০৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ভারতে ই-সিগারেট নিষেধাজ্ঞা বজায়, ফিলিপ মরিসের লবিংয়ের পরেও সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিদ্যালয় সময়সূচি সমন্বয় কানাডার স্কুলে রক্তাক্ত হামলা, নিহত অন্তত ৯: স্তব্ধ জাতি, শোকে বিশ্ব ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ‘রেড লাইন’, কোনো সমঝোতা নয়: ইরান নির্বাচিত হলে আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়েই দেশ চালাতে চাই: তারেক রহমান আফগান মাটিতে জঙ্গি ছায়া, আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সতর্কবার্তা ফরিদপুর ও ঝিনাইদহে ৩ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার, সিলেটে কেন্দ্র ঘিরে উত্তেজনা ও হামলা বাইটড্যান্স-স্যামসাং যৌথ এআই চিপ পরিকল্পনা: চীনের প্রযুক্তি জগতে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুদ্ধের ক্ষত ভুলতে গাজার মেয়েদের হাতে বক্সিং গ্লাভস ভোলায় ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যালট ছিনতাই; ভোট স্থগিত দেড় ঘণ্টা, আটক ১

আফগান মাটিতে জঙ্গি ছায়া, আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সতর্কবার্তা

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষণ দলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন আবারও স্পষ্ট করে দিল, আফগানিস্তান ঘিরে জঙ্গি হুমকি শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়, তা ক্রমেই আঞ্চলিক রূপ নিচ্ছে। বহুদিন ধরেই এই প্রতিবেদনে উঠে আসছে, আফগান মাটিতে সহিংস গোষ্ঠীগুলোর জন্য এক ধরনের সহনশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ নথিতে সেই উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে।

আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে হুমকি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এখন শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও সম্ভাব্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। প্রায় দুই দশক ধরে এই গোষ্ঠীর সহিংসতায় পাকিস্তান রক্তাক্ত। হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এখন সতর্ক করা হয়েছে, সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এই জঙ্গি নেটওয়ার্ক অন্য দেশেও বিস্তার ঘটাতে পারে।

একই সঙ্গে পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত এলাকায় আইএস-খোরাসানের উপস্থিতির কথা ও উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চল গুলোতে তাদের সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আফগানিস্তানে জঙ্গি পরিবেশ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বর্তমানে আফগানিস্তানের অন্যতম বড় জঙ্গি সংগঠন। শুধু তাই নয়, কার্যত ক্ষমতায় থাকা আফগান তালিবান প্রশাসনের কাছ থেকে তারা তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা ও সহায়তা পাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

এছাড়া আল-কায়েদার সঙ্গেও তেহরিক-ই-তালেবানের সম্পর্ক জোরদারের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আল-কায়েদার সঙ্গেও কাবুলের শাসকদের সুসম্পর্ক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে আইএস-খোরাসানের বিরুদ্ধে চাপ অব্যাহত থাকলেও, তাদের কার্যকর হামলা চালানোর সক্ষমতা এখনও অটুট। ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি ইমামবাড়ায় বোমা হামলার ঘটনা সেই সক্ষমতারই রক্তাক্ত উদাহরণ।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আফগান তালিবান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে তাদের দেশে কোনও জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় নয়। কিন্তু জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কেউই এই দাবিকে সমর্থন করেনি।

সম্মিলিত কূটনৈতিক বার্তার প্রয়োজন

প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে ছড়িয়ে পড়া জঙ্গি হুমকি মোকাবিলায় অবিলম্বে সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার। পাকিস্তান ইতিমধ্যে তেহরিক-ই-তালেবানের বর্বর হামলার সবচেয়ে বড় মূল্য চুকিয়েছে। এখন যদি গোষ্ঠীটিকে থামানো না যায়, তবে অঞ্চলের অন্য দেশগুলো তাদের টার্গেটে পরিণত হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে কাবুলের প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত একক ও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া—আফগান মাটিতে সক্রিয় সহিংস গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সংযুক্তি চাইলে কাবুলকে জঙ্গি সংগঠনগুলোর লাগাম টানতে হবে।

