সুদানের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত দেশটির যাযাবর জনগোষ্ঠীর জীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। একসময় উট ও গবাদিপশু নিয়ে মরুভূমি পেরিয়ে বাজার, পানির উৎস ও সবুজ চারণভূমির সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো পরিবারগুলো এখন কেন্দ্রীয় অঞ্চলের শহর আল-ওবেইদের উপকণ্ঠে আটকে পড়েছে। যুদ্ধ, দস্যুদের হামলা এবং বাড়তে থাকা জাতিগত উত্তেজনা তাদের চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।
যুদ্ধের বিস্তার ও বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢল
সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে কোটি কোটি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন অঞ্চলে, দেখা দিয়েছে দুর্ভিক্ষ ও রোগব্যাধির আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে জমির মালিকানা, পশুচারণের পথ এবং পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্কের যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য ছিল, তা ভেঙে পড়েছে। ফলে যাযাবর জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চলাচলের স্বাধীনতা হারানোর বেদনা
স্থানীয় যাযাবরদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে তারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারত এবং বিভিন্ন বাজারে কেনা বেচা করত। এখন কোনো পক্ষই তাদের গ্রহণ করছে না, নিরাপদ বাজারও নেই। প্রতিটি যাত্রাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ফলে জীবিকার পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
লুটপাটের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা
যুদ্ধের পাশাপাশি দস্যুদের তৎপরতা যাযাবরদের জন্য নতুন বিপদ তৈরি করেছে। গবাদিপশু ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে, দূরে কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করলেই হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এতে মরুভূমি নির্ভর অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা আরও ভঙ্গুর হয়ে উঠেছে।
জাতিগত উত্তেজনা ও সামাজিক বিভাজন
সংঘাতের পটভূমিতে জাতিগত বিদ্বেষ ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক বন্ধনকে দুর্বল করছে। বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ছে এবং সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঘৃণামূলক বক্তব্য দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক পুনর্মিলন ছাড়া এই সংকট কাটানো কঠিন হবে।



সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















