অ্যারিজোনার তুকসন শহরের কাতালিনা ফুথিলস এলাকায় ন্যান্সি গুথরির নিখোঁজের ঘটনা এখনো রহস্যময়। গত ১৩ দিনে তদন্তকারীরা ন্যান্সির সন্ধানে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছেন, তবু এখনও কোনো বড় প্রমাণ বা সমাধান হাতে আসেনি।
নিখোঁজের দিন ও ঘটনার বিবরণ
ন্যান্সি গুথরি ৩১ জানুয়ারি তাঁর মেয়ে অ্যানির বাড়িতে ডিনার এবং খেলা উপভোগ করার জন্য গিয়েছিলেন। রাত প্রায় ৯:৪৮ মিনিটে তিনি নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। গ্যারেজের দরজা খোলা এবং বন্ধ হতে দেখা যায়। পরের কয়েক ঘন্টায় নিরাপত্তা ক্যামেরায় দেখা যায়, মুখ ঢেকে রাখা একজন ব্যক্তি তাঁর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে। তিনি হাতে গ্লাভস পরে ক্যামেরার লেন্স ঢেকে রাখার চেষ্টা করেছেন। রাত ২:২৮ মিনিটে ন্যান্সির পেসমেকার অ্যাপ ফোনের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন দেখায়। পরের সকালে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ভার্চুয়াল চার্চ সার্ভিসে হাজির হননি।
পরিবারের সদস্যরা, মেয়ে অ্যানি এবং জামাই টমাসো, দুপুরের আগে ন্যান্সির বাড়িতে গিয়ে দেখেন তিনি নেই। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের খবর পুলিশকে জানানো হয়। শেরিফ এবং উদ্ধারকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন।
তদন্তে পুলিশ ও এফবিআই
পিমা কাউন্টি শেরিফ ক্রিস ন্যানোস বলেন, ঘটনার স্থান প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে এবং এটি একটি স্পষ্ট অপরাধের চিহ্ন। গৃহপরিবেশ পর্যালোচনার পরে কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেমন গ্লাভস এবং ছোটখাটো আইটেম, তবে বড় কোনো ফলাফল এখনও হাতে আসেনি। এফবিআই তদন্তে আরও সংযোজন করেছে এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে। তারা ফোন, সেল টাওয়ার তথ্য এবং সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
পরিবারের আকুতি ও জনসাধারণের সমর্থন
ন্যান্সির মেয়ে শাভান্না গুথরি বারবার ভিডিও বার্তায় তাঁর মাকে ঘরে ফেরানোর আকুতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা বিশ্বাস করি মা এখনো জীবিত। আমাদের মা ফিরিয়ে দিন।” পরিবার ও প্রতিবেশীরা বাড়ির সামনে ফুল, হলুদ রিবন এবং সহানুভূতির বার্তা দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত এই ঘটনার প্রতি নজর রেখেছেন।
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া
ন্যান্সির নিখোঁজ হওয়া কেবল পরিবারের জন্য নয়, পুরো দেশজুড়ে মানুষকে উদ্বিগ্ন করেছে। প্রতিদিন বহু মানুষ ফোন ও বার্তা দিয়ে পুলিশকে সাহায্যের চেষ্টা করছেন। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করছেন, আর এই ঘটনায় সবাই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
এই ঘটনা এখনও রহস্যময়। তদন্ত চলছে, কিন্তু এখনো ন্যান্সির সন্ধান মেলেনি। পরিবারের আশা আজও অটল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















