১০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি টিকা: চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত, নাকি প্রত্যাশার আগাম উল্লাস? বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন শাবান’ অব্যাহত, নিহত আরও ৩; মোট নিহত ৮৮ বলে দাবি পাকিস্তানের বাংলাদেশ-ভারত নিরাপত্তা সংলাপ: বিমসটেক বৈঠকের ফাঁকে অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা লক্ষ্য করে ইরানের গ্রেটার তুনব দ্বীপে নতুন করে মার্কিন হামলা আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা ফিরল উদ্যোক্তাদের হাতে, বোর্ডে যুক্ত ১৪ নতুন পরিচালক ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১ বিশ্বের শীর্ষ ব্যাংকে চীনের দখল: ভারতের জন্য আসল সতর্কবার্তা কোথায়? আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল ম্যাচটি অতিরিক্ত আবেগের বোঝায় পরিণত করতে চাইছে না  ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা: ইতিহাসের ভার নয়, জয় নির্ধারণ করবে স্নায়ুর দৃঢ়তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লং মার্চ: শিক্ষা ভবন মোড়ে শিক্ষার্থীদের আটকালো পুলিশ

বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন শাবান’ অব্যাহত, নিহত আরও ৩; মোট নিহত ৮৮ বলে দাবি পাকিস্তানের

  • Sarakhon Report
  • ০৯:০০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • 2

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযান ‘অপারেশন শাবান’ অব্যাহত রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে আরও তিনজন সশস্ত্র জঙ্গি নিহত হয়েছে। এর ফলে এই অভিযানে নিহত জঙ্গির সংখ্যা বেড়ে ৮৮ জনে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

পাকিস্তান টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জুলাই থেকে বেলুচিস্তানে পরিচালিত অপারেশন শাবান এবং অন্যান্য গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ১২৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।

অভিযানের অগ্রগতি

সর্বশেষ অভিযানের পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করে বলেছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস এবং পুলিশ যৌথভাবে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় স্থল ও আকাশপথে অভিযান আরও জোরদার করেছে।

কেন শুরু হয় ‘অপারেশন শাবান’

জিয়ারাত জেলার মাঙ্গি ড্যাম পাম্পিং স্টেশনের একটি পুলিশ চৌকিতে প্রাণঘাতী হামলার পর এই অভিযান শুরু হয়। ওই হামলায় সশস্ত্র হামলাকারীরা ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে অপহরণের পর হত্যা করে। এর প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী যৌথ অভিযান শুরু করে।

বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (পিআইসিএসএস)-এর সাম্প্রতিক নিরাপত্তা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, টানা দুই মাস পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির পর মে মাসে পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির আবারও উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটে। এর প্রধান কারণ ছিল খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার বৃদ্ধি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে বেলুচিস্তান ছিল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশ। সেখানে ৭১টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা এপ্রিলের ৩৪টি হামলার তুলনায় ১০৯ শতাংশ বেশি।

একই সময়ে অপহরণের ঘটনাও বেড়েছে। মে মাসে সারা দেশে ৫৪টি অপহরণের মধ্যে ৫২টিই ঘটেছে বেলুচিস্তানে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি প্রদেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

সন্ত্রাস দমনে সরকারের অবস্থান

গত সপ্তাহে কোয়েটায় ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের প্রাদেশিক অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব যৌথভাবে একক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ওই বৈঠকে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব পক্ষকে একযোগে সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটাতে হবে।

এর একদিন আগে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী সাম্প্রতিক বেলুচিস্তান হামলার জন্য ভারত ও আফগানিস্তানকে দায়ী করেন। তিনি ৫ জুলাই কোয়েটার উপকণ্ঠে হামলা, ৬ জুলাই জিয়ারাতের পুলিশ পোস্টে হামলা এবং ৭ জুলাই বেলায় সেনা কনভয়ে হামলাসহ তিনটি বড় ঘটনার উল্লেখ করেন।

জিয়ারাতে বিক্ষোভ অব্যাহত

মাঙ্গি ড্যাম হামলায় নিহত পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবিতে জিয়ারাতে চলমান অবস্থান কর্মসূচি মঙ্গলবার ষষ্ঠ দিনে গড়ায়। নিহত সাত পুলিশ সদস্যের মরদেহ তখনও দাফন করা হয়নি।

সরকার ও আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতা হয়নি। তবে প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল্লাহ লাঙ্গোভে জানান, সরকার নিহতদের পরিবারের বেশিরভাগ দাবি মেনে নিয়েছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তও রয়েছে। তিনি নিহতদের স্বজনদের মরদেহ দাফনের আহ্বান জানান।

বিক্ষোভে নিহত পুলিশ সদস্যদের স্বজন, রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

#বেলুচিস্তান #অপারেশনশাবান #পাকিস্তান #সন্ত্রাসবাদ #নিরাপত্তা #শাহবাজশরিফ #জিয়ারাত #সারাক্ষণ

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি টিকা: চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত, নাকি প্রত্যাশার আগাম উল্লাস?

বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন শাবান’ অব্যাহত, নিহত আরও ৩; মোট নিহত ৮৮ বলে দাবি পাকিস্তানের

০৯:০০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযান ‘অপারেশন শাবান’ অব্যাহত রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে আরও তিনজন সশস্ত্র জঙ্গি নিহত হয়েছে। এর ফলে এই অভিযানে নিহত জঙ্গির সংখ্যা বেড়ে ৮৮ জনে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

পাকিস্তান টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জুলাই থেকে বেলুচিস্তানে পরিচালিত অপারেশন শাবান এবং অন্যান্য গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ১২৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।

অভিযানের অগ্রগতি

সর্বশেষ অভিযানের পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করে বলেছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস এবং পুলিশ যৌথভাবে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় স্থল ও আকাশপথে অভিযান আরও জোরদার করেছে।

কেন শুরু হয় ‘অপারেশন শাবান’

জিয়ারাত জেলার মাঙ্গি ড্যাম পাম্পিং স্টেশনের একটি পুলিশ চৌকিতে প্রাণঘাতী হামলার পর এই অভিযান শুরু হয়। ওই হামলায় সশস্ত্র হামলাকারীরা ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে অপহরণের পর হত্যা করে। এর প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী যৌথ অভিযান শুরু করে।

বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (পিআইসিএসএস)-এর সাম্প্রতিক নিরাপত্তা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, টানা দুই মাস পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির পর মে মাসে পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির আবারও উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটে। এর প্রধান কারণ ছিল খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার বৃদ্ধি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে বেলুচিস্তান ছিল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশ। সেখানে ৭১টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা এপ্রিলের ৩৪টি হামলার তুলনায় ১০৯ শতাংশ বেশি।

একই সময়ে অপহরণের ঘটনাও বেড়েছে। মে মাসে সারা দেশে ৫৪টি অপহরণের মধ্যে ৫২টিই ঘটেছে বেলুচিস্তানে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি প্রদেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

সন্ত্রাস দমনে সরকারের অবস্থান

গত সপ্তাহে কোয়েটায় ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের প্রাদেশিক অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব যৌথভাবে একক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ওই বৈঠকে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব পক্ষকে একযোগে সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটাতে হবে।

এর একদিন আগে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী সাম্প্রতিক বেলুচিস্তান হামলার জন্য ভারত ও আফগানিস্তানকে দায়ী করেন। তিনি ৫ জুলাই কোয়েটার উপকণ্ঠে হামলা, ৬ জুলাই জিয়ারাতের পুলিশ পোস্টে হামলা এবং ৭ জুলাই বেলায় সেনা কনভয়ে হামলাসহ তিনটি বড় ঘটনার উল্লেখ করেন।

জিয়ারাতে বিক্ষোভ অব্যাহত

মাঙ্গি ড্যাম হামলায় নিহত পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবিতে জিয়ারাতে চলমান অবস্থান কর্মসূচি মঙ্গলবার ষষ্ঠ দিনে গড়ায়। নিহত সাত পুলিশ সদস্যের মরদেহ তখনও দাফন করা হয়নি।

সরকার ও আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতা হয়নি। তবে প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল্লাহ লাঙ্গোভে জানান, সরকার নিহতদের পরিবারের বেশিরভাগ দাবি মেনে নিয়েছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তও রয়েছে। তিনি নিহতদের স্বজনদের মরদেহ দাফনের আহ্বান জানান।

বিক্ষোভে নিহত পুলিশ সদস্যদের স্বজন, রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

#বেলুচিস্তান #অপারেশনশাবান #পাকিস্তান #সন্ত্রাসবাদ #নিরাপত্তা #শাহবাজশরিফ #জিয়ারাত #সারাক্ষণ