিতে পারে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ৫ হাজার গবেষণা প্রকল্প
এআই খাতে বৈশ্বিক সক্ষমতা বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ৫ হাজার গবেষণা প্রকল্প, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সেমিনার এবং সহযোগিতা কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণা দেন শি জিনপিং।
তিনি জানান, এই উদ্যোগের আওতায় আসিয়ান, আরব লীগ, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, আফ্রিকান ইউনিয়ন, লাতিন আমেরিকার দেশগুলো এবং ব্রিকস সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সাংহাইয়ে প্রতিষ্ঠিত নতুন ওয়ার্ল্ড এআই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে ইতোমধ্যে ২৯টি দেশ যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়াও রয়েছে।
চীনের এআই অর্থনীতির অগ্রগতি
শি বলেন, চীন একটি দায়িত্বশীল বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক এআই খাতে “পাবলিক গুডস” বা বৈশ্বিক জনকল্যাণমূলক অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তার তথ্য অনুযায়ী, চীনের মূল স্মার্ট অর্থনীতি-সম্পর্কিত শিল্পগুলোর আকার ইতোমধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের বেশি হয়েছে। ২০২৬ সালে দেশটির ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সূচনা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভাষণের শেষাংশে শি জিনপিং বলেন, চীন আরও উন্মুক্তভাবে এবং বাস্তবধর্মী পদক্ষেপের মাধ্যমে সব দেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এআইয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মানবজাতির জন্য আরও উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
#শি_জিনপিং #চীন #কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা #AI #WAIC #ArtificialIntelligence #China #Technology #OpenSource #GlobalCooperation
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















