০৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
দিল্লিতে বসতে চেয়েছিল পাকিস্তানের গণপরিষদ, আপত্তিতে ভেস্তে যায় জিন্নাহর পরিকল্পনা সিঙ্গাপুরের জাতীয় দিবসের আয়োজনে মাসকটদের দুর্দান্ত নাচ, সামাজিক মাধ্যমে ঝড় সিঙ্গাপুরের ৬০ হাজার তরুণের মতামতে বদলাচ্ছে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুপ্রিম কোর্টের বাধা পেরিয়ে ফিরছে ট্রাম্পের শুল্ক, চাপে মার্কিন অর্থনীতি ও ভোক্তা সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু চুক্তি: ইরান, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে কী প্রভাব পড়তে পারে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে মার্কিন ভোটারদের, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কার আশঙ্কা পারমাণবিক ভারসাম্যের নতুন যুগ সিন্ধু পুলিশের ‘এনকাউন্টার’ কৌশল নিয়ে বিতর্ক: বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী? তাইওয়ান ঘিরে চীনের ‘ছায়া নৌবাহিনী’, একসঙ্গে হাজার মাছধরা নৌকার মহড়া জাকার্তায় পুলিশ-সেনা সংঘাত, সোনার বার ও কোটি টাকার নগদ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা

নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা

স্কেলিং আপ রিনিউএবল এনার্জি প্রকল্প বাংলাদেশের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে ৩৩৮ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ যুক্ত করেছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে অর্থায়ন নিশ্চিত করা এই প্রকল্প প্রতি বছর ৩ লাখ ৭৭ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমাতে সহায়তা করছে। নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুতের মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণেও সরাসরি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রায় শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য অর্জন করেছে। তবে এখানেই যাত্রা শেষ নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎকে আরও নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী, নবায়নযোগ্য এবং বৈচিত্র্যময় উৎসনির্ভর করা এখন সময়ের দাবি।

বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে স্কেলিং আপ রিনিউএবল এনার্জি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে ৩৩৮ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ।

এই প্রকল্পের আওতায় গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখছে।

প্রকল্পের আওতায় ফেনীর সোনাগাজীতে দেশের প্রথম ৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। নিচু উপকূলীয় এলাকায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে এমন নকশা ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে বন্যাপ্রবণ পরিস্থিতিতেও এটি কার্যকরভাবে চালু রাখা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যান্য সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পেও এই নকশা অনুসরণ করা হচ্ছে।

ছবির ক্যাপশন: সৌরপ্যানেল নিয়মিত পরিষ্কার করলে সর্বোচ্চ পরিমাণ সৌরশক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়, যা ঘরবাড়ি ও শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়তা করে।

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের উপায় -  পরিবেশ কন্ঠ

এছাড়া সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীরে ৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এই প্রকল্পে ২১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগও আকৃষ্ট হয়েছে।

প্রকল্পটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (আইডিকল)-কে ছাদভিত্তিক এবং বৃহৎ আকারের সৌর ফটোভোল্টাইক (পিভি) প্রকল্পের জন্য রিনিউএবল এনার্জি ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি চালু করতে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)-কে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করতে এবং রুফটপ সৌরবিদ্যুতের নেট মিটারিং নীতি সম্প্রসারণে সহায়তা দিয়েছে।

দেশের শিল্পকারখানাগুলোও এখন ক্রমেই রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। এতে বিদ্যুৎ ব্যয় কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের শর্ত পূরণ করাও সহজ হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে প্রতি বছর ৩ লাখ ৭৭ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রকল্পটি স্থানীয় জনগণের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাত সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের ভিত্তিও গড়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লিতে বসতে চেয়েছিল পাকিস্তানের গণপরিষদ, আপত্তিতে ভেস্তে যায় জিন্নাহর পরিকল্পনা

নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা

০৫:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

স্কেলিং আপ রিনিউএবল এনার্জি প্রকল্প বাংলাদেশের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে ৩৩৮ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ যুক্ত করেছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে অর্থায়ন নিশ্চিত করা এই প্রকল্প প্রতি বছর ৩ লাখ ৭৭ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমাতে সহায়তা করছে। নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুতের মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণেও সরাসরি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রায় শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য অর্জন করেছে। তবে এখানেই যাত্রা শেষ নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎকে আরও নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী, নবায়নযোগ্য এবং বৈচিত্র্যময় উৎসনির্ভর করা এখন সময়ের দাবি।

বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে স্কেলিং আপ রিনিউএবল এনার্জি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে ৩৩৮ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ।

এই প্রকল্পের আওতায় গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখছে।

প্রকল্পের আওতায় ফেনীর সোনাগাজীতে দেশের প্রথম ৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। নিচু উপকূলীয় এলাকায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে এমন নকশা ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে বন্যাপ্রবণ পরিস্থিতিতেও এটি কার্যকরভাবে চালু রাখা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যান্য সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পেও এই নকশা অনুসরণ করা হচ্ছে।

ছবির ক্যাপশন: সৌরপ্যানেল নিয়মিত পরিষ্কার করলে সর্বোচ্চ পরিমাণ সৌরশক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়, যা ঘরবাড়ি ও শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়তা করে।

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের উপায় -  পরিবেশ কন্ঠ

এছাড়া সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীরে ৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এই প্রকল্পে ২১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগও আকৃষ্ট হয়েছে।

প্রকল্পটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (আইডিকল)-কে ছাদভিত্তিক এবং বৃহৎ আকারের সৌর ফটোভোল্টাইক (পিভি) প্রকল্পের জন্য রিনিউএবল এনার্জি ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি চালু করতে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)-কে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করতে এবং রুফটপ সৌরবিদ্যুতের নেট মিটারিং নীতি সম্প্রসারণে সহায়তা দিয়েছে।

দেশের শিল্পকারখানাগুলোও এখন ক্রমেই রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। এতে বিদ্যুৎ ব্যয় কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের শর্ত পূরণ করাও সহজ হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে প্রতি বছর ৩ লাখ ৭৭ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রকল্পটি স্থানীয় জনগণের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাত সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের ভিত্তিও গড়ে উঠছে।