০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ খানের পদত্যাগ ঘোষণা, নির্বাচনের আগে নতুন আলোচনা ধানের শীষে ভোটের ঘোষণা ওমর সানীর, নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া চট্টগ্রামে আবুল খায়ের গ্রুপের কারখানায় বিস্ফোরণ, আহত ১১ অর্থপাচারের পথ শনাক্ত, অর্থ ফেরত এখনো কঠিন দীর্ঘ লড়াই নির্বাচনী ছুটির আগে ফাঁকা ঢাকা, দূরপাল্লায় ঈদের মতো বাড়তি ভাড়া নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং শঙ্কা নেই, ভূমিধস জয়ের আশায় বিএনপি ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তে স্থিতিশীল জ্বালানি ব্যয়ের ইঙ্গিত, উচ্চ দামে আটকে তেলের বাজার ইরানে বিক্ষোভ-পরবর্তী দমনযজ্ঞ, গ্রেপ্তার চিকিৎসক – বন্ধ ব্যবসা—ভয় আর নীরবতায় আবদ্ধ সমাজ আফ্রিকায় পুরোনো রোগের পুনরুত্থানের শঙ্কা, সহায়তা কমায় বাড়ছে অন্ধত্বের ঝুঁকি রাশিয়ায় ভারতীয় শ্রমিকের চাহিদা বাড়াল ইউক্রেন যুদ্ধ, বছরে যাচ্ছে চল্লিশ হাজার

মজুত কৌশলে টিকে থাকা কার্পেট নির্মাতা, কিন্তু কমে আসছে পুরোনো ভাণ্ডার

  • Sarakhon Report
  • ০৬:৪১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 13

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসভিত্তিক পারিবারিক কার্পেট ও টেক্সটাইল কোম্পানি লোলোই রাগস গত বছরের কঠোর শুল্ক নীতির ধাক্কা সামাল দিতে আগেভাগেই বড় পরিমাণ পণ্য আমদানি করে মজুত গড়ে তুলেছিল। সেই কৌশল কোম্পানিটিকে কঠিন সময় পার হতে সাহায্য করলেও এখন ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে সেই পুরোনো মজুত।

শুল্কের আগেই প্রস্তুতি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার আগেই লোলোই ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির কথা ভেবে গুদামভর্তি পণ্য সংগ্রহ শুরু করে। সম্ভাব্য উচ্চ আমদানি করের আশঙ্কা তাদের এই সিদ্ধান্তকে আরও জোরালো করে। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আমির লোলোই বলেন, তাদের বিতরণকেন্দ্রগুলো তখন প্রায় উপচে পড়ছিল। পরবর্তী সময়ের ঘটনাপ্রবাহে এই সিদ্ধান্ত দূরদর্শী প্রমাণিত হয়।

বিশ্বজুড়ে শুল্কের চাপ
গত বছরের এপ্রিল থেকে বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ শুরু হলে লোলোইয়ের মতো আমদানিনির্ভর কোম্পানিগুলো সরাসরি চাপে পড়ে। ভারত, তুরস্কসহ যেসব দেশে তাদের কার্পেট তৈরি হয়, সেসব উৎসেই দ্বিগুণ অঙ্কের শুল্ক বসে। ফলে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে কোম্পানির শুল্ক ব্যয় প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়ে যায় এবং কিছু নতুন পণ্যের পরিকল্পনাও স্থগিত করতে হয়।

তবু তুলনামূলক সুবিধা
কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও লোলোই মনে করে ক্ষতি আরও বেশি হতে পারত। ভারতের নির্মাতাদের সঙ্গে অনুকূল চুক্তি এবং শুল্ক আরোপের আগের মজুত—এই দুই কারণে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয় এবং গ্রাহকদের ওপর বড় মূল্যবৃদ্ধির চাপ পড়েনি। কোম্পানির অন্যতম পরিচালক স্টিভেন লোলোই জানান, প্রতিযোগীদের তুলনায় তারা এখনও কিছুটা ভালো অবস্থানে আছে।

