০৪:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
চীনের চিপ শিল্পে নতুন মার্কিন চাপ ইউএই-তে পরিবারকেন্দ্রিক ইস্টার উদযাপন: ডিনার থেকে ডিম খোঁজা, সবকিছুই মিলেমিশে উৎসবের আনন্দ বাড়াচ্ছে দামার হ্যামলিনের জীবন বদলে দেওয়া হৃদরোগ সচেতনতার সংগ্রাম: বাঁচার লড়াই থেকে অন্যদের জীবন বাঁচানো পর্যন্ত আত্মার বন্ধুত্বের রহস্যে হারানো: ইমপারফেক্ট উইমেন-এর শোবিশ্লেষণ চাকরি ও শ্রমিকের সমন্বয়, তবে সন্তুষ্টি নেই কম্বোডিয়ার সাইবার অপরাধ দমন আইন প্যাম বন্ডি চেয়ার করেছিলেন মার্জিত বিদায়, কিন্তু ট্রাম্প চাইলেন তাকে বিদায় দিতে কিউবায় দুই হাজারের বেশি বন্দি মুক্তি যুদ্ধ থামাতে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে ফোন পোপের ইরান ইস্যুতে ন্যাটোতে নতুন অস্বস্তি

হাইতিতে শাসন সংকট চরমে, মেয়াদ শেষেও অনিশ্চয়তা কাটেনি

গভীর রাজনৈতিক অচলাবস্থা, সশস্ত্র গ্যাং সহিংসতা এবং দীর্ঘদিনের নির্বাচন হীন বাস্তবতা—সব মিলিয়ে হাইতির সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও স্থিতিশীল সরকারের কোনো স্পষ্ট পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের জীবন ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে পড়ছে, আর রাষ্ট্রযন্ত্র কার্যত অকার্যকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

শক্তিশালী সরকারের প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষ
রাজধানীর বাইরে এক নারী জানান, গ্যাং হামলায় ঘর ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে তাকে। সেখানে তার গর্ভবতী মেয়ে ঠান্ডা সিমেন্টের মেঝেতে সন্তান জন্ম দেন। জীবিকার সংকট, সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে না পারা—সব কষ্টের মধ্যেও তার একটাই দাবি, দেশের জন্য একটি শক্তিশালী কার্যকর সরকার। এই আকাঙ্ক্ষাই আজ অসংখ্য হাইতিয়ানের অভিন্ন কণ্ঠস্বর।

নির্বাচন হীন রাষ্ট্র ও নেতৃত্ব সংকট
প্রায় পাঁচ বছর ধরে দেশটিতে কোনো নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নেই। সাময়িকভাবে গঠিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এর লক্ষ্য ছিল নির্বাচন আয়োজন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। আগামী আগস্টে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র সন্দেহ রয়েছে। ২০১৬ সালের পর আর কোনো জাতীয় নির্বাচন হয়নি, আর ২০২১ সালে শেষ প্রেসিডেন্ট হত্যার পর থেকে রাজনৈতিক শূন্যতা আরও গভীর হয়েছে। সংসদ ও কার্যত অনুপস্থিত।

Haiti's presidential council dissolved after rocky tenure as unelected US-backed ruler remains | World News | Jamaica Gleaner

সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক বিপর্যয়
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর থেকে গ্যাং সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে ষোলো হাজারের বেশি মানুষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দশ লাখের ও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। অনেকে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বা জনসমাগমস্থলে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতা এতটাই প্রকট যে বহু মানুষ নিজ শহরে ও ফিরতে পারছে না।

ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও আন্তর্জাতিক চাপ
অন্তর্বর্তী কাউন্সিলের কয়েক সদস্য প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চাইলেও আন্তর্জাতিক মহলের বিরোধিতায় সেই উদ্যোগ থেমে যায়। দুর্নীতি, ক্ষমতার লড়াই এবং বিদেশি প্রভাবের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান বজায় রাখতে চাপ দিচ্ছে, তবে এতে তার রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

