কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের একটি ছোট্ট শহরে স্কুলের ভেতর ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭ জনই শিক্ষার্থী। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন। এই ঘটনায় পুরো কানাডা শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে, নেমেছে জাতীয় শোক।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজ শহরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। জনসংখ্যা মাত্র আড়াই হাজারের মতো। পাহাড়ঘেরা শান্ত এই শহর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রূপ নেয় আতঙ্ক ও কান্নার শহরে।
হামলার বিস্তারিত চিত্র
পুলিশ জানিয়েছে, স্কুল ভবনের ভেতর ছয়জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও একজন। একই সময়ে কাছের একটি বাড়িতে আরও দুইজন নিহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রাথমিক সতর্কবার্তায় হামলাকারীকে বাদামী চুল ও পোশাক পরা এক নারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়। পরে স্কুলের ভেতর থেকেই তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, সে নিজেই নিজেকে গুলি করেছে। এখনো হামলাকারী কিংবা নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। তদন্ত চলছে, এলাকায় আরও সংশ্লিষ্ট কোনো স্থান আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বুধবার বলেন, পুরো দেশ শোকাহত। তিনি সাত দিনের জন্য জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে কানাডা একসঙ্গে দাঁড়াবে। একে অপরকে সমর্থন করবে। শোক ভাগাভাগি করবে।
তিনি আরও জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। ব্রিটেনের রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাজা বলেন, ছোট শহরে প্রত্যেক শিশু সবার পরিচিত, প্রত্যেক পরিবার প্রতিবেশী। তাই এই ক্ষতি পুরো সম্প্রদায়ের জন্য অসহনীয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিন্দা
সংযুক্ত আরব আমিরাত এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করে এমন সব ধরনের সহিংসতা, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। নিহতদের পরিবার ও কানাডা সরকারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
কানাডায় বিরল কিন্তু গভীর ক্ষত
কানাডায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি বড় হত্যাকাণ্ড ঘটলেও স্কুলে এমন হামলা তুলনামূলক বিরল। ১৯৮৯ সালে মন্ট্রিয়ালে এক বন্দুকধারীর হামলায় ১৩ জন ছাত্রী নিহত হয়েছিলেন। ২০২০ সালে নোভা স্কোটিয়ায় ২২ জন নিহত হওয়ার পর দেশটিতে দেড় হাজারের বেশি ধরনের আক্রমণাত্মক অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়।
স্থানীয় সাংবাদিক ট্রেন্ট আর্নস্ট, যার সন্তান সম্প্রতি ওই স্কুল থেকে পাস করেছে, বলেন এই ঘটনা তাদের বিশ্বাসকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি জানান, এতদিন তারা ভাবতেন এ ধরনের ঘটনা অন্য দেশে বেশি ঘটে। কিন্তু যখন নিজের শহরে এমন কিছু ঘটে, তখন সবকিছু ভেঙে পড়ে।
পুলিশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলার কমান্ডার কেন ফ্লয়েড বলেন, এটি তাদের সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও আবেগঘন দিন। তদন্ত এগিয়ে নিতে সবাই সহযোগিতা করছে।
এই মর্মান্তিক হামলা আবারও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, স্কুল নিরাপত্তা ও সহিংসতা প্রতিরোধ নিয়ে জাতীয় আলোচনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। শান্ত একটি পাহাড়ি শহর এখন শোকের ভারে নুয়ে পড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















