মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে আগামী মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একই দিনে দুটি আলাদা কূটনৈতিক বৈঠক বসতে যাচ্ছে। একটি ইরানকে ঘিরে, অন্যটি ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ ইস্যুতে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সকাল ও বিকেলে পৃথক পর্বে এসব আলোচনা হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধিদল সরাসরি অংশ নেবে।
ইরান ইস্যুতে সকালের বৈঠক
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এই আলোচনায় ওমানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করবেন।
ইরানে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান এবং মানবাধিকার প্রশ্নে চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌবাহিনীর উপস্থিতিও জোরদার করেছে, যা তেহরানের প্রতি বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে বিকেলের ত্রিপক্ষীয় আলোচনা
একই দিনে বিকেলে উইটকফ ও কুশনার রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেবেন। প্রায় চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা খুঁজতে ওয়াশিংটনের এই প্রচেষ্টা নতুন মাত্রা পাচ্ছে।
মস্কোর অভিযানের অবসান টানতে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি কিংবা অন্তত একটি প্রাথমিক সমঝোতার পথ তৈরি করাই এই বৈঠকের লক্ষ্য বলে কূটনৈতিক মহল ধারণা করছে।
একই দিনে দুই সংকট, এক কৌশল
জেনেভায় একই দিনে ইরান ও ইউক্রেন–রাশিয়া প্রশ্নে আলাদা বৈঠক আয়োজনকে অনেকে কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখছেন। এতে বোঝানো হচ্ছে, ওয়াশিংটন একযোগে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ—দুই অস্থির অঞ্চলেই সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়।
এখন নজর থাকবে মঙ্গলবারের বৈঠক থেকে কোনো অগ্রগতি আসে কি না। কারণ এই দুই ইস্যুই বৈশ্বিক রাজনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















