ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের অস্ট্রেলিয়া সফরকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গাজায় বেসামরিক হতাহতের অভিযোগে ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিন পন্থী সংগঠন গুলো বিভিন্ন শহরে সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বন্ডি বিচে হামলার পর সফর
গত বছরের ডিসেম্বরে সিডনির বন্ডি বিচে হানুকা উদযাপন অনুষ্ঠানে বন্দুক হামলায় পনের জন নিহত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানাতে এই সফরে আসেন হারজগ। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের আমন্ত্রণে ই তার বহু শহর সফরের সূচনা হয়।
সিডনিতে উত্তেজনা ও পুলিশের কড়া অবস্থান
সিডনির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে ফিলিস্তিন পন্থী স্লোগান দেন এবং বক্তৃতা শোনেন। বিক্ষোভকারীদের একাংশ অভিযোগ করেন, গাজার মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বের পর্যাপ্ত স্বীকৃতি নেই এবং হারজগ দখল ও সহিংসতার প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়, আকাশে হেলিকপ্টার টহল দেয় এবং ঘোড়সওয়ার পুলিশ পাহারা জোরদার করে। মিছিল এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ মরিচ স্প্রে ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে এবং কয়েকজনকে আটক করে।
আইনি চ্যালেঞ্জ ব্যর্থ
বিক্ষোভ আয়োজক ফিলিস্তিন অ্যাকশন গ্রুপ আদালতে সমাবেশের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ সফরকে বড় নিরাপত্তা ইভেন্ট ঘোষণা করে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ সীমিতকরণ এবং তল্লাশির মতো বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের অনুমতি পায়।
শোক স্মরণ ও সমর্থন
অন্যদিকে বিক্ষোভস্থল থেকে কিছু দূরে ইহুদি সম্প্রদায়ের হাজারো সদস্য, সরকারি প্রতিনিধি ও বিরোধী নেতারা নিহতদের স্মরণে এক অনুষ্ঠানে হারজগকে স্বাগত জানান। সফরের শুরুতে ই তিনি বন্ডাই বিচের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং নিহতদের পরিবার ও জীবিতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
তার বক্তব্যে তিনি বলেন, এই হামলা শুধু একটি সম্প্রদায়ের ওপর নয়, অস্ট্রেলিয়ার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবজীবনের মর্যাদার ওপর আঘাত ছিল। ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা মনে করেন, এই সফর শোকাহত মানুষের মনোবল বাড়াবে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার কিছু ইহুদি বুদ্ধিজীবী ও কমিউনিটি নেতা খোলা চিঠিতে হারজগের আমন্ত্রণ প্রত্যাহারের আহ্বান ও জানিয়েছেন, যা বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















