ইসলামাবাদে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সরকার। তবে এই ঘোষণার পরও সংসদ ভবনে বিরোধীদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, আদালতের নির্দেশ এবং রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, সরকারের ঘোষণা
পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্সমন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী সামাজিক মাধ্যমে জানান, ইমরান খানকে তার সন্তানদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়ে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর এবং একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকার মানবিকতা ও আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য, স্বাস্থ্য ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করে জাতীয় দায়িত্বশীলতা দেখানো উচিত। ভিত্তিহীন প্রচার বা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

চোখের চিকিৎসা ও বিশেষায়িত কেন্দ্র
তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার জানান, ইমরান খানের চলমান চোখের চিকিৎসা বিশেষায়িত একটি প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ চক্ষু বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে করা হবে। পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ার বিস্তারিত প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়, ইমরান খানের ডান চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট আছে। এই তথ্য প্রকাশের পরই বিরোধী শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
শিফা হাসপাতালে নেওয়ার দাবিতে অনড় বিরোধীরা
বিরোধী জোট তেহরিক তাহাফুজ আইন পাকিস্তানের চেয়ারম্যান মাহমুদ খান আচাকজাইর নেতৃত্বে পিটিআই ও তাদের মিত্ররা সংসদ ভবন ও কেপি হাউসের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের স্পষ্ট দাবি, ইমরান খানকে অবিলম্বে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে এবং মেডিক্যাল বোর্ডে তার পারিবারিক চিকিৎসককে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর আলী খান, সিনেটর আলি জাফর এবং সাবেক স্পিকার আসাদ কায়সারসহ একাধিক নেতা এই অবস্থানে অংশ নিয়েছেন। আসাদ কায়সার বলেন, ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও শিফা হাসপাতালে নেওয়ার আগ পর্যন্ত অবস্থান প্রত্যাহার হবে না।

সংসদ ‘কারাগারে’ পরিণত হওয়ার অভিযোগ
সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস অভিযোগ করেন, সংসদ ভবনকে কার্যত কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পিটিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সালমান আকরাম রাজা অভিযোগ করেন, নেতাকর্মীদের ভেতরে আটকে রাখা হয়েছে এবং খাবার পর্যন্ত প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক শেখ ওয়াকাস আকরাম।
সরকারকে সংলাপের আহ্বান
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তেহরিক তাহাফুজ আইন পাকিস্তানের নেতা মুস্তফা নওয়াজ খোকার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগে সরকারকে সংলাপে আসতে হবে। ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত ও পরিবারের সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে জানান তিনি।
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্যই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আদালতের লিখিত আদেশ ঘিরে বিতর্ক
ইমরান খানের বোন আলিমা খানুম অভিযোগ করেন, জরুরি চিকিৎসার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের লিখিত নির্দেশ এখনো দেওয়া হয়নি। তার দাবি, স্পষ্ট আদালত নির্দেশ ছাড়া দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হবে।
এদিকে পিটিআই নেতা ওমর আয়ুব খানও বলেন, প্রতিটি মুহূর্তের বিলম্ব দৃষ্টিশক্তির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা
সংসদ ভবনের ভেতর ও বাইরে টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিরোধীরা বলছে, এটি নীতিগত লড়াই। সরকার বলছে, তারা দায়িত্ব পালন করছে। তবে ইমরান খানের স্বাস্থ্য সংকট এখন পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন এক অচলাবস্থার জন্ম দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















