০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সিএনএন প্রতিবেদন বলছে—জেন জির মুভমেন্টের পরও নির্বাচনে প্রাধান্য পুরোনো নেতৃত্বের বিশ্বের সবচেয়ে নজরকাড়া নির্বাচনের একটি হতে পারে বাংলাদেশের ভোট, বললেন জামায়াত আমির ঝালকাঠিতে নির্বাচনী কার্যালয় ও দুই দোকানে অগ্নিসংযোগ দায়িত্ব শেষে আইনি জটিলতার আশঙ্কা দেখছেন না ড. সালেহউদ্দিন জামায়াতের ভোট কেনার চেষ্টা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ, আচরণবিধি লঙ্ঘন: মাহদি আমিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএইডের পতন ছিল অশনি সংকেত নেত্রকোনায় চারটি ভোটকেন্দ্রে আগুন, তদন্তে পুলিশ টিআইবির সূচকে তলানির দিক থেকে ১৩তম বাংলাদেশ, বৈশ্বিক দুর্নীতিতে অবস্থান আরও অবনতি ভারতে অরক্ষিত চারশ অবতরণপথে জরুরি তল্লাশি, অজিত পওয়ার দুর্ঘটনার পর কড়াকড়ি নিরাপত্তা উদ্যোগ ইরানের শর্ত স্পষ্ট: সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে তবেই কমবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম

ভারতে অরক্ষিত চারশ অবতরণপথে জরুরি তল্লাশি, অজিত পওয়ার দুর্ঘটনার পর কড়াকড়ি নিরাপত্তা উদ্যোগ

গত মাসে মহারাষ্ট্রের বারামতিতে একটি বিমান দুর্ঘটনায় উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারসহ পাঁচজনের মৃত্যু ঘিরে ভারতে বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে অরক্ষিত চারশ অবতরণপথে বিশেষ পরিদর্শন শুরু করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়। যেসব অবতরণপথে আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ সেবা নেই, সেগুলোর নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত ঘাটতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অরক্ষিত অবতরণপথের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো

এই শ্রেণির অবতরণপথগুলো মূলত রাজ্য সরকার, বেসরকারি সংস্থা বা উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় নিরাপত্তা মানদণ্ডের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা হবে যাতে এসব অবতরণপথের অবস্থা ও নিরাপত্তা মান স্পষ্টভাবে জানা যায়।

Ajit Pawar Plane Crash Prompts Nationwide Check Of 400 Uncontrolled  Airstrips

বিমানবন্দরের শ্রেণিবিন্যাস ও ঝুঁকি

 

ভারতে বিমানবন্দর চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত। বড় শহরের প্রধান বিমানবন্দর সর্বোচ্চ শ্রেণিতে, ছোট শহর ও মফস্বলের বিমানবন্দর মধ্যবর্তী শ্রেণিতে এবং যেসব অবতরণপথে সরকারি উপস্থিতি নেই সেগুলো সর্বনিম্ন শ্রেণিতে পড়ে। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই শ্রেণির অবতরণপথগুলোতেই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ঘাটতি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো

পরিদর্শনে যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় এবং মৌলিক অবকাঠামো যাচাই করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক উড্ডয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাস বা কাঁচা মাটির রানওয়ে থেকে শুরু করে দূরবর্তী এলাকার অস্থায়ী অবতরণস্থল—সব জায়গাতেই বাতাসের দিক নির্দেশক, ক্ষুদ্র আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, মেঘের উচ্চতা ও বায়ুচাপ মাপার ব্যবস্থা এবং বাধ্যতামূলক নজরদারি ক্যামেরা থাকা জরুরি। অল্প ব্যয়ে এসব ব্যবস্থা চালু করলে অন্তত প্রাথমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব এবং নিয়মিত মাসিক তদারকি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।

দ্রুত বাড়ছে বিমানবন্দরের সংখ্যা

ভারতে গত এক দশকে বিমান অবকাঠামো দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। একসময় যেখানে বিমানবন্দরের সংখ্যা ছিল সত্তর, এখন তা একশ ষাট ছাড়িয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৪৭ সালের মধ্যে চারশ বিমানবন্দর গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবকাঠামো বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সিএনএন প্রতিবেদন বলছে—জেন জির মুভমেন্টের পরও নির্বাচনে প্রাধান্য পুরোনো নেতৃত্বের

ভারতে অরক্ষিত চারশ অবতরণপথে জরুরি তল্লাশি, অজিত পওয়ার দুর্ঘটনার পর কড়াকড়ি নিরাপত্তা উদ্যোগ

০৪:১৬:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গত মাসে মহারাষ্ট্রের বারামতিতে একটি বিমান দুর্ঘটনায় উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারসহ পাঁচজনের মৃত্যু ঘিরে ভারতে বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে অরক্ষিত চারশ অবতরণপথে বিশেষ পরিদর্শন শুরু করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়। যেসব অবতরণপথে আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ সেবা নেই, সেগুলোর নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত ঘাটতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অরক্ষিত অবতরণপথের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো

এই শ্রেণির অবতরণপথগুলো মূলত রাজ্য সরকার, বেসরকারি সংস্থা বা উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় নিরাপত্তা মানদণ্ডের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা হবে যাতে এসব অবতরণপথের অবস্থা ও নিরাপত্তা মান স্পষ্টভাবে জানা যায়।

Ajit Pawar Plane Crash Prompts Nationwide Check Of 400 Uncontrolled  Airstrips

বিমানবন্দরের শ্রেণিবিন্যাস ও ঝুঁকি

 

ভারতে বিমানবন্দর চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত। বড় শহরের প্রধান বিমানবন্দর সর্বোচ্চ শ্রেণিতে, ছোট শহর ও মফস্বলের বিমানবন্দর মধ্যবর্তী শ্রেণিতে এবং যেসব অবতরণপথে সরকারি উপস্থিতি নেই সেগুলো সর্বনিম্ন শ্রেণিতে পড়ে। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই শ্রেণির অবতরণপথগুলোতেই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ঘাটতি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো

পরিদর্শনে যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় এবং মৌলিক অবকাঠামো যাচাই করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক উড্ডয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাস বা কাঁচা মাটির রানওয়ে থেকে শুরু করে দূরবর্তী এলাকার অস্থায়ী অবতরণস্থল—সব জায়গাতেই বাতাসের দিক নির্দেশক, ক্ষুদ্র আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, মেঘের উচ্চতা ও বায়ুচাপ মাপার ব্যবস্থা এবং বাধ্যতামূলক নজরদারি ক্যামেরা থাকা জরুরি। অল্প ব্যয়ে এসব ব্যবস্থা চালু করলে অন্তত প্রাথমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব এবং নিয়মিত মাসিক তদারকি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।

দ্রুত বাড়ছে বিমানবন্দরের সংখ্যা

ভারতে গত এক দশকে বিমান অবকাঠামো দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। একসময় যেখানে বিমানবন্দরের সংখ্যা ছিল সত্তর, এখন তা একশ ষাট ছাড়িয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৪৭ সালের মধ্যে চারশ বিমানবন্দর গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবকাঠামো বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।