১২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
চীনা-পাকিস্তানি পাঁচদফা পরিকল্পনা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসান ও শান্তি আলোচনার আহ্বান হরমুজ সঙ্কট: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজে হামলার সংখ্যা বেড়ে চলেছে ইউরোপের প্রতিরোধ: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি পরিকল্পনায় বাধা যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ দুই থেকে তিন সপ্তাহে শেষ হতে পারে — ট্রাম্পের দাবি উইলি ওয়ালশকে ইন্ডিগোর নতুন সিইও: আন্তর্জাতিক প্রসারে নতুন দিগন্ত হোন্ডার নতুন প্রযুক্তি রাস্তাঘাটে রূপান্তর করবে মরুভূমির বালি ভারতীয় জ্বালানি সহায়তায় দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিশালী সহযোগিতা বাড়ছে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি যুদ্ধ মোকাবিলায় শক্তিশালী অবস্থানে নাজিবের ১.৩ বিলিয়ন ডলার ফেরতের আদেশ: মালয়েশিয়ার আদালতের কঠোর রায় ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রিমোট ওয়ার্ক ও বায়োডিজেলের বিশাল পদক্ষেপ

আকাশ জুড়ে রঙের প্রত্যাবর্তন, দীর্ঘ বিরতির পর লাহোরে ফিরল বসন্তের উচ্ছ্বাস

প্রায় দুই দশকের নীরবতার পর আবারও রঙে ভরে উঠেছে লাহোরের আকাশ। ছাদে ছাদে মানুষের ভিড়, হাসির শব্দ আর উড়ন্ত ঘুড়ির প্রতিযোগিতায় ফিরে এসেছে বহু প্রতীক্ষিত বসন্ত উৎসব। ফেব্রুয়ারির ছয় থেকে আট তারিখ পর্যন্ত বিশেষ আয়োজন ঘিরে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে আনন্দের আবহ, যেন স্মৃতির ভাঁজে লুকিয়ে থাকা এক পুরোনো সময় আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

উৎসবের আবেগে ফিরল শহরের প্রাণ

বসন্ত কেবল ঘুড়ি ওড়ানোর আয়োজন নয়, এটি মানুষের ভেতরে বহন করা এক অনুভূতি। প্রতিবেশী থেকে পরিবার—সবাইকে এক ছাদের নিচে এনে দেয় এই উৎসব। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পাকিস্তানিরাও এই সময় দেশে ফেরেন, কারণ বসন্ত তাদের শৈশব, সম্পর্ক আর পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

শীতের বিকেলে ঠান্ডা আঙুলে সুতো ধরা, প্রতিদ্বন্দ্বী ঘুড়ি কেটে গেলে ছাদজুড়ে উল্লাস—এই অভিজ্ঞতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে থাকা এক সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। পুরোনো লাহোরে যেমন প্রতিটি শিশুই ঘুড়ি ওড়ানো শিখত স্বতঃস্ফূর্তভাবে, ঠিক তেমনই বসন্ত ছিল শহরের স্বাভাবিক ছন্দের অংশ।

Lahore Celebrates Basant: A Cultural Revival of Kite Flying and Community

নিষেধাজ্ঞার পরও হারায়নি সংস্কৃতির টান

উৎসব বন্ধ থাকলেও মানুষের হৃদয় থেকে বসন্ত মুছে যায়নি। নিষেধাজ্ঞা শুধু আকাশ থেকে ঘুড়ি সরায়নি, কেড়ে নিয়েছিল পারিবারিক মিলন, সামাজিক আনন্দ আর শহরের সম্মিলিত উদযাপন। বসন্ত এমন এক উৎসব, যা ধনী-গরিব, তরুণ-বৃদ্ধ কিংবা দেশি-প্রবাসী—সব বিভাজন ভুলিয়ে সবাইকে একই আকাশের দিকে তাকাতে শেখায়।

এই পুনরুজ্জীবন তাই রাজনৈতিক নয়, বরং আবেগের। দায়িত্বশীলভাবে সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শহরের পরিচয় পুনর্গঠনের পথ খুলে দিয়েছে।

রঙ, স্বাদ আর স্মৃতির মিলনমেলা

ঈদের মতোই আনন্দঘন এই উৎসব শহরকে রঙে রাঙিয়ে তোলে। রঙিন পোশাক, উড়ন্ত ওড়না, সেজে ওঠা বাজার আর ঘরে ঘরে তৈরি পাকোড়া, জিলাপি, গজক ও ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ—সব মিলিয়ে বসন্ত হয়ে ওঠে পূর্ণাঙ্গ আনন্দের নাম।

