মার্কিন শিপিং শিল্পে বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে। ফরাসি কোম্পানি CMA CGM, যা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম শিপিং লাইন, মার্চ ২০২৫-এ ঘোষণা করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। সেই সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই ঘোষণা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন। তবে একটি বছরেরও বেশি সময় পার হওয়া সত্ত্বেও কোম্পানির প্রতিশ্রুতির মাত্র সামান্য অংশই এসেছে।
বড় বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা
মার্কিন শিপিং শিল্প চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে শক্তিশালী করতে এখন বড় বিনিয়োগের অপেক্ষায়। এপ্রিল ২০২৫-এ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে সমুদ্রপথ নীতিমালা ঘোষণা করেছিলেন এবং উল্লেখ করেছিলেন যে, “আমরা জাহাজ নির্মাণে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে যাচ্ছি। আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।” কিন্তু পরিকল্পনা এখনও সময়মতো কার্যকর হয়নি এবং কংগ্রেস নতুন প্রণোদনা আইন প্রণয়নে ব্যর্থ হয়েছে, যা নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ।

CMA CGM-এর বিনিয়োগ কর্মসূচি
CMA CGM-এর প্রতিশ্রুত বিনিয়োগ মূলত বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে কেন্দ্রীভূত। নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং লস এঞ্জেলেসের বন্দর সম্প্রসারণে কোম্পানি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও স্টোনপিকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নতুন বন্দর বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই যৌথ উদ্যোগে কোম্পানি মার্কিন বন্দরের ২৫ শতাংশ অংশ বিক্রি করেছে, যা প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে।
আমেরিকান জাহাজে বিনিয়োগের চ্যালেঞ্জ
CMA CGM-এর পরিকল্পনা ছিল ২০টি অতিরিক্ত মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ যুক্ত করা, যা দেশীয় নাবিকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করবে। কিন্তু মার্কিন জাহাজ নির্মাণ ব্যয় এশিয়ার তুলনায় পাঁচগুণ বেশি হওয়ায় এ উদ্যোগ কার্যত আটকে গেছে। হ্যানওয়া শিপইয়ার্ডে তিনটি কন্টেইনার জাহাজের খরচ ৩৩০ মিলিয়ন ডলার, যেখানে এশিয়ান জাহাজ কিনলে মাত্র ৭৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হতো। এছাড়া মার্কিন নাবিকদের বেতন ও বীমার খরচও কোম্পানির বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে সীমিত করেছে।

বন্দর বিনিয়োগে অগ্রগতি
CMA CGM-এর বিনিয়োগের সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশ হলো বন্দর সম্প্রসারণ। লস এঞ্জেলেস এবং নিউ ইয়র্ক-বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পগুলি কোম্পানি শুরু করেছে, যা বাজারে দ্রুত লাভের সম্ভাবনা রাখে। তবে মার্কিন জাহাজ ও নাবিকের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ সীমিত থাকায় কোম্পানির মূল প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পূরণ হয়নি।
মার্কিন প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
ওয়াইট হাউস দাবি করছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশের জন্য বিপুল বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছেন। সকল অংশীদারকে তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















