০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
চীনের চিপ শিল্পে নতুন মার্কিন চাপ ইউএই-তে পরিবারকেন্দ্রিক ইস্টার উদযাপন: ডিনার থেকে ডিম খোঁজা, সবকিছুই মিলেমিশে উৎসবের আনন্দ বাড়াচ্ছে দামার হ্যামলিনের জীবন বদলে দেওয়া হৃদরোগ সচেতনতার সংগ্রাম: বাঁচার লড়াই থেকে অন্যদের জীবন বাঁচানো পর্যন্ত আত্মার বন্ধুত্বের রহস্যে হারানো: ইমপারফেক্ট উইমেন-এর শোবিশ্লেষণ চাকরি ও শ্রমিকের সমন্বয়, তবে সন্তুষ্টি নেই কম্বোডিয়ার সাইবার অপরাধ দমন আইন প্যাম বন্ডি চেয়ার করেছিলেন মার্জিত বিদায়, কিন্তু ট্রাম্প চাইলেন তাকে বিদায় দিতে কিউবায় দুই হাজারের বেশি বন্দি মুক্তি যুদ্ধ থামাতে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে ফোন পোপের ইরান ইস্যুতে ন্যাটোতে নতুন অস্বস্তি

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সমঝোতা: কৃষক, শিল্প ও বাজারে লাভবান হলো ভারত

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য কাঠামো প্রকাশ করেছে, যা শুল্ক কমানো, জ্বালানি সহযোগিতা পুনর্গঠন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন সমন্বয়ের পথ খুলে দিচ্ছে। তবে কৃষিপণ্য বাজার আংশিকভাবে উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারতের ভেতরে কৃষক ও বিরোধী রাজনীতিতে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। এই সমঝোতা একদিকে শিল্পখাতের ব্যয় কমাতে পারে, অন্যদিকে কিছু কৃষকের আয়ে চাপ ফেলতে পারে—এমন দ্বিমুখী বাস্তবতা ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

কোন খাত লাভবান, কারা চাপে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রোটিনসমৃদ্ধ ডিডিজিএস আমদানি অনুমোদিত হলে দেশের মুরগি শিল্পের খাদ্য ব্যয় কমতে পারে, কারণ উৎপাদন ব্যয়ের বড় অংশই খাদ্যের পেছনে যায়। এতে ভোক্তা পর্যায়ে ও দামের স্বস্তি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশীয় তৈলবীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সয়াবিন চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন, কারণ অতিরিক্ত সরবরাহ বাজার দর কমিয়ে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই তেলবীজের দামে চাপ থাকায় অনেক কৃষক সয়াবিন ও বাদাম ছেড়ে ভুট্টা ও ধানের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে ডিডিজিএস সরবরাহ বাড়লে দেশীয় ইথানল উৎপাদকদের আয়ও কমতে পারে।

শুল্কমুক্ত সয়াতেল ও তুলা নিয়ে বাস্তবতা
সয়াতেল শুল্কমুক্ত আমদানির আশঙ্কা থাকলেও তা নির্দিষ্ট কোটা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, ফলে নির্ধারিত সীমার বাইরে স্বাভাবিক শুল্কই বহাল থাকবে। এতে দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তুলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দীর্ঘ আঁশযুক্ত তুলা সীমিত পরিমাণে শুল্কমুক্ত আমদানি অনুমোদন পেতে পারে। ভারতের বস্ত্রশিল্পের চাহিদা পূরণে এই ধরনের তুলা বিদেশ থেকেই আনতে হয়, তাই সামগ্রিক প্রভাব সীমিত থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

আপেল ও শুকনো ফলের বাজারে প্রভাব
দেশীয় উৎপাদন চাহিদা পূরণে যথেষ্ট না হওয়ায় ভারত প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আপেল আমদানি করে। নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত ন্যূনতম দামের নিচে আমদানি সম্ভব হবে না, ফলে কৃষকদের স্বার্থ কিছুটা সুরক্ষিত থাকবে। আখরোট, বাদাম ও পেস্তার মতো শুকনো ফলের ক্ষেত্রেও দেশীয় উৎপাদন কম হওয়ায় আমদানি বাড়লেও কৃষকের ওপর বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম।

