০৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তে স্থিতিশীল জ্বালানি ব্যয়ের ইঙ্গিত, উচ্চ দামে আটকে তেলের বাজার ইরানে বিক্ষোভ-পরবর্তী দমনযজ্ঞ, গ্রেপ্তার চিকিৎসক – বন্ধ ব্যবসা—ভয় আর নীরবতায় আবদ্ধ সমাজ আফ্রিকায় পুরোনো রোগের পুনরুত্থানের শঙ্কা, সহায়তা কমায় বাড়ছে অন্ধত্বের ঝুঁকি রাশিয়ায় ভারতীয় শ্রমিকের চাহিদা বাড়াল ইউক্রেন যুদ্ধ, বছরে যাচ্ছে চল্লিশ হাজার অস্ট্রেলিয়ায় হারজগ সফর ঘিরে বিক্ষোভে উত্তাল শহর, গ্রেপ্তার একাধিক সামরিক অভিযানের গুজবে সীমান্তে বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ, পরিকল্পনা অস্বীকার পাকিস্তানের অভিযানের আতঙ্কে শৈশব বিপর্যস্ত, মিনেসোটার শিশুদের জীবনে স্থায়ী ভয় উত্তর আটলান্টিকে নতুন ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে ফারো দ্বীপপুঞ্জ মজুত কৌশলে টিকে থাকা কার্পেট নির্মাতা, কিন্তু কমে আসছে পুরোনো ভাণ্ডার এশিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শেখার শিক্ষা

জামায়াতের ভোট কেনার চেষ্টা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ, আচরণবিধি লঙ্ঘন: মাহদি আমিন

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিন মঙ্গলবার অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ভোট কেনার যে চেষ্টা করছে তা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের স্পষ্ট প্রমাণ এবং নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন।

গুলশানে বিএনপির নির্বাচন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা এমনকি দলটির শীর্ষ নেতার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকাতেও ঘটছে, যা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। সেখানে যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সারা দেশে কী ঘটছে তা সহজেই অনুমান করা যায়।

দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের দাবি করা একটি দল এখন নির্বাচনী প্রচারে মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও, টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মাহদি আমিন। তিনি এটিকে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, জনসমর্থনের অভাব ও নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই এমন কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা-১৫ আসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ওই দলের এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও নেতা প্রকাশ্যে টাকা বিতরণ করে দলীয় প্রতীকে ভোট চাইতে দেখা গেছে। ঘটনার ভিডিও দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বলেও তিনি জানান।

মাহদি আমিন প্রশ্ন তোলেন, যে দল প্রতিদিন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তারা যদি ভোটের মাঠে অর্থ ছড়ায়—তাও নিজেদের প্রধানের নির্বাচনী এলাকায়—তাহলে এর চেয়ে বড় ভণ্ডামি ও নৈতিক পতনের উদাহরণ আর কী হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন প্রণীত ২০২৫ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিধির ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কাজ করা ব্যক্তি নির্বাচনের আগে প্রকাশ্যে বা গোপনে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অনুদান, অনুগ্রহ বা উপহার দিতে বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, একই আচরণবিধির ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ ধরনের লঙ্ঘন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ৯১বি(৩) ধারার আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে প্রার্থীর কারাদণ্ড ও জরিমানাসহ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান মাহদি আমিন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, খুলনা-১ আসনেও একই দলের এক প্রার্থী ভোটারদের মধ্যে সরাসরি টাকা বিতরণ করেছেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তার দাবি, সারা দেশে ভোট কেনার একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের পরিচয়পত্রের তথ্য ও বিকাশ, নগদ, রকেটসহ মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে অসৎ উদ্দেশ্যে।

সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কুমিল্লা-১১ আসনের চৌদ্দগ্রামে রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র কর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। একইভাবে বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতামাঝ গ্রামে বিএনপি নেতাদের ওপর হামলায় কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এসব ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

মাহদি আমিন বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রচারকাল ২২ জানুয়ারি থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ছিল। এই সময়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, নির্ভরযোগ্য সংস্থার জরিপ, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমাবেশে বিপুল জনসমাগম এবং মাঠের বাস্তবতা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে বিএনপি সর্বোচ্চ জনসমর্থন পাচ্ছে।

