ব্রাজিলের দক্ষিণে অবস্থিত প্রাচীন উপনিবেশিক শহর পারাতিতে কার্নিভাল মানেই সাধারণত রঙিন, উজ্জ্বল পোশাক এবং ঝকঝকে চকচকে সাজ—but এখানে এক ভিন্নরকম উৎসব দেখা যায়। পারাতির এই কার্নিভালে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের কাদায় ঢেকে ফেলে এবং সৈকতের বালি ও কাদামাটির মধ্যে ঘুরে বেড়ায়, যেন তারা এক জোটবদ্ধ মিশ্রণ।
উদ্যোক্তা চার্লস গার্সিয়া পেসোয়া, যিনি ৩৭ বছর বয়সী, বললেন, “সবার অবস্থা এক রকম… ধনীরাই হোক বা গরীব, সবাই এখানে কাদায় লাফ দিতে আসে।”
উজ্জ্বল সূর্যের নিচে কাদায় ঢাকা মানুষগুলো নাচছিল এবং প্রাগৈতিহাসিক মানুষের মতো চিৎকার করছিল — “উগা! উগা!” — সঙ্গীতজ্ঞদের সঙ্গীতের ছন্দে বালির মধ্যে পদযাত্রা করতে করতে।
ঐতিহ্যের জন্ম
পারাতির পর্যটন সাইট অনুসারে, এই অদ্ভুত রীতি শুরু হয় ১৯৮৬ সালে। জাবাকোরা সৈকতে কয়েকজন বন্ধু ম্যানগ্রোভে খেলছিলেন এবং নিজেদের চিনতে পারছিলেন না। তারা শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্রে হেঁটে গেলেন এবং আশেপাশের মানুষদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করলেন।
পরের বছর, একটি দল নিজেদের কাদায় মাখিয়ে প্রাগৈতিহাসিক উপজাতি হিসেবে কার্নিভালে অংশগ্রহণ করে। তারা খুলি, লতাপাতা এবং হাড় বহন করছিল এবং নিজস্ব ধ্বনিতে চিৎকার করছিল। এভাবেই পারাতির কাদা উৎসবের সূচনা হয়।
সময়ের সাথে সাথে এটি একটি জনপ্রিয় এবং প্রিয় রীতিতে পরিণত হয়েছে।
ভ্রমণকারী ও দর্শকের অভিজ্ঞতা
নিউজিল্যান্ডের ম্যাট ব্লুমফিল্ড, যিনি একটি চলচ্চিত্র উৎসব পরিচালনা করেন, গত বছরের অনুষ্ঠানের সংবাদ দেখে কাদা উৎসব উপভোগ করতে পারাতিতে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, “সবার সৃজনশীলতা আশ্চর্যজনক, মানুষকে লতাপাতা দিয়ে নিজেদের সাজাতে দেখার অভিজ্ঞতা অনন্য। এটি কার্নিভালের একটি চমৎকার বিকল্প রূপ।”
পারাতির কাদা কার্নিভাল শুধু মজার একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি মানুষকে সামাজিক মর্যাদা বা অর্থের পার্থক্য ভুলে একত্রিত করার একটি উৎসব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















