বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর জন্য সতর্কবার্তার মতো অবস্থান দেখাচ্ছে ব্রাজিলের পরিস্থিতি। দেশটির অর্থনীতি কিছুটা উন্নয়নশীল হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীন, এবং মূল বাজেট প্রায় সমানভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবু ঋণের সুদের হার এতটাই বেশি যে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ প্রায় অসম্ভব। ঋণ পরিষেবা দিতে সরকারকে বার্ষিক জিডিপির প্রায় ৮% পর্যন্ত ধার নিতে হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা পুনর্নির্বাচনের প্রচারণায় ব্যয় বাড়িয়েছেন, যা বাজেটের ভারসাম্য রক্ষা করতে আরও চাপ বাড়াচ্ছে।

উচ্চ সুদের বিপদ এবং ব্রাজিলের চ্যালেঞ্জ
ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে স্বল্পমেয়াদী সুদের হার ১৫% নির্ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার প্রাথমিক বাজেট ভারসাম্য বজায় রাখলেও ঋণ বৃদ্ধি বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব। পেনশন খাতে বাজেটের ১০% ব্যয় এবং সংবিধানগত সুরক্ষা বৃদ্ধির কারণে আর্থিক সংস্কার কঠিন। ২০৫০ সালে পেনশন খরচ ধনী দেশগুলোর তুলনায় বেশি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ধনী দেশের জন্য সতর্কবার্তা
ব্রাজিলের ঋণ পরিস্থিতি ধনী দেশের বাজেটের তুলনায় আরও জটিল। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালি এখনও কম সুদে ঋণ নিতে সক্ষম। তবে যদি সুদের হার বৃদ্ধি পায়, তাতে বাজেট সমস্যাগুলি গভীর হতে পারে। বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় বাড়ছে, এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে সুদের হার নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
ব্রাজিলাইজেশন হুমকি
ব্রাজিলের উদাহরণ ধনী দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তা। আমেরিকার প্রতিষ্ঠানগুলি বর্তমানে চাপে রয়েছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা বিশ্বজুড়ে ঋণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার বৃদ্ধি হলে ধনী দেশগুলোর বাজেট সমস্যাও তুচ্ছ মনে হবে না। ব্রাজিলের মতো দেশে গভীর অঙ্কুশ বা ঋণ-বৃদ্ধির ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















