১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
জাপানি কোম্পানির বিরল খনিজ আমদানি ব্যয় ২২% বেড়েছে, চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে চাপ এআই একচেটিয়া হতে পারে না, বিশ্বজুড়ে সহযোগিতার আহ্বান শি জিনপিংয়ের এফবিআইর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার গ্যাং সদস্য নিতিশ কৌশল যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১৯% কমেছে, দামে ও পরিমাণে একসঙ্গে ধাক্কা বিশ্বকাপের শেষ বাঁশির পর: ফুটবল যে আয়নায় আমেরিকা ও বিশ্বের ভবিষ্যৎ দেখা গেল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষত ও অনশনের আর্তনাদ: আমরা কবে শুনব ক্ষুধার ভাষা? শুধু শ্রদ্ধা নয়, শহীদ সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রের প্রকৃত দায়িত্ব এখনই পালন করতে হবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিলে বিশেষ সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফের সতর্কবার্তা: প্রবৃদ্ধি ৩.৫%, মধ্যমেয়াদে ৩ শতাংশের নিচে নামার শঙ্কা বাগেরহাটে ঘরে মিলল দম্পতির মরদেহ, পাশে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার দেড় মাসের শিশু

আকাশ জুড়ে রঙের প্রত্যাবর্তন, দীর্ঘ বিরতির পর লাহোরে ফিরল বসন্তের উচ্ছ্বাস

প্রায় দুই দশকের নীরবতার পর আবারও রঙে ভরে উঠেছে লাহোরের আকাশ। ছাদে ছাদে মানুষের ভিড়, হাসির শব্দ আর উড়ন্ত ঘুড়ির প্রতিযোগিতায় ফিরে এসেছে বহু প্রতীক্ষিত বসন্ত উৎসব। ফেব্রুয়ারির ছয় থেকে আট তারিখ পর্যন্ত বিশেষ আয়োজন ঘিরে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে আনন্দের আবহ, যেন স্মৃতির ভাঁজে লুকিয়ে থাকা এক পুরোনো সময় আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

উৎসবের আবেগে ফিরল শহরের প্রাণ

বসন্ত কেবল ঘুড়ি ওড়ানোর আয়োজন নয়, এটি মানুষের ভেতরে বহন করা এক অনুভূতি। প্রতিবেশী থেকে পরিবার—সবাইকে এক ছাদের নিচে এনে দেয় এই উৎসব। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পাকিস্তানিরাও এই সময় দেশে ফেরেন, কারণ বসন্ত তাদের শৈশব, সম্পর্ক আর পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

শীতের বিকেলে ঠান্ডা আঙুলে সুতো ধরা, প্রতিদ্বন্দ্বী ঘুড়ি কেটে গেলে ছাদজুড়ে উল্লাস—এই অভিজ্ঞতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে থাকা এক সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। পুরোনো লাহোরে যেমন প্রতিটি শিশুই ঘুড়ি ওড়ানো শিখত স্বতঃস্ফূর্তভাবে, ঠিক তেমনই বসন্ত ছিল শহরের স্বাভাবিক ছন্দের অংশ।

Lahore Celebrates Basant: A Cultural Revival of Kite Flying and Community

নিষেধাজ্ঞার পরও হারায়নি সংস্কৃতির টান

উৎসব বন্ধ থাকলেও মানুষের হৃদয় থেকে বসন্ত মুছে যায়নি। নিষেধাজ্ঞা শুধু আকাশ থেকে ঘুড়ি সরায়নি, কেড়ে নিয়েছিল পারিবারিক মিলন, সামাজিক আনন্দ আর শহরের সম্মিলিত উদযাপন। বসন্ত এমন এক উৎসব, যা ধনী-গরিব, তরুণ-বৃদ্ধ কিংবা দেশি-প্রবাসী—সব বিভাজন ভুলিয়ে সবাইকে একই আকাশের দিকে তাকাতে শেখায়।

এই পুনরুজ্জীবন তাই রাজনৈতিক নয়, বরং আবেগের। দায়িত্বশীলভাবে সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শহরের পরিচয় পুনর্গঠনের পথ খুলে দিয়েছে।

রঙ, স্বাদ আর স্মৃতির মিলনমেলা

ঈদের মতোই আনন্দঘন এই উৎসব শহরকে রঙে রাঙিয়ে তোলে। রঙিন পোশাক, উড়ন্ত ওড়না, সেজে ওঠা বাজার আর ঘরে ঘরে তৈরি পাকোড়া, জিলাপি, গজক ও ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ—সব মিলিয়ে বসন্ত হয়ে ওঠে পূর্ণাঙ্গ আনন্দের নাম।

