আমেরিকার স্টার্টআপ দৃশ্যপটে এক নতুন অধ্যায় ঊঠেছে, যেখানে প্রধান ভূমিকায় রয়েছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্যোক্তারা। কোভিড‑১৯ মহামারির পর থেকেই দেশটিতে ব্যবসা শুরু করার আবেদন রেকর্ড ভেঙেছে। ২০২৫ সালে ৫.৭ মিলিয়ন নতুন ব্যবসা খোলার আবেদন আসার পর এই প্রবাহ আরও জোরালো হয়েছে। কেন এই বিস্ফোরক প্রবণতা? এবং এর কেন্দ্রবিন্দুতে কেন দাঁড়িয়ে সংখ্যালঘু উদ্যোক্তারা?
সংখ্যালঘু উদ্যোক্তাদের উত্থান
জনসংখ্যা জরিপ ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে এখন পর্যন্ত স্বনিয়োজিত আমেরিকানদের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৪ শতাংশ থেকে ৯.৮ শতাংশে। এর মানে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন নতুন উদ্যোক্তা যুক্ত হয়েছেন অর্থনীতিতে। কিন্তু সেই পরিবর্তন প্রায়ই সাদা আমেরিকানদের মধ্যে লক্ষণীয় নয়। অন্যদিকে, কালো সম্প্রদায়ের স্বনিযুক্ত উদ্যোগকারী বাড়েছে এবং হিস্পানিক আমেরিকানদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মহামারির প্রভাব এবং সুযোগ
করোনার সময় ব্যাপক চাকরি হারানো, সরকারি উদ্দীপনা চেক, কম খরচে ঋণ নেওয়ার সুযোগ এবং বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ—এসব কারণে বহু মানুষ নতুন পথ বেছে নিতে শুরু করেছিল। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এই সুযোগটিকে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগিয়েছেন। গবেষণা দেখায়, যেখানে কালো ও হিস্পানিক জনসংখ্যা বেশি, সেই এলাকাগুলোতে নতুন ব্যবসার গতি বেশি।

জর্জ ফ্লয়েডের পরবর্তীকালের প্রেরণা
২০২০ সালে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর আমেরিকার নাগরিক সমাজে একটি সক্রিয় “রেস সচেতনতা” সৃষ্টি হয়েছিল। এই অবস্থার ফলে কালো উদ্যোক্তাদের প্রতি সমর্থন, ব্যাঙ্ক ঋণ এবং ভোক্তা প্রবণতা আরও উৎসাহিত হয়। এই সামাজিক পরিবর্তন হয়তো অনেককে নিজ উদ্যোগ শুরু করতে মনোবল দিয়েছে।
আবশ্যকতার বাস্তবতা
মহামারিতে কালো সম্প্রদায়ের কর্মহীনতা ছিল অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। বেকারদের অনেকেই নিজেরাই ব্যবসা শুরু করেছেন কারণ কাজ পাচ্ছিলেন না। এটি অনেক ক্ষেত্রেই “আবশ্যকতাজনিত উদ্যোগ” হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
পুঁজির বাধা ও সম্ভাবনার আচরণ
ঐতিহাসিকভাবে সংখ্যালঘু পরিবারগুলো পুঁজির অভাবে নতুন উদ্যোগ শুরু করতে কঠিন সময় পার করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, এই বাধা কিছুটা কাটিয়ে ওঠা শুরু হয়েছে, ফলে অনেক সম্ভাবনা আবিষ্কার হচ্ছে।
চাকরি সৃষ্টি ও সীমাবদ্ধতা
সত্ত্বেও, এই স্টার্টআপ বুম সম্ভবত খুব বেশি চাকরি সৃষ্টি করবে না। জরিপে দেখা যাচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী নতুন ফার্মগুলো মোট কর্মসংস্থানের মাত্র কম অংশ প্রদান করছে এবং এক বছরের কম বয়সী স্টার্টআপগুলোর গড় কর্মীসংখ্যাও কমে আসছে।
উদ্যোগ শুরু করার এই তীব্র প্রবণতা হয়তো অনেকের জন্য স্বপ্ন সত্যি করবে, আবার অনেকেই এর বাইরে থেকেই থাকতে পারেন। কিন্তু একথা নিশ্চিত যে — আমেরিকার উদ্যোক্তা পরিবেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রভাব আজ চোখে পড়ার মতো।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















