ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর আসন্ন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইওএন’কে (WION) এক সাক্ষাৎকারে এ উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার পর এই পদক্ষেপকে দুই দেশের স্থবির সম্পর্কের মধ্যে উষ্ণতা ফেরার সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অঞ্চলের গুরুত্ব এবং কূটনৈতিক উদ্দেশ্য
হুমায়ুন কবির জানান, “এই অঞ্চলটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতির একটি মূল অংশ এটি। আমাদের লক্ষ্য এই অঞ্চলকে প্রভাবশালী অঞ্চলে পরিণত করা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পাঠানো আমাদের জন্য অগ্রাধিকার।” তিনি উল্লেখ করেন, সময়সীমা কম হলেও পদক্ষেপের মধ্যে সদিচ্ছা রয়েছে।
তিনি বলেন, এই আমন্ত্রণকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে নেওয়া একটি শুভেচ্ছা উদ্যোগ হিসেবে দেখা যায়। “আপনি কাউকে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানালে স্বাভাবিকভাবেই তার উপস্থিতির প্রত্যাশা করবেন। এটি সদিচ্ছার প্রকাশ,” হুমায়ুন কবির মন্তব্য করেন।
বৃহত্তর কূটনৈতিক লক্ষ্য
তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতায় ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চায়। হুমায়ুন কবির বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই অঞ্চলের জন্য একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করা সম্ভব। বহুপাক্ষিক সংগঠনগুলোকে কাজে লাগিয়ে যেমন সার্ক ও বিমসটেক, আমাদের কৌশলগত সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভারতের ভূমিকা
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহল থেকে বিএনপিকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যে তারেক রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাকে “অসাধারণ বিজয়”-এর জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং একটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
যদিও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘নতুন সূচনা’-এর ইঙ্গিত মিলেছে, হুমায়ুন কবির ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার অবস্থাকে নিয়ে কিছু উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।
শপথগ্রহণের প্রস্তুতি
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় দুই দশক নির্বাসনে থাকার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে, তারেক রহমান, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