ঘুড়ি আবার আকাশে উঠতেই জেগে ওঠে স্মৃতি—বাবার কাছ থেকে শেখা প্রথম ঘুড়ি ওড়ানো, মায়ের সতর্ক ডাক, আর রঙিন মানুষের ভিড়ে জীবন্ত হয়ে ওঠা এক শহর। বসন্ত মনে করিয়ে দেয়, ঐতিহ্য কখনও মরে না; সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকে, তারপর আবার উড়ে যায় আকাশ ছুঁতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানি কোম্পানির বিরল খনিজ আমদানি ব্যয় ২২% বেড়েছে, চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে চাপ

আকাশ জুড়ে রঙের প্রত্যাবর্তন, দীর্ঘ বিরতির পর লাহোরে ফিরল বসন্তের উচ্ছ্বাস

০৪:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রায় দুই দশকের নীরবতার পর আবারও রঙে ভরে উঠেছে লাহোরের আকাশ। ছাদে ছাদে মানুষের ভিড়, হাসির শব্দ আর উড়ন্ত ঘুড়ির প্রতিযোগিতায় ফিরে এসেছে বহু প্রতীক্ষিত বসন্ত উৎসব। ফেব্রুয়ারির ছয় থেকে আট তারিখ পর্যন্ত বিশেষ আয়োজন ঘিরে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে আনন্দের আবহ, যেন স্মৃতির ভাঁজে লুকিয়ে থাকা এক পুরোনো সময় আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

উৎসবের আবেগে ফিরল শহরের প্রাণ

বসন্ত কেবল ঘুড়ি ওড়ানোর আয়োজন নয়, এটি মানুষের ভেতরে বহন করা এক অনুভূতি। প্রতিবেশী থেকে পরিবার—সবাইকে এক ছাদের নিচে এনে দেয় এই উৎসব। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পাকিস্তানিরাও এই সময় দেশে ফেরেন, কারণ বসন্ত তাদের শৈশব, সম্পর্ক আর পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

শীতের বিকেলে ঠান্ডা আঙুলে সুতো ধরা, প্রতিদ্বন্দ্বী ঘুড়ি কেটে গেলে ছাদজুড়ে উল্লাস—এই অভিজ্ঞতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে থাকা এক সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। পুরোনো লাহোরে যেমন প্রতিটি শিশুই ঘুড়ি ওড়ানো শিখত স্বতঃস্ফূর্তভাবে, ঠিক তেমনই বসন্ত ছিল শহরের স্বাভাবিক ছন্দের অংশ।

Lahore Celebrates Basant: A Cultural Revival of Kite Flying and Community

নিষেধাজ্ঞার পরও হারায়নি সংস্কৃতির টান

উৎসব বন্ধ থাকলেও মানুষের হৃদয় থেকে বসন্ত মুছে যায়নি। নিষেধাজ্ঞা শুধু আকাশ থেকে ঘুড়ি সরায়নি, কেড়ে নিয়েছিল পারিবারিক মিলন, সামাজিক আনন্দ আর শহরের সম্মিলিত উদযাপন। বসন্ত এমন এক উৎসব, যা ধনী-গরিব, তরুণ-বৃদ্ধ কিংবা দেশি-প্রবাসী—সব বিভাজন ভুলিয়ে সবাইকে একই আকাশের দিকে তাকাতে শেখায়।

এই পুনরুজ্জীবন তাই রাজনৈতিক নয়, বরং আবেগের। দায়িত্বশীলভাবে সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শহরের পরিচয় পুনর্গঠনের পথ খুলে দিয়েছে।

রঙ, স্বাদ আর স্মৃতির মিলনমেলা

ঈদের মতোই আনন্দঘন এই উৎসব শহরকে রঙে রাঙিয়ে তোলে। রঙিন পোশাক, উড়ন্ত ওড়না, সেজে ওঠা বাজার আর ঘরে ঘরে তৈরি পাকোড়া, জিলাপি, গজক ও ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ—সব মিলিয়ে বসন্ত হয়ে ওঠে পূর্ণাঙ্গ আনন্দের নাম।

ঘুড়ি আবার আকাশে উঠতেই জেগে ওঠে স্মৃতি—বাবার কাছ থেকে শেখা প্রথম ঘুড়ি ওড়ানো, মায়ের সতর্ক ডাক, আর রঙিন মানুষের ভিড়ে জীবন্ত হয়ে ওঠা এক শহর। বসন্ত মনে করিয়ে দেয়, ঐতিহ্য কখনও মরে না; সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকে, তারপর আবার উড়ে যায় আকাশ ছুঁতে।