গণভোটের রায় ‘হ্যাঁ’ হলে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে আওয়ামী লীগ—এমন মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু। সোমবার রাতে ফেনী শহরের খেজুরিয়ায় তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
গণতান্ত্রিক ধারা ফিরলে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ
মঞ্জু বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন গণভোট বর্জন বা ‘নো ভোট’-এর প্রচার চালালেও ইতিহাস প্রমাণ করে, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এলে তারাই আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলেই দলটি পুনরায় রাজনীতিতে ফিরতে পেরেছিল—এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে শঙ্কা
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদকে সব রাজনৈতিক দলের জন্য কল্যাণকর পথ হিসেবে উল্লেখ করে মঞ্জু সতর্ক করেন, এই সনদ বাস্তবায়িত না হলে দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যতে এতে সব দলের জন্যই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দূর করে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় জুলাই সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গণহত্যা ও লুটপাটের বিচার প্রসঙ্গ
গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় লুটপাটের বিচার নিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগের নিজস্ব কল্যাণ এবং ঐতিহাসিক দায়মুক্তির জন্য এসব অপরাধের বিচার অপরিহার্য। তিনি দাবি করেন, অতীতের ন্যায় আরেকটি গণহত্যার দায় দলটির ওপর বর্তমানেও বিদ্যমান। এই দায় নিরসন না হলে জাতীয় ঐক্যের পথে বাধা দূর হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের সব রাজনৈতিক শক্তিকে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড পরিহার করে বৃহত্তর ঐক্যের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ফেনীর স্থানীয় সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি
রাজনৈতিক প্রসঙ্গের পাশাপাশি ফেনী জেলার বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, কিশোর গ্যাং, তীব্র গ্যাস সংকট ও যানজটসহ নানা সমস্যার সমাধানে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মঞ্জু। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের স্থবিরতা দূর করতেও তার জোটের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি
সংবাদ সম্মেলনে ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান, সাবেক আমির একেএম সামছুদ্দিনসহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে গণভোটের প্রচার ও নির্বাচনী কার্যক্রম সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাদের মতে, এই নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন ধারার সূচনা করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