3,108 Carpet Manufacturing Stock Photos - Free & Royalty-Free Stock Photos  from Dreamstime

অর্থনীতিতে সীমিত প্রভাব
ট্রাম্পের শুল্ক নীতির সামগ্রিক প্রভাব অনেক অর্থনীতিবিদের আশঙ্কার তুলনায় কম ছিল। কিছু পণ্যের দাম বাড়লেও তা অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছায়নি। নির্মাণখাতে উত্থান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানির নীরব কৌশলও খুচরা দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।

উৎপাদন সরানোর সীমাবদ্ধতা
লোলোই সহজে কম শুল্কের দেশে উৎপাদন সরাতে পারেনি, কারণ তাদের অনেক কার্পেট তৈরিতে ভারতের বিশেষ কারিগরি তাঁত ও দক্ষ বয়নশিল্পীর প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন শুরু করাও তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব ছিল না—প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত শ্রমিকের অভাবের কারণে।

ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্কে ধাক্কা
আগস্টে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তখন কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা দ্রুত ভারতে গিয়ে উৎপাদন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। হাতে গাঁথা কার্পেট তৈরি করা ঐতিহ্যবাহী কারিগররা কাজ ছেড়ে দিলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। তাই লোলোই অর্ডার চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিনিময়ে কিছু মূল্যছাড় পায়, যা অতিরিক্ত শুল্কের চাপ আংশিক কমায়।

সীমিত মূল্যবৃদ্ধি ও আইনি অনিশ্চয়তা
গত বছর খুচরা ও নকশা-গ্রাহকদের জন্য মূল্যবৃদ্ধি সাধারণত ৩ থেকে ১৭ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, যদিও এতে মুনাফা কিছুটা কমে। একই সময়ে সুপ্রিম কোর্টে শুল্কের বৈধতা নিয়ে মামলার রায় কোম্পানিসহ পুরো শিল্পখাতের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। রায় সরকারের বিপক্ষে গেলে সংগৃহীত বিপুল শুল্কের একটি অংশ ফেরত দিতে হতে পারে।

নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে
শুল্ক-পূর্ব মজুত এখন দ্রুত কমছে। সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিতে কিছু শুল্ক কমার সম্ভাবনা থাকলেও ভবিষ্যৎ নীতির অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। একই সঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে ক্রমশ সস্তা কার্পেটের প্রতিযোগিতা এবং কেনাকাটায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব—এই নতুন প্রশ্নগুলো নিয়েই এখন ভাবছে লোলোই।

স্টিভেন লোলোইয়ের ভাষায়, পণ্যের প্রাথমিক উৎপাদন খরচ নয়, বরং শুল্ক-পরবর্তী প্রকৃত ব্যয়ই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ খানের পদত্যাগ ঘোষণা, নির্বাচনের আগে নতুন আলোচনা

মজুত কৌশলে টিকে থাকা কার্পেট নির্মাতা, কিন্তু কমে আসছে পুরোনো ভাণ্ডার

০৬:৪১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসভিত্তিক পারিবারিক কার্পেট ও টেক্সটাইল কোম্পানি লোলোই রাগস গত বছরের কঠোর শুল্ক নীতির ধাক্কা সামাল দিতে আগেভাগেই বড় পরিমাণ পণ্য আমদানি করে মজুত গড়ে তুলেছিল। সেই কৌশল কোম্পানিটিকে কঠিন সময় পার হতে সাহায্য করলেও এখন ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে সেই পুরোনো মজুত।

শুল্কের আগেই প্রস্তুতি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার আগেই লোলোই ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির কথা ভেবে গুদামভর্তি পণ্য সংগ্রহ শুরু করে। সম্ভাব্য উচ্চ আমদানি করের আশঙ্কা তাদের এই সিদ্ধান্তকে আরও জোরালো করে। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আমির লোলোই বলেন, তাদের বিতরণকেন্দ্রগুলো তখন প্রায় উপচে পড়ছিল। পরবর্তী সময়ের ঘটনাপ্রবাহে এই সিদ্ধান্ত দূরদর্শী প্রমাণিত হয়।