কৃষকদের সম্ভাব্য লাভের ক্ষেত্র
চা, কফি, মসলা ও বিভিন্ন ফলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ভারতীয় চাষিদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি চালের শুল্ক কমায় উচ্চমানের বাসমতি ও সাধারণ চাল—দুই ধরনের রপ্তানিকারকরা লাভবান হতে পারেন। ফলে সমঝোতাটি পুরোপুরি ক্ষতির নয়; বরং খাত ভেদে ভিন্ন প্রভাব তৈরি করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের চিপ শিল্পে নতুন মার্কিন চাপ

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সমঝোতা: কৃষক, শিল্প ও বাজারে লাভবান হলো ভারত

১০:০০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য কাঠামো প্রকাশ করেছে, যা শুল্ক কমানো, জ্বালানি সহযোগিতা পুনর্গঠন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন সমন্বয়ের পথ খুলে দিচ্ছে। তবে কৃষিপণ্য বাজার আংশিকভাবে উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারতের ভেতরে কৃষক ও বিরোধী রাজনীতিতে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। এই সমঝোতা একদিকে শিল্পখাতের ব্যয় কমাতে পারে, অন্যদিকে কিছু কৃষকের আয়ে চাপ ফেলতে পারে—এমন দ্বিমুখী বাস্তবতা ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

কোন খাত লাভবান, কারা চাপে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রোটিনসমৃদ্ধ ডিডিজিএস আমদানি অনুমোদিত হলে দেশের মুরগি শিল্পের খাদ্য ব্যয় কমতে পারে, কারণ উৎপাদন ব্যয়ের বড় অংশই খাদ্যের পেছনে যায়। এতে ভোক্তা পর্যায়ে ও দামের স্বস্তি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশীয় তৈলবীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সয়াবিন চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন, কারণ অতিরিক্ত সরবরাহ বাজার দর কমিয়ে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই তেলবীজের দামে চাপ থাকায় অনেক কৃষক সয়াবিন ও বাদাম ছেড়ে ভুট্টা ও ধানের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে ডিডিজিএস সরবরাহ বাড়লে দেশীয় ইথানল উৎপাদকদের আয়ও কমতে পারে।

শুল্কমুক্ত সয়াতেল ও তুলা নিয়ে বাস্তবতা
সয়াতেল শুল্কমুক্ত আমদানির আশঙ্কা থাকলেও তা নির্দিষ্ট কোটা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, ফলে নির্ধারিত সীমার বাইরে স্বাভাবিক শুল্কই বহাল থাকবে। এতে দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তুলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দীর্ঘ আঁশযুক্ত তুলা সীমিত পরিমাণে শুল্কমুক্ত আমদানি অনুমোদন পেতে পারে। ভারতের বস্ত্রশিল্পের চাহিদা পূরণে এই ধরনের তুলা বিদেশ থেকেই আনতে হয়, তাই সামগ্রিক প্রভাব সীমিত থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

আপেল ও শুকনো ফলের বাজারে প্রভাব
দেশীয় উৎপাদন চাহিদা পূরণে যথেষ্ট না হওয়ায় ভারত প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আপেল আমদানি করে। নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত ন্যূনতম দামের নিচে আমদানি সম্ভব হবে না, ফলে কৃষকদের স্বার্থ কিছুটা সুরক্ষিত থাকবে। আখরোট, বাদাম ও পেস্তার মতো শুকনো ফলের ক্ষেত্রেও দেশীয় উৎপাদন কম হওয়ায় আমদানি বাড়লেও কৃষকের ওপর বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম।

কৃষকদের সম্ভাব্য লাভের ক্ষেত্র
চা, কফি, মসলা ও বিভিন্ন ফলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ভারতীয় চাষিদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি চালের শুল্ক কমায় উচ্চমানের বাসমতি ও সাধারণ চাল—দুই ধরনের রপ্তানিকারকরা লাভবান হতে পারেন। ফলে সমঝোতাটি পুরোপুরি ক্ষতির নয়; বরং খাত ভেদে ভিন্ন প্রভাব তৈরি করবে।