ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে গত বছরের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে সংকটাপন্ন তাপানুলি ওরাংওটাংয়ের অন্তত ৭ শতাংশ জনসংখ্যা বিলীন হয়ে গেছে। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৫৮টি তাপানুলি ওরাংওটাং মারা গেছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বিরল বৃহৎ বনমানুষ প্রজাতিগুলোর একটির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা।
বুধবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে সুমাত্রায় অন্তত ১,২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় তিন লাখ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো তখনই সতর্ক করেছিল যে দ্রুত বন উজাড়ের কারণে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।
বাতাং তোরু বনাঞ্চলে বড় ক্ষতি
তাপানুলি ওরাংওটাং শুধু উত্তর সুমাত্রার বাতাং তোরু বনাঞ্চলকে কেন্দ্র করে সীমিত এলাকায় বাস করে। বর্তমানে এ প্রজাতির মোট সংখ্যা প্রায় ৮০০ বলে ধারণা করা হয়।
ব্রুনাইভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বর্নিও ফিউচার্স, ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন এবং লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির যৌথ গবেষণায় পশ্চিম বাতাং তোরু বনাঞ্চলের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই অঞ্চলেই তাপানুলি ওরাংওটাংয়ের অধিকাংশ বসবাস করে।
গবেষণায় দেখা যায়, শুধু ওই পশ্চিমাঞ্চলীয় ব্লকেই অন্তত ৫৮টি ওরাংওটাং প্রাণ হারিয়েছে। তবে বনাঞ্চলের অন্য অংশগুলো জরিপের আওতায় না থাকায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন।
স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চিত্র
গবেষণার তথ্য সংগ্রহে স্যাটেলাইট চিত্র, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিশ্লেষণ এবং ওরাংওটাংয়ের অতীত জনসংখ্যার রেকর্ড ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মালাক্কা প্রণালীর আশপাশে অতিবৃষ্টির তীব্রতা ও ঘনত্ব বেড়েছে। এর ফলে তাপানুলি ওরাংওটাংয়ের আবাসস্থল আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
গবেষণার প্রধান লেখক এরিক মেইয়ার্ড জানান, প্রবল বৃষ্টিতে মাটি এতটাই স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়েছিল যে প্রাথমিক বনাঞ্চলের বহু পাহাড়ি ঢাল দ্রুতগতির ভূমিধসে ধসে পড়ে।
তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে যদি কোনো ওরাংওটাং ভূমিধসের মধ্যে পড়ে, তাহলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম থাকে। এ কারণেই বিষয়টি গবেষকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে।
সংরক্ষণ পরিকল্পনার তাগিদ
এরিক মেইয়ার্ড বলেন, এত ছোট একটি মোট জনসংখ্যার ক্ষেত্রে এই মাত্রার ক্ষতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবাসস্থল ধ্বংস, বনভূমির অবক্ষয় এবং মানুষ-প্রাণী সংঘাতের মতো বিদ্যমান সমস্যার সঙ্গে এই ক্ষতি যুক্ত হওয়ায় সমন্বিত সংরক্ষণ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজন আরও বেড়েছে।
গবেষক পানুত হাদিসিসওয়োও একই সঙ্গে সরকার, বেসরকারি সংগঠন এবং গবেষকদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, শিকার ও অবৈধ হত্যার ঘটনা কমানো গেলে প্রজাতিটির সংখ্যা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভূমি ব্যবহারের দুর্বল পরিকল্পনাও ওরাংওটাংয়ের জনসংখ্যা কমে যাওয়ার একটি কারণ। তাই সংরক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
তাপানুলি ওরাংওটাং
জলবায়ু পরিবর্তন ও বন্যায় তাপানুলি ওরাংওটাংয়ের অন্তত ৭ শতাংশ জনসংখ্যা হারিয়েছে ইন্দোনেশিয়া; সংরক্ষণে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান।
বিরল তাপানুলি ওরাংওটাংকে নতুন হুমকি। ইন্দোনেশিয়ার ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে এক বছরে হারিয়েছে অন্তত ৫৮টি প্রাণ, বলছে নতুন গবেষণা। বিস্তারিত পড়ুন।
#ইন্দোনেশিয়া #তাপানুলিওরাংওটাং #বন্যা #ভূমিধস #জলবায়ুপরিবর্তন #সুমাত্রা #বন্যপ্রাণীসংরক্ষণ #পরিবেশ #জীববৈচিত্র্য #সারাক্ষণ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 






















