সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে ফিরেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার দুই দিন পর রোববার দুপুরে তিনি সপরিবারে বঙ্গভবন ত্যাগ করেন। প্রায় তিন বছর চার মাস পর আবারও নিজের স্থায়ী বাসভবনে ফিরে গেলেন তিনি।
দুপুর আড়াইটার কিছু আগে রাষ্ট্রপতির গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ১৮টি গাড়ির বহর বঙ্গভবন থেকে বের হতে দেখা যায়। তিনি গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কের বাসায় ওঠেন। নির্ধারিত পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর আট মাস আগেই দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে তাকে।
বঙ্গভবনের সামনে ছিল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের উপস্থিতি
বঙ্গভবন ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা অবস্থান নেন। একই সঙ্গে উৎসুক মানুষও বঙ্গভবনের সামনের সড়কে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুপুর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা বাড়ানো হয়।
এদিকে পদত্যাগের পর থেকেই গুলশানের বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকে পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি ওই ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক কার্যক্রম
মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা অসুস্থতা কিংবা অনুপস্থিতির কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেই দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের সাংবিধানিক বিধান রয়েছে।
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি
পদত্যাগের পর মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য তিনি শিগগিরই সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংকক যেতে পারেন। তিনি জানান, জটিল শারীরিক সমস্যার কারণে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ এবং চিকিৎসার জন্য তাকেও সঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যক্তিগত সামগ্রী ইতোমধ্যে গুলশানের বাসায় স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি বাসভবনের পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজও শেষ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
অসুস্থতার কারণেই পদত্যাগ
শুক্রবার স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার হৃদ্যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং তিনি ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামের একটি জটিল রোগেও আক্রান্ত। এর ফলে তিনি মাঝে-মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে তাকে।
বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের দুই দিন পর গুলশানের বাসভবনে ফিরেছেন তিনি। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















