জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত পাল্টা শুল্কসংক্রান্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক এক শতাংশ কমে উনিশ শতাংশে নেমেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি বাংলাদেশের পোশাক দেশটির বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, যা রপ্তানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের প্রেক্ষাপট ও অংশগ্রহণ
ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় সকাল এগারোটায় চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্বাক্ষর কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল।

শুল্ক হ্রাস ও শুল্কমুক্ত সুবিধার প্রভাব
চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় আড়াই হাজার বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে প্রবেশের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা দিয়ে তৈরি পোশাকের শূন্য শুল্ক সুবিধা দেশের তৈরি পোশাক খাতকে নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওষুধ, মাছ ও কাগজজাত কিছু পণ্যও সুবিধার আওতায় আসতে পারে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন উচ্চতা
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই চুক্তি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াবে। আলোচনায় নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তারা মনে করছেন, শুল্ক কমার ফলে রপ্তানিকারকেরা বাড়তি সুবিধা পাবেন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ সহজ হবে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্র আগে বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও হার ছিল অনেক বেশি। ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে সেই হার কমে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে। একই সময়ে ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সমঝোতা হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রতিশ্রুতি
চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে অতিরিক্ত আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। কৃষিপণ্য, জ্বালানি, উড়োজাহাজ ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন খাতে আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শুল্ক, ডিজিটাল বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিভিন্ন শর্তও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারির পর এটি কার্যকর হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















