সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কমাতে রাজি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যকে এখন পর্যন্ত তেহরানের সবচেয়ে সরাসরি অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যস্থতাকারী আলোচনার পর এই বার্তা সামনে আসে। একই সময়ে অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নৌবহর মোতায়েন করেছিলেন। গত বছর ইসরায়েলের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক ছাড়

ইসলামী প্রজাতন্ত্রের হাতে থাকা প্রায় ষাট শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানোর সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ওপর। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্রমানের মাত্রার খুব কাছাকাছি। ইউরেনিয়ামকে কম সমৃদ্ধ পর্যায়ে নামিয়ে আনা হলে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সময়সীমা দীর্ঘ হবে।
তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক জ্বালানি ও গবেষণার জন্য। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর বড় অংশ এই দাবিতে আস্থা রাখে না। ওমানের আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে আনার চেষ্টা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন ও গ্রেপ্তার
কূটনৈতিক বার্তার পাশাপাশি দেশে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে হাজারো মানুষের মৃত্যুর পর নতুন করে গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে। সংস্কারপন্থী জোটের মুখপাত্র জাভেদ এমামসহ একাধিক রাজনৈতিক কর্মী, অধিকারকর্মী ও চলচ্চিত্র নির্মাতাকে আটক করা হয়েছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নার্গিস মোহাম্মদিকে নতুন করে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করা ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে এই সাজা ঘোষণা করা হয়। আগের মামলাগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে তার কারাবাস আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খামেনির বার্তা ও দ্বিমুখী কৌশল
দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জনগণকে বিদেশি চাপের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, জাতীয় শক্তি কেবল অস্ত্রে নয়, জনগণের ইচ্ছাশক্তিতেও নির্ভর করে। একদিকে কঠোর দমননীতি, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার দরজা খোলা রাখা—এই দ্বিমুখী কৌশলেই এগোচ্ছে তেহরান।
মৃত্যু ও গ্রেপ্তারের ভিন্ন হিসাব
সরকারি হিসাবে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। হাজার হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ইরানের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীরভাবে সামনে আনছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















