সুদানের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ এবার আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরও অস্থির করে তুলছে। প্রতিবেশী ইথিওপিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে একটি গোপন প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে সুদানের আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের হাজারো যোদ্ধাকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে একাধিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য। নতুন এই তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, সংঘাত টি ধীরে ধীরে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিগুলোকে ও টেনে নিচ্ছে।
সীমান্তঘেঁষা গোপন শিবিরের চিত্র
স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ইথিওপিয়ার বেনিশাংগুল-গুমুজ অঞ্চলের দূরবর্তী এলাকায় শত শত তাঁবু ও যাতায়াতকারী সামরিক যানসহ একটি বড় শিবির তৈরি হয়েছে। গত বছরের শেষ ভাগ থেকে সেখানে কার্যক্রম দ্রুত বেড়েছে। জানুয়ারির শুরুতে কয়েক হাজার যোদ্ধা সেখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল বলে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নথিতে উল্লেখ রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করেনি।
আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ
কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, শিবির নির্মাণে আর্থিক সহায়তা ও সামরিক প্রশিক্ষক সরবরাহের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে দেশটি যুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবু সুদানের সেনাবাহিনী আগে থেকেই আরএসএফকে অস্ত্র সহায়তার অভিযোগ তুলে আসছে, যা কিছু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আংশিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন।
গৃহযুদ্ধের বিস্তার ও মানবিক সংকট
দুই সামরিক শক্তির ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে শুরু হওয়া সুদানের যুদ্ধ দুর্ভিক্ষ, জাতিগত সহিংসতা ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির জন্ম দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। নতুন করে প্রশিক্ষিত যোদ্ধা যুক্ত হলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

কৌশলগত অবস্থান ও সামরিক প্রস্তুতি
শিবিরটি সুদান সীমান্তের কাছে কৌশলগত স্থানে স্থাপিত। কাছের আসোসা বিমানবন্দরেও নতুন অবকাঠামো ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপস্থিতি দেখা গেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি সীমান্তজুড়ে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ বাঁধের নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
সংঘাতের আঞ্চলিক ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রতিবেশী দেশগুলো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়লে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে শুধু সুদান নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















