লন্ডন: জনপ্রিয় অপরাধভিত্তিক ধারাবাহিক ‘ক্রস’-এর নতুন মৌসুমে আবারও ফিরে আসছেন গোয়েন্দা ও ফরেনসিক মনোবিজ্ঞানী অ্যালেক্স ক্রস চরিত্রে আলডিস হজ। ওয়াশিংটন নগরীতে জটিল হত্যাকাণ্ডের অনুসন্ধানের পাশাপাশি এবার গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এমন এক সহিংস প্রতিশোধপরায়ণ চরিত্র, যে ধনী ও প্রভাবশালী নির্যাতনকারীদের লক্ষ্য করে আঘাত হানে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত আলোচিত নথিপত্রের সঙ্গে কাহিনির কিছু মিল থাকলেও নির্মাণের সময় এসব ঘটনা সামনে আসেনি বলে জানান অভিনেতা। তার আশা, এই গল্প দর্শকদের চোখ খুলে দিতে সাহায্য করবে এবং বাস্তব পরিবর্তনের কথা ও ভাবাবে।
প্রথম মৌসুমের অপ্রত্যাশিত সাফল্য
প্রথম মৌসুমের সাড়া নিয়ে বিস্ময় লুকাননি আলডিস হজ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক দর্শকের উষ্ণ প্রতিক্রিয়া তাকে অবাক করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লন্ডন ও প্যারিসে অবস্থানের সময় তিনি দেখেছেন, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষও সমান আগ্রহে এই গল্প গ্রহণ করেছে। তার মতে, সঠিক গল্প বলার শক্তিই সীমান্ত পেরিয়ে দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছে যেতে পারে।
পুলিশ পরিচয় ও বাস্তবতার সংলাপ
একজন কৃষ্ণাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরার বিষয়টি নিয়ে ও আলোচনা হয়েছে ব্যাপক। হজ বলেন, অনেক পুলিশ সদস্যই সৎ উদ্দেশ্যে দায়িত্ব পালন করতে চান এবং ব্যবস্থার ভেতরের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ও খোলামেলা কথা বলেন। প্যারিসে এক ফরাসি পুলিশ কর্মকর্তার মুখে ‘ক্রস’ নামটি শুনে তিনি যেমন বিস্মিত হয়েছেন, তেমনি অনুভব করেছেন এই গল্প বাস্তব সংলাপের দরজা খুলে দিচ্ছে।

শুটিংয়ের স্মৃতি ও সহকর্মীদের বন্ধন
ধারাবাহিকটির শুটিংয়ের স্মৃতিতে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে আছে সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্তগুলো। সেটে নিজেদের ছোট্ট বই পাঠের আড্ডা, প্রশিক্ষণ, একসঙ্গে খাবার—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর বন্ধন। পারস্পরিক সমর্থনই কাজটিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে বলে মনে করেন তিনি।
অ্যাকশন দৃশ্যের প্রস্তুতি ও ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণা
দৌড়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে অভিনেতা জানান, তার মা একসময় প্রতিযোগিতামূলক দৌড়বিদ ও প্রশিক্ষক ছিলেন। তাই মাকে গর্বিত করার তাগিদও কাজ করেছে প্রস্তুতিতে। একাধিকবার দৌড়ের দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে শরীরের সীমাবদ্ধতার কথা ও টের পেয়েছেন, যা তাকে বয়সের বাস্তবতার কথাই মনে করিয়ে দেয়।
ভালোবাসা দিবসের আবহে মুক্তি
ভালোবাসা দিবসের সময় নতুন মৌসুম আসায় দর্শক জুটিদের জন্য এটিকে উপভোগ্য অভিজ্ঞতা বলেই মনে করেন হজ। অনেক দর্শক একসঙ্গে দেখার পরিকল্পনা করলেও আগেই পর্ব দেখে ফেলার কারণে ছোটখাটো অভিমান তৈরি হওয়ার গল্পও শুনেছেন তিনি। তার বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত এই গল্প মানুষকে কাছেই টেনে আনে।
চল্লিশে পা রাখার ভাবনা
চল্লিশ বছরে পা রাখা নিয়ে অভিনেতার সবচেয়ে বড় চাওয়া খুব সাধারণ—সুস্থ শরীর। বিশেষ করে হাঁটু ও পিঠ যেন ভালো থাকে, যাতে ছোট সন্তানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন। জীবনের এই পর্যায়ে পরিবারের সঙ্গেই সুখ খুঁজে পাওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