তার দাবি, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির ভূমিধস জয় অনিবার্য। এই বাস্তবতা বুঝেই একটি বিশেষ দল প্রচারযুদ্ধ জোরদার করছে, সহিংসতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাইছে এবং ভোট কারচুপির প্রস্তুতির লক্ষণ দেখাচ্ছে—যা জনগণের রায়ের সামনে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রকাশ।

শেষ পর্যন্ত কোনো অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, অর্থের প্রভাব বা সহিংসতা বিএনপির অনিবার্য বিজয় ঠেকাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণ এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তে স্থিতিশীল জ্বালানি ব্যয়ের ইঙ্গিত, উচ্চ দামে আটকে তেলের বাজার

জামায়াতের ভোট কেনার চেষ্টা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ, আচরণবিধি লঙ্ঘন: মাহদি আমিন

০৬:০৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিন মঙ্গলবার অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ভোট কেনার যে চেষ্টা করছে তা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের স্পষ্ট প্রমাণ এবং নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন।

গুলশানে বিএনপির নির্বাচন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা এমনকি দলটির শীর্ষ নেতার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকাতেও ঘটছে, যা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। সেখানে যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সারা দেশে কী ঘটছে তা সহজেই অনুমান করা যায়।

দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের দাবি করা একটি দল এখন নির্বাচনী প্রচারে মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও, টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মাহদি আমিন। তিনি এটিকে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, জনসমর্থনের অভাব ও নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই এমন কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা-১৫ আসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ওই দলের এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও নেতা প্রকাশ্যে টাকা বিতরণ করে দলীয় প্রতীকে ভোট চাইতে দেখা গেছে। ঘটনার ভিডিও দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বলেও তিনি জানান।

মাহদি আমিন প্রশ্ন তোলেন, যে দল প্রতিদিন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তারা যদি ভোটের মাঠে অর্থ ছড়ায়—তাও নিজেদের প্রধানের নির্বাচনী এলাকায়—তাহলে এর চেয়ে বড় ভণ্ডামি ও নৈতিক পতনের উদাহরণ আর কী হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন প্রণীত ২০২৫ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিধির ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কাজ করা ব্যক্তি নির্বাচনের আগে প্রকাশ্যে বা গোপনে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অনুদান, অনুগ্রহ বা উপহার দিতে বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, একই আচরণবিধির ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ ধরনের লঙ্ঘন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ৯১বি(৩) ধারার আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে প্রার্থীর কারাদণ্ড ও জরিমানাসহ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান মাহদি আমিন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, খুলনা-১ আসনেও একই দলের এক প্রার্থী ভোটারদের মধ্যে সরাসরি টাকা বিতরণ করেছেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তার দাবি, সারা দেশে ভোট কেনার একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের পরিচয়পত্রের তথ্য ও বিকাশ, নগদ, রকেটসহ মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে অসৎ উদ্দেশ্যে।

সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কুমিল্লা-১১ আসনের চৌদ্দগ্রামে রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র কর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। একইভাবে বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতামাঝ গ্রামে বিএনপি নেতাদের ওপর হামলায় কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এসব ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

মাহদি আমিন বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রচারকাল ২২ জানুয়ারি থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ছিল। এই সময়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, নির্ভরযোগ্য সংস্থার জরিপ, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমাবেশে বিপুল জনসমাগম এবং মাঠের বাস্তবতা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে বিএনপি সর্বোচ্চ জনসমর্থন পাচ্ছে।

তার দাবি, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির ভূমিধস জয় অনিবার্য। এই বাস্তবতা বুঝেই একটি বিশেষ দল প্রচারযুদ্ধ জোরদার করছে, সহিংসতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাইছে এবং ভোট কারচুপির প্রস্তুতির লক্ষণ দেখাচ্ছে—যা জনগণের রায়ের সামনে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রকাশ।

শেষ পর্যন্ত কোনো অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, অর্থের প্রভাব বা সহিংসতা বিএনপির অনিবার্য বিজয় ঠেকাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণ এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।