পাকিস্তানের জন্য ও সতর্ক থাকার বিকল্প নেই। সীমান্তপথে আইএস-খোরাসান অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং দেশের ভেতরে তাদের নেটওয়ার্ক ও সহযোগীদের নিষ্ক্রিয় করা এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে ই-সিগারেট নিষেধাজ্ঞা বজায়, ফিলিপ মরিসের লবিংয়ের পরেও সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত

আফগান মাটিতে জঙ্গি ছায়া, আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সতর্কবার্তা

০৬:২৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষণ দলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন আবারও স্পষ্ট করে দিল, আফগানিস্তান ঘিরে জঙ্গি হুমকি শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়, তা ক্রমেই আঞ্চলিক রূপ নিচ্ছে। বহুদিন ধরেই এই প্রতিবেদনে উঠে আসছে, আফগান মাটিতে সহিংস গোষ্ঠীগুলোর জন্য এক ধরনের সহনশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ নথিতে সেই উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে।

আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে হুমকি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এখন শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও সম্ভাব্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। প্রায় দুই দশক ধরে এই গোষ্ঠীর সহিংসতায় পাকিস্তান রক্তাক্ত। হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এখন সতর্ক করা হয়েছে, সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এই জঙ্গি নেটওয়ার্ক অন্য দেশেও বিস্তার ঘটাতে পারে।

একই সঙ্গে পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত এলাকায় আইএস-খোরাসানের উপস্থিতির কথা ও উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চল গুলোতে তাদের সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আফগানিস্তানে জঙ্গি পরিবেশ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বর্তমানে আফগানিস্তানের অন্যতম বড় জঙ্গি সংগঠন। শুধু তাই নয়, কার্যত ক্ষমতায় থাকা আফগান তালিবান প্রশাসনের কাছ থেকে তারা তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা ও সহায়তা পাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

এছাড়া আল-কায়েদার সঙ্গেও তেহরিক-ই-তালেবানের সম্পর্ক জোরদারের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আল-কায়েদার সঙ্গেও কাবুলের শাসকদের সুসম্পর্ক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে আইএস-খোরাসানের বিরুদ্ধে চাপ অব্যাহত থাকলেও, তাদের কার্যকর হামলা চালানোর সক্ষমতা এখনও অটুট। ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি ইমামবাড়ায় বোমা হামলার ঘটনা সেই সক্ষমতারই রক্তাক্ত উদাহরণ।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আফগান তালিবান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে তাদের দেশে কোনও জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় নয়। কিন্তু জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কেউই এই দাবিকে সমর্থন করেনি।

সম্মিলিত কূটনৈতিক বার্তার প্রয়োজন

প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে ছড়িয়ে পড়া জঙ্গি হুমকি মোকাবিলায় অবিলম্বে সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার। পাকিস্তান ইতিমধ্যে তেহরিক-ই-তালেবানের বর্বর হামলার সবচেয়ে বড় মূল্য চুকিয়েছে। এখন যদি গোষ্ঠীটিকে থামানো না যায়, তবে অঞ্চলের অন্য দেশগুলো তাদের টার্গেটে পরিণত হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে কাবুলের প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত একক ও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া—আফগান মাটিতে সক্রিয় সহিংস গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সংযুক্তি চাইলে কাবুলকে জঙ্গি সংগঠনগুলোর লাগাম টানতে হবে।

পাকিস্তানের জন্য ও সতর্ক থাকার বিকল্প নেই। সীমান্তপথে আইএস-খোরাসান অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং দেশের ভেতরে তাদের নেটওয়ার্ক ও সহযোগীদের নিষ্ক্রিয় করা এখন সময়ের দাবি।