তাইওয়ান ইস্যুকে ঘিরে আবারও কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করল চীন। দ্বীপটির ‘পুনরেকত্রীকরণপন্থী শক্তি’কে দৃঢ় সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ‘স্বাধীনতাপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বেইজিংয়ের শীর্ষ নীতিনির্ধারক এক কর্মকর্তা। এতে করে তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাইওয়ান নীতিতে বার্ষিক বৈঠকের বার্তা
চীনের বার্ষিক তাইওয়ান বিষয়ক কর্ম সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির নেতৃত্ব জাতীয় পুনরেকত্রীকরণের লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেয়। একই সঙ্গে দ্বীপটিতে পুনরেকত্রীকরণ পন্থী শক্তিকে সমর্থন, স্বাধীনতাপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, বাইরের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ এবং প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার কথা তুলে ধরা হয়। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে এবং সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে সেই অবস্থান জোরদার করছে।

তাইপের প্রতিক্রিয়া ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন
তাইওয়ানের সরকার চীনের এই বক্তব্যকে পুরোনো অবস্থানের পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেছে। তাদের মতে, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল তাইওয়ানের জনগণেরই রয়েছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে চীন তাইওয়ানের বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামো বিলুপ্ত করে একীভূতকরণ এগিয়ে নিতে চায়।
সামরিক হুঁশিয়ারি ও সম্ভাব্য সংঘাত
চীনের প্রতিরক্ষা দপ্তর আরও কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছে, তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী সংঘাত উসকে দিলে তা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে সরাসরি শক্তি প্রয়োগের উল্লেখ ছিল না, তবু চীন কখনোই সামরিক উপায় ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেনি।

‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক
হংকংয়ের আদলে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ কাঠামোর প্রস্তাব বহুদিন ধরেই দিয়ে আসছে বেইজিং, তবে তাইওয়ানের কোনো প্রধান রাজনৈতিক দলই তা সমর্থন করে না। তাইওয়ানের নেতৃত্বের দাবি, হংকংয়ে এই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর দমনমূলক প্রভাব ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন
তাইওয়ান প্রশ্নকে চীন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে এবং অন্যান্য দেশের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছে। সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায়ও এই ইস্যুকে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সময়ে বেইজিং তাইওয়ানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপে ও অনাগ্রহ দেখিয়ে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















