মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কবে এবং কত অর্থ পরিশোধ করবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে জাতিসংঘে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট সময়সূচি ও পরিমাণ সম্পর্কে অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বৈশ্বিক এই প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক স্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অর্থপ্রদানের প্রতিশ্রুতি, কিন্তু স্পষ্ট সময় নেই
জাতিসংঘের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে মহাসচিব দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বাজেট নিয়ন্ত্রক পর্যায় থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু ইঙ্গিত মিলেছে। তবে ঠিক কখন অর্থ দেওয়া হবে এবং কত পরিমাণে দেওয়া হবে, সেটিই এখন প্রধান অনিশ্চয়তা হিসেবে রয়ে গেছে।

আর্থিক ধসের আশঙ্কা
সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘের মহাসচিব সতর্ক করে বলেছেন, বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না হলে সংস্থাটি তাৎক্ষণিক আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। বিশ্বের একশ তিরানব্বইটি দেশের এই সংগঠনের বড় অংশের বকেয়া রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মার্কিন অবস্থান ও সংস্কারের প্রসঙ্গ
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাথমিক অর্থ দেওয়া হবে, যা বার্ষিক চাঁদার একটি বড় অংশ হিসেবে গণ্য হবে। তবে চূড়ান্ত অঙ্ক এখনো নির্ধারিত হয়নি। একই সঙ্গে জাতিসংঘে কিছু সংস্কার কার্যক্রমের স্বীকৃতির বিষয়টিও অর্থপ্রদানের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বকেয়ার পরিমাণ কত
জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের বকেয়া অর্থের নব্বই শতাংশেরও বেশি দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বর্তেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত নিয়মিত বাজেটে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ বকেয়া রয়েছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও ট্রাইব্যুনাল ব্যয় মিলিয়েও বিপুল অঙ্ক বকেয়া আছে। গত বছর নিয়মিত বাজেটে অর্থ না দেওয়ার কারণে অতিরিক্ত বকেয়া তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি চলতি বছরের জন্যও নতুন দেনা যুক্ত হয়েছে।
অন্য দেশগুলোর চিত্র
নির্ধারিত সময়সীমার আগেই অর্ধশতাধিক দেশ তাদের নিয়মিত বাজেটের চাঁদা পরিশোধ করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থপ্রদানের বিলম্ব এখন জাতিসংঘের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রধান নির্ধারক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