নিরাপত্তা বাহিনীর সীমিত অগ্রগতি
বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী ও দেশীয় পুলিশ কিছু এলাকায় গ্যাংদের প্রতিহত করতে পারলেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও স্থায়ী শান্তি এখনো দূরবর্তী লক্ষ্য।

পূর্ণাঙ্গ সংকটের মুখে হাইতি
রাজনৈতিক শূন্যতা, দুর্বল প্রতিষ্ঠান ও অব্যাহত সহিংসতার সমন্বয়ে দেশটি এক গভীর রাষ্ট্রিক সংকটে নিমজ্জিত। কার্যকর সরকার গঠন এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের চিপ শিল্পে নতুন মার্কিন চাপ

হাইতিতে শাসন সংকট চরমে, মেয়াদ শেষেও অনিশ্চয়তা কাটেনি

০৯:৩১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গভীর রাজনৈতিক অচলাবস্থা, সশস্ত্র গ্যাং সহিংসতা এবং দীর্ঘদিনের নির্বাচন হীন বাস্তবতা—সব মিলিয়ে হাইতির সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও স্থিতিশীল সরকারের কোনো স্পষ্ট পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের জীবন ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে পড়ছে, আর রাষ্ট্রযন্ত্র কার্যত অকার্যকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

শক্তিশালী সরকারের প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষ
রাজধানীর বাইরে এক নারী জানান, গ্যাং হামলায় ঘর ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে তাকে। সেখানে তার গর্ভবতী মেয়ে ঠান্ডা সিমেন্টের মেঝেতে সন্তান জন্ম দেন। জীবিকার সংকট, সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে না পারা—সব কষ্টের মধ্যেও তার একটাই দাবি, দেশের জন্য একটি শক্তিশালী কার্যকর সরকার। এই আকাঙ্ক্ষাই আজ অসংখ্য হাইতিয়ানের অভিন্ন কণ্ঠস্বর।

নির্বাচন হীন রাষ্ট্র ও নেতৃত্ব সংকট
প্রায় পাঁচ বছর ধরে দেশটিতে কোনো নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নেই। সাময়িকভাবে গঠিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এর লক্ষ্য ছিল নির্বাচন আয়োজন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। আগামী আগস্টে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র সন্দেহ রয়েছে। ২০১৬ সালের পর আর কোনো জাতীয় নির্বাচন হয়নি, আর ২০২১ সালে শেষ প্রেসিডেন্ট হত্যার পর থেকে রাজনৈতিক শূন্যতা আরও গভীর হয়েছে। সংসদ ও কার্যত অনুপস্থিত।

Haiti's presidential council dissolved after rocky tenure as unelected US-backed ruler remains | World News | Jamaica Gleaner

সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক বিপর্যয়
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর থেকে গ্যাং সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে ষোলো হাজারের বেশি মানুষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দশ লাখের ও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। অনেকে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বা জনসমাগমস্থলে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতা এতটাই প্রকট যে বহু মানুষ নিজ শহরে ও ফিরতে পারছে না।

ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও আন্তর্জাতিক চাপ
অন্তর্বর্তী কাউন্সিলের কয়েক সদস্য প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চাইলেও আন্তর্জাতিক মহলের বিরোধিতায় সেই উদ্যোগ থেমে যায়। দুর্নীতি, ক্ষমতার লড়াই এবং বিদেশি প্রভাবের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান বজায় রাখতে চাপ দিচ্ছে, তবে এতে তার রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

নিরাপত্তা বাহিনীর সীমিত অগ্রগতি
বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী ও দেশীয় পুলিশ কিছু এলাকায় গ্যাংদের প্রতিহত করতে পারলেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও স্থায়ী শান্তি এখনো দূরবর্তী লক্ষ্য।

পূর্ণাঙ্গ সংকটের মুখে হাইতি
রাজনৈতিক শূন্যতা, দুর্বল প্রতিষ্ঠান ও অব্যাহত সহিংসতার সমন্বয়ে দেশটি এক গভীর রাষ্ট্রিক সংকটে নিমজ্জিত। কার্যকর সরকার গঠন এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।