ফ্লু মৌসুম জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চিকিৎসকেরা বাসিন্দাদের প্রতি নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। জ্বর, কাশি ও অবসাদ দেখা দিলেই নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে, যা বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সাধারণ সংক্রমণ চিকিৎসাকে কঠিন করে তুলছে।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধের বাড়তি ঝুঁকি
চিকিৎসকেরা বলছেন, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ এখন বিশ্বের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। এর ফলে অসুস্থতার সময়কাল দীর্ঘ হচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছে, চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে এবং মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশ্ব এন্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ‘সুপারবাগের বিরুদ্ধে লড়াই’ শীর্ষক উদ্যোগ নিয়ে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা চালিয়েছে।
![]()
অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্দি, ফ্লু বা গলা ব্যথার মতো ভাইরাসজনিত অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না, তবুও অনেক ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বহির্বিভাগে দেওয়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশন চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় নয়। স্থানীয় জরিপে আরও দেখা যায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেন এবং অনেকেই ভুলভাবে মনে করেন ভাইরাসজনিত অসুখেও এটি কার্যকর।
প্রবাসী সমাজে ভুল ধারণা বেশি
চিকিৎসকেরা জানান, প্রবাসীদের মধ্যে এই প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। কেউ আগের ওষুধ জমিয়ে রাখেন, কেউ নিজ দেশের ওষুধ সঙ্গে নিয়ে আসেন এবং সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই তা সেবন করেন। অনেকেই সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে আগে থেকেই অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করেন বা ভালো লাগলেই মাঝপথে বন্ধ করে দেন, যা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়।

ব্যক্তিগত ও সামাজিক ক্ষতি
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইরাসজনিত অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক কোন উপকার করে না; বরং ত্বকে ফুসকুড়ি, পেটের সমস্যা বা অ্যালার্জির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। ভুলভাবে সেবনের ফলে শরীরে প্রতিরোধী জীবাণু তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতের সংক্রমণকে আরও কঠিন করে তোলে। একই সঙ্গে সমাজ জুড়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়ে পড়ে।
নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ
দেশটির বিভিন্ন হাসপাতাল এখন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে কঠোর নীতিমালা চালু করছে। সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রয়োজন নিশ্চিত করা, নিয়মিত পর্যালোচনা এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত শনাক্তকরণ পরীক্ষা ও ব্যবহৃত হচ্ছে যাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়া হয়।

সচেতনতার ওপর জোর
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক অবশ্যই চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী পূর্ণ কোর্স শেষ করতে হবে এবং অবশিষ্ট ওষুধ অন্যের সঙ্গে ভাগ করা যাবে না। জনসচেতনতা ও রোগীর শিক্ষাই অপব্যবহার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















