দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মালয়ালম বড় পর্দায় ফিরলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ভাবনা। সাসপেন্সঘন থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্র ‘অ্যানোমি: দ্য ইকুয়েশন অব ডেথ’-এর মাধ্যমে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছবিতে ভাবনার সঙ্গে রয়েছেন এক সময়ের জনপ্রিয় নায়ক রহমানসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনয়শিল্পী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট
নতুন চরিত্রে অন্ধকার যাত্রা
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মালয়ালম, তামিল, কন্নড় ও তেলুগু সিনেমায় শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে তুলেছেন ভাবনা। আবেগঘন অভিনয় ও দৃঢ় নারীচরিত্রে তিনি আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। ২০১৭ সালের এক অপহরণকাণ্ডের পর তিনি চলচ্চিত্র থেকে পাঁচ বছরের বিরতি নেন, যা পরে শিল্পে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে আইনগত পরিবর্তনের পথও তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে পর্দায় ফিরে এসে তিনি সর্বশেষ দেখা দেন একটি ভৌতিক তামিল ছবিতে।
‘অ্যানোমি’ চলচ্চিত্রে তিনি জারা ফিলিপ নামে এক ফরেনসিক বিশ্লেষকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যার জীবন আবর্তিত হয় তার ভাইকে ঘিরে। ভাই নিখোঁজ হয়ে গেলে সত্য অনুসন্ধানের তীব্রতায় তার জীবন ভেঙে পড়তে শুরু করে। চরিত্রটির গভীরতা ও গল্পের শক্তিই ভাবনাকে ছবিটি করতে রাজি করায়।

প্রথমবার প্রযোজনায় ভাবনা
এই ছবির মধ্য দিয়ে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রথমবার প্রযোজকের ভূমিকায়ও দেখা যাচ্ছে ভাবনাকে। শুটিংয়ের প্রাথমিক অংশ দেখেই তিনি ছবিটির সঙ্গে প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এতে কাজের চাপ বাড়লেও পুরো প্রক্রিয়ায় আরও গভীরভাবে যুক্ত থাকতে পারছেন বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতেও প্রযোজনা চালিয়ে যাবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত করেননি।
পরিচালকের দীর্ঘ প্রস্তুতির গল্প
পরিচালক রিয়াস মারাথ দীর্ঘ সময় ধরে নিজের প্রথম পরিচালনা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রায় এক দশকের পরিকল্পনার পর নির্মিত এই চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু হয় ২০২৩ সালে এবং শেষ হয় ২০২৫ সালে। কোচি, কোডাইকানাল, মুম্বাই ও পোল্লাচিসহ বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং সম্পন্ন হয়েছে।
চরিত্র বাছাইয়ে আপসহীন ভাবনা
ভাবনা জানান, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি চরিত্র নির্বাচনে সতর্ক। পছন্দ হয়নি এমন কোনো চরিত্র তিনি করেননি। সময়জনিত কারণে কিছু কাজ হাতছাড়া হওয়ায় আফসোস থাকলেও তিনি বিশ্বাস করেন, যেটি হওয়ার সেটিই হয়।
২৩ বছরের যাত্রায় বদলে গেছে সাফল্যের মানে
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে উত্থান-পতন ও অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন ভাবনা। অতীতের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও এই পথচলাই তাকে গড়ে তুলেছে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে বদলে গেছে চলচ্চিত্রের ধরণ ও দর্শকের প্রত্যাশা। এখন তাঁর কাছে সাফল্যের অর্থ খ্যাতি নয়, বরং সুখী ও পরিতৃপ্ত থাকা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















