নোয়াখালী-৫ আসনের নির্বাচনি সমাবেশে দলীয় প্রার্থীর যোগ্যতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলে উত্তেজনার মুখে পড়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। বক্তব্যের একপর্যায়ে তার হাত থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া হলে তিনি দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার সময় ও স্থান
সোমবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের বাল্লাকোট্টা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্বাচনি প্রচারের শেষ দিনে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি সেখানে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তব্য ও উত্তেজনা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অতিথি হিসেবে সমাবেশে উপস্থিত হন জেলা বিএনপির সদস্য হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। তাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হলে তিনি বলেন, এই আসনে তিনি নিজেও মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু কেন পাননি তা জানেন না। একই সঙ্গে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তার কোনো যোগ্যতাই নেই বলে মন্তব্য করেন।
এই বক্তব্যের পর উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে হইচই শুরু হয়। কয়েকজন তার হাত থেকে মাইক ছিনিয়ে নেয় এবং তার গাড়িতে লাগানো ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও নিরাপত্তার কারণে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তিনি।
হাসনা মওদুদের বক্তব্য
হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে ধানের শীষের প্রচারে অংশ নিতে এলাকায় গিয়েছিলেন। সমাবেশে তিনি শুধু উল্লেখ করেছিলেন যে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করেছেন এবং দল কেন তাকে মনোনয়ন দেয়নি তা তার জানা নেই। এ কথা বলার পর কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং একজন বোতল হাতে তার দিকে তেড়ে আসে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দলীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া
সমাবেশে উপস্থিত ইউনিয়ন নির্বাচন সমন্বয়ক আবু হাসান মো. নোমান বলেন, ধানের শীষের প্রচারে অংশ নিতে এসে হাসনা মওদুদ মনোনয়ন না পাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন এবং দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সমালোচনা করেন। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে তাকে নিরাপদে সেখান থেকে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
আসনের প্রার্থী ও মনোনয়ন প্রসঙ্গ
নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। একই আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদও। তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করে বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হলেও পরে দলের শীর্ষ নেতাদের অনুরোধে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















