০৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আর নেই শহর শুধু ঘুমানোর জায়গা নয়: মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কেন্দ্র করেই নগর পরিকল্পনা হওয়া উচিত মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ, বাধ্যতামূলক হচ্ছে বয়স যাচাই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ, শপথ নিলেন ৩৫ নতুন মন্ত্রী কোরিয়ার অর্থনৈতিক সাফল্যের আড়ালে বাড়ছে বৈষম্যের নতুন রেখা পাকিস্তানে কৌশলগত তেল মজুতের পরিকল্পনা, ইরান সংকটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্যোগ পাকিস্তানের ব্যাংক জাতীয়করণের অন্যতম কারণ ছিল বাংলাদেশ সৃষ্টির ফলে সম্পদের উৎস হারানো কুয়েতে ইরানের হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের চট্টগ্রামের হোটেলে রহস্যজনক মৃত্যু, কক্ষে মিলল দম্পতির মরদেহ

সংবিধানবিরোধী নির্বাচনের অভিযোগে ভোট বর্জনের ডাক ৭০৭ আইনজীবীর

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সরাসরি সংবিধানবিরোধী ও অবৈধ রাজনৈতিক আয়োজন হিসেবে আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের ৭০৭ জন আইনজীবী। তাঁদের মতে, এটি প্রকৃত অর্থে কোনো প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন নয়; বরং ক্ষমতাকে জোরপূর্বক বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার পরিকল্পিতভাবে উপেক্ষিত হয়েছে।

নিরপেক্ষ পরিবেশের অনুপস্থিতি

এক যৌথ বিবৃতিতে আইনজীবীরা বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে ন্যূনতম শর্তগুলো প্রয়োজন—নিরপেক্ষ প্রশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সমতার সুযোগ—বর্তমান পরিস্থিতিতে তার কোনোটিই বিদ্যমান নেই। রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে নির্বাচনী ক্ষেত্র আগেই একতরফা করে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

বিরোধীদের দমন-পীড়নের অভিযোগ

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমনে মামলা, গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনিক চাপকে নিয়মিত কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া মানে সংবিধান লঙ্ঘনের সঙ্গে আপস করা এবং অন্যায় প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়ার শামিল বলে মনে করেন তাঁরা।

জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই ভোটার নয়, বয়স হতে হবে ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব |  শিরোনাম | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

ভোট বর্জনকে সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে দাবি

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোট বর্জন কোনো রাষ্ট্রবিরোধী পদক্ষেপ নয়; বরং সংবিধান, গণতন্ত্র এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্ব। ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তাঁরা বলেন, জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো ক্ষমতাই দীর্ঘস্থায়ী হয় না এবং ভীতিকর পরিবেশে আয়োজিত নির্বাচন কখনো প্রকৃত গণরায় প্রতিফলিত করতে পারে না।

নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভয়, সহিংসতা, মিথ্যা মামলা, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং একতরফাভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহারের কারণে জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা না রেখে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারীর মতো আচরণ করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

ভোটার তালিকা ও ডাকযোগে ব্যালট নিয়ে সংশয়

আইনজীবীরা দাবি করেন, ভোটার তালিকা যথাযথভাবে হালনাগাদ করা হয়নি এবং এতে ভুয়া ও মৃত ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করছে। পাশাপাশি ডাকযোগে ব্যালট ব্যবস্থায় আগাম কারসাজি ও অনিয়মের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়।

উপজেলা নির্বাচন অফিস

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ

উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত ছাড়াই নির্বাচন এগিয়ে নেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা শুধু প্রশ্নের মুখেই নয়, বরং সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় অবস্থানের আহ্বান

বিবৃতির শেষাংশে জনগণকে ‘প্রহসনমূলক নির্বাচনী আয়োজন’ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে আইনজীবীরা বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অবৈধ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় অবস্থান নেওয়া জরুরি। তাঁরা সহিংসতার বিরোধিতা করলেও অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার পথ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

এই অবস্থানের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন সুপ্রিম কোর্টের ৭০৭ জন আইনজীবী, যাঁদের নামের পূর্ণ তালিকা সংশ্লিষ্ট বিবৃতিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আর নেই

সংবিধানবিরোধী নির্বাচনের অভিযোগে ভোট বর্জনের ডাক ৭০৭ আইনজীবীর

০১:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সরাসরি সংবিধানবিরোধী ও অবৈধ রাজনৈতিক আয়োজন হিসেবে আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের ৭০৭ জন আইনজীবী। তাঁদের মতে, এটি প্রকৃত অর্থে কোনো প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন নয়; বরং ক্ষমতাকে জোরপূর্বক বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার পরিকল্পিতভাবে উপেক্ষিত হয়েছে।

নিরপেক্ষ পরিবেশের অনুপস্থিতি

এক যৌথ বিবৃতিতে আইনজীবীরা বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে ন্যূনতম শর্তগুলো প্রয়োজন—নিরপেক্ষ প্রশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সমতার সুযোগ—বর্তমান পরিস্থিতিতে তার কোনোটিই বিদ্যমান নেই। রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে নির্বাচনী ক্ষেত্র আগেই একতরফা করে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

বিরোধীদের দমন-পীড়নের অভিযোগ

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমনে মামলা, গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনিক চাপকে নিয়মিত কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া মানে সংবিধান লঙ্ঘনের সঙ্গে আপস করা এবং অন্যায় প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়ার শামিল বলে মনে করেন তাঁরা।

জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই ভোটার নয়, বয়স হতে হবে ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব |  শিরোনাম | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

ভোট বর্জনকে সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে দাবি

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোট বর্জন কোনো রাষ্ট্রবিরোধী পদক্ষেপ নয়; বরং সংবিধান, গণতন্ত্র এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্ব। ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তাঁরা বলেন, জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো ক্ষমতাই দীর্ঘস্থায়ী হয় না এবং ভীতিকর পরিবেশে আয়োজিত নির্বাচন কখনো প্রকৃত গণরায় প্রতিফলিত করতে পারে না।

নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভয়, সহিংসতা, মিথ্যা মামলা, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং একতরফাভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহারের কারণে জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা না রেখে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারীর মতো আচরণ করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

ভোটার তালিকা ও ডাকযোগে ব্যালট নিয়ে সংশয়

আইনজীবীরা দাবি করেন, ভোটার তালিকা যথাযথভাবে হালনাগাদ করা হয়নি এবং এতে ভুয়া ও মৃত ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করছে। পাশাপাশি ডাকযোগে ব্যালট ব্যবস্থায় আগাম কারসাজি ও অনিয়মের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়।

উপজেলা নির্বাচন অফিস

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ

উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত ছাড়াই নির্বাচন এগিয়ে নেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা শুধু প্রশ্নের মুখেই নয়, বরং সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় অবস্থানের আহ্বান

বিবৃতির শেষাংশে জনগণকে ‘প্রহসনমূলক নির্বাচনী আয়োজন’ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে আইনজীবীরা বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অবৈধ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় অবস্থান নেওয়া জরুরি। তাঁরা সহিংসতার বিরোধিতা করলেও অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার পথ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

এই অবস্থানের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন সুপ্রিম কোর্টের ৭০৭ জন আইনজীবী, যাঁদের নামের পূর্ণ তালিকা সংশ্লিষ্ট বিবৃতিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।