হাভানায় কিউবার একটি প্রধান তেল শোধনাগারে শুক্রবার আগুনের ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও, এটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন দেশটি তীব্র জ্বালানি সংকটে জর্জরিত। এই আগুন নতুন করে সংকটের গভীরতা ও ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এসেছে।
আগুনের ঘটনা ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি
রাজধানী হাভানার Ñico López তেল শোধনাগার থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এতে কেউ হতাহত হয়নি। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আগুনের স্থানটি হাভানা উপসাগরে নোঙর করা দুটি তেলবাহী জাহাজের কাছাকাছি হওয়ায় শুরুতে উদ্বেগ তৈরি হয়, তবে পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া হয়।

জ্বালানি সংকটের পটভূমি
কিউবা দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র জ্বালানি ঘাটতির মুখে রয়েছে। ভেনেজুয়েলা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল সরবরাহ পেত দেশটি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপের পর সেই সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে এবং কিউবায় তেল বিক্রি করা দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকিও দেয়। এর ফলে কিউবার জন্য জ্বালানির প্রধান উৎস সংকুচিত হয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার নেতৃত্বকে “সমঝোতায় আসার” আহ্বান জানান, অন্যথায় পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেন। ভেনেজুয়েলা থেকে অর্থ ও তেলের প্রবাহ বন্ধ হওয়ার পর থেকেই কিউবার অর্থনীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থা চাপে পড়ে।
সংকটের প্রভাব জনজীবনে
জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বাড়ছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ডায়ালাইসিস সেবা এবং পানি সরবরাহ পাম্পিং স্টেশনগুলোও বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমান জ্বালানির ঘাটতিও দেখা দিয়েছে, যার ফলে কয়েকটি বিমান সংস্থা কিউবাগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। কিছু দেশ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কিউবার কর্তৃপক্ষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। জনসেবা সীমিত করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন ও পর্যটন খাতে সাময়িক পরিবর্তন আনা হয়েছে। কঠোর জ্বালানি সাশ্রয় নীতি এখন দেশের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সহায়তা
সংকটের মধ্যে বৃহস্পতিবার মেক্সিকোর দুটি জাহাজ প্রায় ৮০০ টন মানবিক সহায়তা নিয়ে হাভানা উপসাগরে পৌঁছায়। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা কিউবায় তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে “একতরফা অর্থনৈতিক চাপের চরম রূপ” বলে মন্তব্য করেছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক কিউবার ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধ ১৯৬০ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ ও সাম্প্রতিক পদক্ষেপ মিলিয়ে দেশটির জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















