ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতার কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। নয়াদিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় যুক্তরাষ্ট্রের দূত সের্গিও গোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এখন ভারতের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে এবং এই সমঝোতা বাস্তবায়নে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বন্ধুত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
দুই দেশের সম্পর্কের নতুন গতি
সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রতিনিধি। গোর জানান, দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দুই দেশের সহযোগিতা এগিয়ে নিতে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শীর্ষ পর্যায়ের পারস্পরিক আস্থা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত বাণিজ্য কাঠামোকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।

শুল্ক হ্রাস ও বাণিজ্যের বিস্তার
সাম্প্রতিক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে আঠারো শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে জ্বালানি ক্রয়সংক্রান্ত অতিরিক্ত শুল্কও প্রত্যাহার করা হয়েছে। অপরদিকে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পপণ্য এবং বিভিন্ন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ওপর শুল্ক কমানো বা তুলে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেন আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
রসিকতায়ও উঠে এল কূটনীতি
সংবর্ধনায় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, এই সমঝোতা বাস্তবায়নে দূত গোরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ক্রীড়া প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন এবং রসিকতার সুরে উল্লেখ করেন, পারস্পরিক শুল্ক শূন্য হলে হয়তো ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। এই হালকা মন্তব্যেও দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা যায়।

বৃহত্তর চুক্তির পথে অগ্রগতি
অন্তর্বর্তী সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশ একটি বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির দিকে ও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক হ্রাস ও বাজার উন্মুক্তকরণ ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য রাজনীতিতে ও নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















