০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
সৌদি আরবের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৃষি সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান শেহবাজ শরিফের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ত্রিদেশীয় সামরিক মহড়া ছয় মাস ধরে আড়ালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, নেতৃত্ব নিয়ে বাড়ছে সংশয় ভবিষ্যতের ঠিকানা কি এখন চীনে? ভূরাজনীতির ঝুঁকি: কোম্পানি কি প্রস্তুত? জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে

রাশিয়ার সামরিক শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপে সতর্কবার্তা

ইউরোপে সামরিক ভারসাম্য বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে রাশিয়া দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে এস্তোনিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা। তবে চলতি বছর বা আগামী বছরে ন্যাটো সদস্য কোনো দেশের ওপর সরাসরি হামলার পরিকল্পনা মস্কোর নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও ইউরোপ যখন নিজস্ব প্রতিরক্ষা জোরদারে এগোচ্ছে, তখন রাশিয়া সমান্তরালভাবে নিজেদের শক্তি পুনর্গঠনে তৎপর হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউরোপের পুনরায় অস্ত্রসজ্জা নিয়ে রাশিয়ার উদ্বেগ

এস্তোনিয়ার গোয়েন্দা প্রধানের মতে, ইউরোপ যদি প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়ায়, তাহলে ভবিষ্যতে ন্যাটোর বিরুদ্ধে জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই—এমন উপলব্ধিতে পৌঁছাতে পারে রাশিয়া। কিন্তু মস্কোর বর্তমান কৌশল হলো ইউরোপের এই সামরিক প্রস্তুতিকে বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত করা। গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, কয়েক বছরের মধ্যেই ইউরোপ স্বাধীনভাবে সামরিক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে—এই আশঙ্কাই রাশিয়াকে দ্রুত প্রস্তুতিতে ঠেলে দিচ্ছে।

Estonian Chief of Foreign Intelligence Service Kaupo Rosin speaks during interview in Tallinn

গোলাবারুদ উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতি

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়ায় গোলাবারুদ উৎপাদন এত দ্রুত বাড়ছে যে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ অব্যাহত রেখেও ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য বড় মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সম্ভাব্য কোনো হামলার ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—সব ক্ষেত্রেই একযোগে পরিচালিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ও কৌশলগত অবস্থান

এস্তোনিয়ার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ক্রেমলিন এখনও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধান বৈশ্বিক প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখে। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে সহযোগিতার ইঙ্গিত দেওয়ার কৌশল ও অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের ফলাফলকে নিজেদের পক্ষে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তথাকথিত সম্পর্ক উষ্ণতার আড়ালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোকে প্রান্তিক করা এবং ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে।

চিন ও রাশিয়ার মধ্যে আর্কটিক অঞ্চলে একটি বিকাশমান অংশীদারি

চীন–রাশিয়া ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ

প্রতিবেদন বলছে, পশ্চিমা শক্তিকে দুর্বল করতে চীন রাশিয়াকে কার্যকর অংশীদার হিসেবে দেখছে। সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বা সামুদ্রিক অবরোধের পরিস্থিতিতে জ্বালানি উৎস হিসেবেও মস্কোর ওপর নির্ভরতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সামরিক প্রযুক্তি গবেষণায় দুই দেশের সহযোগিতাও বাড়ছে। ফলে রাশিয়াকে দেওয়া যেকোনো ছাড় শেষ পর্যন্ত চীনের বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ও শক্তিশালী করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৃষি সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান শেহবাজ শরিফের

রাশিয়ার সামরিক শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপে সতর্কবার্তা

১২:৫০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউরোপে সামরিক ভারসাম্য বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে রাশিয়া দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে এস্তোনিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা। তবে চলতি বছর বা আগামী বছরে ন্যাটো সদস্য কোনো দেশের ওপর সরাসরি হামলার পরিকল্পনা মস্কোর নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও ইউরোপ যখন নিজস্ব প্রতিরক্ষা জোরদারে এগোচ্ছে, তখন রাশিয়া সমান্তরালভাবে নিজেদের শক্তি পুনর্গঠনে তৎপর হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউরোপের পুনরায় অস্ত্রসজ্জা নিয়ে রাশিয়ার উদ্বেগ

এস্তোনিয়ার গোয়েন্দা প্রধানের মতে, ইউরোপ যদি প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়ায়, তাহলে ভবিষ্যতে ন্যাটোর বিরুদ্ধে জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই—এমন উপলব্ধিতে পৌঁছাতে পারে রাশিয়া। কিন্তু মস্কোর বর্তমান কৌশল হলো ইউরোপের এই সামরিক প্রস্তুতিকে বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত করা। গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, কয়েক বছরের মধ্যেই ইউরোপ স্বাধীনভাবে সামরিক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে—এই আশঙ্কাই রাশিয়াকে দ্রুত প্রস্তুতিতে ঠেলে দিচ্ছে।

Estonian Chief of Foreign Intelligence Service Kaupo Rosin speaks during interview in Tallinn

গোলাবারুদ উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতি

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়ায় গোলাবারুদ উৎপাদন এত দ্রুত বাড়ছে যে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ অব্যাহত রেখেও ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য বড় মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সম্ভাব্য কোনো হামলার ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—সব ক্ষেত্রেই একযোগে পরিচালিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ও কৌশলগত অবস্থান

এস্তোনিয়ার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ক্রেমলিন এখনও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধান বৈশ্বিক প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখে। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে সহযোগিতার ইঙ্গিত দেওয়ার কৌশল ও অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের ফলাফলকে নিজেদের পক্ষে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তথাকথিত সম্পর্ক উষ্ণতার আড়ালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোকে প্রান্তিক করা এবং ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে।

চিন ও রাশিয়ার মধ্যে আর্কটিক অঞ্চলে একটি বিকাশমান অংশীদারি

চীন–রাশিয়া ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ

প্রতিবেদন বলছে, পশ্চিমা শক্তিকে দুর্বল করতে চীন রাশিয়াকে কার্যকর অংশীদার হিসেবে দেখছে। সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বা সামুদ্রিক অবরোধের পরিস্থিতিতে জ্বালানি উৎস হিসেবেও মস্কোর ওপর নির্ভরতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সামরিক প্রযুক্তি গবেষণায় দুই দেশের সহযোগিতাও বাড়ছে। ফলে রাশিয়াকে দেওয়া যেকোনো ছাড় শেষ পর্যন্ত চীনের বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ও শক্তিশালী করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।