আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে বহুদিন ধরে নিয়ন্ত্রণে থাকা উপেক্ষিত উষ্ণমণ্ডলীয় রোগ আবার ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা হঠাৎ কমে যাওয়ায় চিকিৎসা কর্মসূচি থমকে পড়েছে, ফলে অন্ধত্বসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ক্যামেরুনের মধ্যাঞ্চলের সবুজ গ্রামীণ এলাকায় নদী ও ঝরনাকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুতগতির পানিতে জন্ম নেওয়া কালো মাছি মানুষের শরীরে পরজীবী লার্ভা ছড়ায়, যা পরিণত হয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। ত্বকে তীব্র চুলকানি থেকে শুরু করে চোখে সংক্রমণ ঘটিয়ে স্থায়ী অন্ধত্ব পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে এই রোগ, যা সাধারণভাবে নদী অন্ধত্ব নামে পরিচিত।
সহায়তা বন্ধে থমকে চিকিৎসা অভিযান
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে ঘরে ঘরে গিয়ে ওষুধ বিতরণের মাধ্যমে এই রোগ নির্মূলের পথে অনেকটাই এগিয়ে ছিল স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমে যাওয়ার পর সেই কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ে ওষুধ না পাওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মূলের আগে ওষুধ বিতরণ বন্ধ হলে সংক্রমণ খুব দ্রুত ফিরে আসতে পারে এবং পুরো প্রচেষ্টা শূন্যে নেমে যেতে পারে।

উপেক্ষিত রোগে বিপুল মানবিক ক্ষতি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকাভুক্ত উপেক্ষিত উষ্ণমণ্ডলীয় রোগগুলো সাধারণত প্রাণঘাতী না হলেও দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা, বিকলাঙ্গতা ও অন্ধত্বের মতো গুরুতর মানবিক ক্ষতি ডেকে আনে। বিশ্বের একশ কোটিরও বেশি মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে রয়েছে, কিন্তু দারিদ্র্য ও অবহেলার কারণে গবেষণা ও অর্থায়ন বরাবরই সীমিত ছিল।
স্বাস্থ্য খাতে অগ্রাধিকার বদলের প্রভাব
ক্যামেরুনের মতো দেশে ম্যালেরিয়া ও এইচআইভি মোকাবিলাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। ফলে অন্ধত্ব সহ অন্যান্য পুরোনো রোগের কর্মসূচি পিছিয়ে পড়ছে। আগে আন্তর্জাতিক সহায়তায় ওষুধ পরিবহন, স্বাস্থ্যকর্মীদের ভাতা এবং রোগ পর্যবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ চললেও অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় পুরো ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তবু আশার আলো
নতুন অর্থায়নের আলোচনা চললেও কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এখনও স্পষ্ট নয়। কিছু দেশে বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে এসব রোগের চিকিৎসা যুক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়েছে, যাতে কম খরচে কার্যক্রম চালানো যায়। একই সঙ্গে নতুন অনুদান ও জাতীয় উদ্যোগের মাধ্যমে আবারও ঘরে ঘরে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভাষায়, পিছিয়ে পড়লে ও হাল ছাড়ার সুযোগ নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















