চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের প্রভাবে জাপানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) সংগ্রহের ব্যয় গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি বেসরকারি জরিপে দেখা গেছে, এই সময়ে জাপানি কোম্পানিগুলোর গড় সংগ্রহ ব্যয় ২২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠান বাড়তি ব্যয় গ্রাহকের ওপর পুরোপুরি চাপিয়ে দিতে পারছে না, ফলে তাদের মুনাফার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।
জাপানভিত্তিক সরবরাহ শৃঙ্খল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান রেজিলাইর (Resilire) জুন মাসে বিরল খনিজ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ সংগ্রহকারী ৪০০টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি অনলাইন জরিপ পরিচালনা করে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ওই জরিপে ব্যয় বৃদ্ধির এই চিত্র উঠে এসেছে।
ব্যয় বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ধাক্কা
জরিপে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ জানিয়েছে, গত এক বছরে তাদের বিরল খনিজ সংগ্রহ ব্যয় ২০ থেকে ২৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বলেছে, ব্যয় বেড়েছে ১০ থেকে ১৯ শতাংশ। এছাড়া ১০ শতাংশেরও বেশি উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাদের ব্যয় ৩০ থেকে ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সব মিলিয়ে গড় ব্যয় বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২২.৩ শতাংশ, যা উৎপাদন খাতে কাঁচামালের ব্যয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপের ইঙ্গিত দেয়।
বাড়তি ব্যয় গ্রাহকের ওপর চাপানো কঠিন
জরিপে আরও দেখা যায়, যেসব প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহ ব্যয় বেড়েছে, তাদের মধ্যে মাত্র ৪.২ শতাংশ প্রায় পুরো অতিরিক্ত ব্যয় পণ্যের দামে সমন্বয় করতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে প্রায় ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা বাড়তি ব্যয়ের কোনো অংশই গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দিতে পারেনি। যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যয়ের ২৫ শতাংশের কম বা ২৫ থেকে ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত সমন্বয় করতে পেরেছে, সেগুলো যোগ করলে দেখা যায়, ৪০ শতাংশেরও বেশি কোম্পানি অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্ধেকেরও কম পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে।
চীনের ওপর নির্ভরতা এখনো বেশি
জরিপ অনুযায়ী, জাপানি কোম্পানিগুলোর আমদানি করা বিরল খনিজের গড়ে ৬১ শতাংশই আসে চীন থেকে। ফলে চীনের নীতিগত পরিবর্তন বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সরাসরি জাপানের শিল্প খাতকে প্রভাবিত করছে।
রেজিলাইরের এক কর্মকর্তা বলেন, ২০২৫ সালে চীনের আরোপিত রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিরল খনিজের দামের ওপর অতিরিক্ত ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিকল্প উৎসের পরামর্শ
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করা, পর্যাপ্ত মজুত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং পুনর্ব্যবহৃত বিরল খনিজ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে পারলে সরবরাহ ঝুঁকি ও ব্যয় বৃদ্ধির চাপ উভয়ই কমানো সম্ভব হবে।
চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের প্রভাবে জাপানি কোম্পানির বিরল খনিজ সংগ্রহ ব্যয় গড়ে ২২.৩ শতাংশ বেড়েছে। জরিপে উঠে এসেছে ব্যয় সমন্বয় ও সরবরাহ নির্ভরতার নতুন চ্যালেঞ্জ।
#জাপান #চীন #রেয়ারআর্থ #বিরলখনিজ #রপ্তানিনিয়ন্ত্রণ #সরবরাহশৃঙ্খল #শিল্পখাত #বৈদ্যুতিকযান #নবায়নযোগ্যজ্বালানি #বিশ্বঅর্থনীতি
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