বিশ্বজুড়ে শুল্কের চাপ
গত বছরের এপ্রিল থেকে বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ শুরু হলে লোলোইয়ের মতো আমদানিনির্ভর কোম্পানিগুলো সরাসরি চাপে পড়ে। ভারত, তুরস্কসহ যেসব দেশে তাদের কার্পেট তৈরি হয়, সেসব উৎসেই দ্বিগুণ অঙ্কের শুল্ক বসে। ফলে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে কোম্পানির শুল্ক ব্যয় প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়ে যায় এবং কিছু নতুন পণ্যের পরিকল্পনাও স্থগিত করতে হয়।

তবু তুলনামূলক সুবিধা
কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও লোলোই মনে করে ক্ষতি আরও বেশি হতে পারত। ভারতের নির্মাতাদের সঙ্গে অনুকূল চুক্তি এবং শুল্ক আরোপের আগের মজুত—এই দুই কারণে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয় এবং গ্রাহকদের ওপর বড় মূল্যবৃদ্ধির চাপ পড়েনি। কোম্পানির অন্যতম পরিচালক স্টিভেন লোলোই জানান, প্রতিযোগীদের তুলনায় তারা এখনও কিছুটা ভালো অবস্থানে আছে।

3,108 Carpet Manufacturing Stock Photos - Free & Royalty-Free Stock Photos  from Dreamstime

অর্থনীতিতে সীমিত প্রভাব
ট্রাম্পের শুল্ক নীতির সামগ্রিক প্রভাব অনেক অর্থনীতিবিদের আশঙ্কার তুলনায় কম ছিল। কিছু পণ্যের দাম বাড়লেও তা অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছায়নি। নির্মাণখাতে উত্থান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানির নীরব কৌশলও খুচরা দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।

উৎপাদন সরানোর সীমাবদ্ধতা
লোলোই সহজে কম শুল্কের দেশে উৎপাদন সরাতে পারেনি, কারণ তাদের অনেক কার্পেট তৈরিতে ভারতের বিশেষ কারিগরি তাঁত ও দক্ষ বয়নশিল্পীর প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন শুরু করাও তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব ছিল না—প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত শ্রমিকের অভাবের কারণে।

ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্কে ধাক্কা
আগস্টে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তখন কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা দ্রুত ভারতে গিয়ে উৎপাদন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। হাতে গাঁথা কার্পেট তৈরি করা ঐতিহ্যবাহী কারিগররা কাজ ছেড়ে দিলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। তাই লোলোই অর্ডার চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিনিময়ে কিছু মূল্যছাড় পায়, যা অতিরিক্ত শুল্কের চাপ আংশিক কমায়।

সীমিত মূল্যবৃদ্ধি ও আইনি অনিশ্চয়তা
গত বছর খুচরা ও নকশা-গ্রাহকদের জন্য মূল্যবৃদ্ধি সাধারণত ৩ থেকে ১৭ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, যদিও এতে মুনাফা কিছুটা কমে। একই সময়ে সুপ্রিম কোর্টে শুল্কের বৈধতা নিয়ে মামলার রায় কোম্পানিসহ পুরো শিল্পখাতের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। রায় সরকারের বিপক্ষে গেলে সংগৃহীত বিপুল শুল্কের একটি অংশ ফেরত দিতে হতে পারে।

নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে
শুল্ক-পূর্ব মজুত এখন দ্রুত কমছে। সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিতে কিছু শুল্ক কমার সম্ভাবনা থাকলেও ভবিষ্যৎ নীতির অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। একই সঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে ক্রমশ সস্তা কার্পেটের প্রতিযোগিতা এবং কেনাকাটায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব—এই নতুন প্রশ্নগুলো নিয়েই এখন ভাবছে লোলোই।

স্টিভেন লোলোইয়ের ভাষায়, পণ্যের প্রাথমিক উৎপাদন খরচ নয়, বরং শুল্ক-পরবর্তী প্রকৃত ব্যয়ই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।