নোয়াখালী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা নেতাকর্মী ও স্থানীয় জামায়াত-সমর্থকদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে বিক্রি হয়ে যাচ্ছেন, তাদের প্রকৃত হিসাব আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নেওয়া হবে।
দলীয় অবস্থান থেকে বিচ্যুতির অভিযোগ
সোমবার বিকেলে সোনাইমুড়ীর নাটেশ্বর ইউনিয়নের আবুল খায়ের উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় ফারুক অভিযোগ করেন, বিএনপির বহিষ্কৃত কিছু নেতা এবং জামায়াতের একটি অংশ ধানের শীষের পরিবর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাপ-পিরিচ প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, যারা একসময় বিএনপির রাজনীতি করেছেন এবং বর্তমানে বহিষ্কৃত অবস্থায় আছেন, তাদের উচিত ছিল ক্ষমা চেয়ে দলীয় প্রতীকের পক্ষে কাজ করা। কিন্তু তারা তা না করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

আদর্শ ও ভোটের প্রশ্নে সতর্কবার্তা
ফারুক বলেন, যাদের অন্তরে ধানের শীষের আদর্শ রয়েছে অথচ ভোটের সময় অন্য প্রতীকের সমর্থন দিচ্ছেন, তাদের এই কাজ সৃষ্টিকর্তাও ক্ষমা করবেন না। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার না করে জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
হামলার অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
নির্বাচনী প্রচারের সময় নিজের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, সেনবাগের সাধারণ মানুষ এতে জড়িত নয়; বরং কুমিল্লার লাকসাম ও ফেনীর দাগনভূঞা থেকে আনা ২২ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী এই নাশকতা ঘটিয়েছে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার নেতাকর্মী রাজপথে নামলেও তিনি তাদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, নেতাকর্মীদের রক্ষায় নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত এবং সন্ত্রাসের জবাব ভোটের মাধ্যমেই দিতে চান।

নির্বাচন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা
বক্তব্যের শেষাংশে জয়নুল আবদিন ফারুক দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক সারা দেশে ২৮০টি আসনে জয় পাবে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন, তারা কখনো ধানের শীষের বাইরে অন্য কোনো প্রতীকে ভোট দিতে পারেন না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















