জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই রংপুর জেলার ছয়টি আসনে জমে উঠেছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় তাদের সংরক্ষিত ভোটই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
জামায়াতের জয়ের ইতিহাস নেই, তবু আলোচনার কেন্দ্রে
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুরে কোনো সময়ই জামায়াত সংসদীয় আসন জিততে পারেনি। ঐতিহ্যগতভাবে এখানে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রভাব বেশি। তবে এবার সমীকরণ বদলেছে। আওয়ামী লীগের ভোট কোন প্রার্থীর দিকে যাবে, সেটিই মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ত্রিমুখী লড়াইয়ের পূর্বাভাস
বিশ্লেষকদের ধারণা, বিভিন্ন আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। যে প্রার্থী আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত ভোট নিজের দিকে টানতে পারবেন, তিনিই বাড়তি সুবিধা পাবেন।

রংপুর-১ এ জাতীয় পার্টির ভোটব্যাংক নির্ণায়ক
গঙ্গাচড়া ও রংপুর সিটির অংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই দেখা যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের পর সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে। দীর্ঘদিনের জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হওয়ায় দলটির ভোট ও আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত ভোট ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
রংপুর-২ এ ত্রিমুখী সংঘর্ষ
বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ আসনে সাবেক সাংসদসহ তিন প্রধান দলের প্রার্থীরা সক্রিয়। অতীতে জামায়াত জিততে না পারলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করছেন ভোটাররা। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ তাদের ক্ষতি করতে পারে, আর আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত ভোট পেলে জাতীয় পার্টি সুবিধায় থাকতে পারে।
রংপুর-৩ এ সংরক্ষিত ভোটই ফয়সালা করবে
সদর আসনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতার মুখোমুখি লড়াইয়ের পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা আছে। এখানে বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগঘেঁষা ভোট শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় ঠিক করতে পারে।

রংপুর-৪ এ ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বড় ফ্যাক্টর
পীরগঞ্জ-কাউনিয়া আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী অতীত নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের অভিজ্ঞতা রাখেন। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও দলীয় ভোট তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে, যদিও বিএনপি ও অন্য দলের প্রার্থীরাও জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন।
রংপুর-৫ এ নারী ভোটার টানার চেষ্টা
এই আসনে তিন দলের প্রার্থীরা সক্রিয় প্রচার চালাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগঘেঁষা ভোটারদের লক্ষ্য করছে, আর জামায়াত নারী কর্মীদের মাধ্যমে ঘরে ঘরে প্রচার বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত ভোট জাতীয় পার্টির পক্ষে যেতে পারে, তবে জামায়াতের ঐতিহ্যগত সমর্থনও উপেক্ষণীয় নয়।

রংপুর-৬ এ এগিয়ে বিএনপি প্রার্থী
পীরগঞ্জ আসনে একাধিক দলের প্রার্থী থাকলেও স্থানীয়ভাবে বিএনপি প্রার্থীকে এগিয়ে মনে করা হচ্ছে। অতীতে জাতীয় পার্টি এখানে একাধিকবার জিতেছে, আর জামায়াতের জয়ের ইতিহাস নেই। দীর্ঘদিনের স্থানীয় নেতৃত্ব বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে পারে।
সংরক্ষিত ভোটই শেষ কথা
সুশাসনের জন্য নাগরিক রংপুরের এক নেতার মতে, আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত ভোট যেদিকে যাবে, শেষ পর্যন্ত বিজয়ও সেদিকেই ঝুঁকবে। ফলে রংপুরের প্রতিটি আসনেই এই ভোটব্যাংক এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















