তেহরানে ইসলামিক বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আজাদি টাওয়ারের সামনে জড়ো হওয়া জনতার মাঝে দাঁড়িয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা বা সমঝোতা হবে না। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন দফা সংলাপের সম্ভাবনা তৈরি হলেও এই বিষয়ে ইরানের অবস্থান অনড়।
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কঠোর বার্তা
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে আলী শামখানি বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা একটি ‘রেড লাইন’। এটি আলোচনার টেবিলে তোলা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হলেও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আপসের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।
গত সপ্তাহে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকরা পরোক্ষ বৈঠক করেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নৌ-সামরিক উপস্থিতি জোরদার করে, যা তেহরানের প্রতি চাপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের অবস্থান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান একই অনুষ্ঠানে বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অতিরিক্ত বা অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হবে না। তবে ইরান যে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রস্তুত এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবার আলোচনায় বসে। ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান আগ্রাসনের সামনে নতি স্বীকার করবে না। তবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাবে। তেহরানের আজাদি স্কোয়ারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, “আমাদের দেশ ইরান তাদের অতিরিক্ত দাবি মেনে নেবে না।”
আলোচনার পরিধি নিয়ে মতপার্থক্য
ইরান চায়, আলোচনা শুধুমাত্র পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ থাকুক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং অঞ্চলের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থনের বিষয়ও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হোক।
ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। তবে পশ্চিমা দেশগুলো ও ইসরায়েল মনে করে, তেহরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে।
বিপ্লব বার্ষিকী ও কঠোর নিরাপত্তা
১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাহ শাসনের পতনের মধ্য দিয়ে ইসলামিক বিপ্লবের সূচনা হয়। প্রতিবছর এই দিনটিতে ইরানের নেতৃত্বের সমর্থকেরা ব্যাপক সমাবেশে অংশ নেন।
এবার আজাদি স্কোয়ারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল আগের বছরের তুলনায় আরও কঠোর। মাঠজুড়ে ছিল বড় ধরনের নিরাপত্তা উপস্থিতি। হিজাব পরিহিত নারীরা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতাকা নাড়েন এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি বহন করেন।
সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক চাপ
গত মাসে ইরানে দেশব্যাপী বিক্ষোভ দেখা যায়, যার পর সরকার কঠোর দমন-পীড়ন চালায়। বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দেয়।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরান-সম্পর্কিত যেকোনো আলোচনায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে তেহরান ও ওয়াশিংটনের সংলাপ নতুন মোড় নিলেও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—এই ইস্যুতে আপসের কোনো সুযোগ নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















