অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও অর্থের গন্তব্য শনাক্তে সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনা এখনো জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা দ্রুত সমাধান যোগ্য নয়।
অর্থপাচার শনাক্তে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বৃদ্ধি
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অর্থপাচার শনাক্ত করা স্বভাবতই কঠিন। তবুও প্রক্রিয়াগুলো সহজ ও কার্যকর করা হয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর পাঁচ বছর ধরে স্থগিত থাকা অর্থ পাচার বিষয়ক বৈঠক তিনি পুনরায় শুরু করেন বলেও জানান।
তথ্য সংগ্রহে উপ কমিটি ও অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ
প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ ও কার্যক্রম শুরুর জন্য একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিদেশি সহযোগিতা পেতে হলে আগে দেশের ভেতরে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা দেখাতে হয়—এই বাস্তবতার কথা ও তুলে ধরেন অর্থ উপদেষ্টা। অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ ছাড়া আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তার জটিলতা
বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনি সহায়তার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। বহু নথি, আনুষ্ঠানিকতা এবং ভাষাগত অনুবাদের মতো বিষয় এতে জড়িত থাকে। ফলে অর্থ ফেরত আনার পথ দীর্ঘ ও সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে।
দক্ষ পদ্ধতিতে পাচার, সমান দক্ষতার প্রয়োজন
অর্থপাচারকারীরা অত্যন্ত দক্ষ পেশাজীবী ও জটিল আর্থিক কাঠামো ব্যবহার করে থাকে বলে জানান ড. সালেহউদ্দিন। বহু স্তরীয় নথি, লেনদেনের স্তরবিন্যাস এবং সূক্ষ্ম কৌশল শনাক্ত করতে সমমানের দক্ষ মানব সম্পদ প্রয়োজন বলেও তিনি বলেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইতোমধ্যে চিহ্নিত
সরকার ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করেন অর্থ উপদেষ্টা। কারা অর্থপাচারে জড়িত এবং কোন কোন দেশে অর্থ রয়েছে—এসব বিষয়ে ধারণা পাওয়া গেছে। অনেকের একাধিক দেশের পাসপোর্ট থাকার বিষয়টি ও সামনে এসেছে। তবে শনাক্ত হওয়া মোট অর্থের পরিমাণ তিনি প্রকাশ করেননি।
সব বিদেশি অর্থ অবৈধ নয়
বিদেশে থাকা সব অর্থ অবৈধ নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে রপ্তানি আয় বা বৈধ উপার্জনের অর্থ বিদেশে থাকতে পারে—এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আগামী সরকারের জন্য ভিত্তি তৈরি
প্রায় এগারো থেকে বারোটি বড় ঘটনার তথ্য শনাক্ত হয়েছে এবং অন্যান্য তথ্যও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য ভিত্তি তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার চাইলে এই অগ্রগতির ওপর দাঁড়িয়ে ই কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে বলে মত দেন তিনি।
সমন্বয় ঘাটতি কমানোর আহ্বান
সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কথা ও তুলে ধরেন অর্থ উপদেষ্টা। কার্যকর ফল পেতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
জবাবদিহি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
নিজের সম্পদ বিবরণী দুই বছর আগে জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় তা পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা কঠিন হলেও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এখন প্রস্তুত—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