ঘুড়ি আবার আকাশে উঠতেই জেগে ওঠে স্মৃতি—বাবার কাছ থেকে শেখা প্রথম ঘুড়ি ওড়ানো, মায়ের সতর্ক ডাক, আর রঙিন মানুষের ভিড়ে জীবন্ত হয়ে ওঠা এক শহর। বসন্ত মনে করিয়ে দেয়, ঐতিহ্য কখনও মরে না; সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকে, তারপর আবার উড়ে যায় আকাশ ছুঁতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনা-পাকিস্তানি পাঁচদফা পরিকল্পনা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসান ও শান্তি আলোচনার আহ্বান

আকাশ জুড়ে রঙের প্রত্যাবর্তন, দীর্ঘ বিরতির পর লাহোরে ফিরল বসন্তের উচ্ছ্বাস

০৪:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রায় দুই দশকের নীরবতার পর আবারও রঙে ভরে উঠেছে লাহোরের আকাশ। ছাদে ছাদে মানুষের ভিড়, হাসির শব্দ আর উড়ন্ত ঘুড়ির প্রতিযোগিতায় ফিরে এসেছে বহু প্রতীক্ষিত বসন্ত উৎসব। ফেব্রুয়ারির ছয় থেকে আট তারিখ পর্যন্ত বিশেষ আয়োজন ঘিরে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে আনন্দের আবহ, যেন স্মৃতির ভাঁজে লুকিয়ে থাকা এক পুরোনো সময় আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

উৎসবের আবেগে ফিরল শহরের প্রাণ

বসন্ত কেবল ঘুড়ি ওড়ানোর আয়োজন নয়, এটি মানুষের ভেতরে বহন করা এক অনুভূতি। প্রতিবেশী থেকে পরিবার—সবাইকে এক ছাদের নিচে এনে দেয় এই উৎসব। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পাকিস্তানিরাও এই সময় দেশে ফেরেন, কারণ বসন্ত তাদের শৈশব, সম্পর্ক আর পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

শীতের বিকেলে ঠান্ডা আঙুলে সুতো ধরা, প্রতিদ্বন্দ্বী ঘুড়ি কেটে গেলে ছাদজুড়ে উল্লাস—এই অভিজ্ঞতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে থাকা এক সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। পুরোনো লাহোরে যেমন প্রতিটি শিশুই ঘুড়ি ওড়ানো শিখত স্বতঃস্ফূর্তভাবে, ঠিক তেমনই বসন্ত ছিল শহরের স্বাভাবিক ছন্দের অংশ।

Lahore Celebrates Basant: A Cultural Revival of Kite Flying and Community

নিষেধাজ্ঞার পরও হারায়নি সংস্কৃতির টান

উৎসব বন্ধ থাকলেও মানুষের হৃদয় থেকে বসন্ত মুছে যায়নি। নিষেধাজ্ঞা শুধু আকাশ থেকে ঘুড়ি সরায়নি, কেড়ে নিয়েছিল পারিবারিক মিলন, সামাজিক আনন্দ আর শহরের সম্মিলিত উদযাপন। বসন্ত এমন এক উৎসব, যা ধনী-গরিব, তরুণ-বৃদ্ধ কিংবা দেশি-প্রবাসী—সব বিভাজন ভুলিয়ে সবাইকে একই আকাশের দিকে তাকাতে শেখায়।

এই পুনরুজ্জীবন তাই রাজনৈতিক নয়, বরং আবেগের। দায়িত্বশীলভাবে সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শহরের পরিচয় পুনর্গঠনের পথ খুলে দিয়েছে।

রঙ, স্বাদ আর স্মৃতির মিলনমেলা

ঈদের মতোই আনন্দঘন এই উৎসব শহরকে রঙে রাঙিয়ে তোলে। রঙিন পোশাক, উড়ন্ত ওড়না, সেজে ওঠা বাজার আর ঘরে ঘরে তৈরি পাকোড়া, জিলাপি, গজক ও ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ—সব মিলিয়ে বসন্ত হয়ে ওঠে পূর্ণাঙ্গ আনন্দের নাম।

ঘুড়ি আবার আকাশে উঠতেই জেগে ওঠে স্মৃতি—বাবার কাছ থেকে শেখা প্রথম ঘুড়ি ওড়ানো, মায়ের সতর্ক ডাক, আর রঙিন মানুষের ভিড়ে জীবন্ত হয়ে ওঠা এক শহর। বসন্ত মনে করিয়ে দেয়, ঐতিহ্য কখনও মরে না; সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকে, তারপর আবার উড়ে যায় আকাশ ছুঁতে।