০৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মালয়েশিয়ার ই-আবর্জনা নিষেধাজ্ঞা: কি বিশ্বব্যাপী টক্সিক বর্জ্য প্রবাহ বন্ধ করতে পারবে? এবার কারাগারে মারা গেলো গাইবান্দা আওয়ামী লীগ সভাপতি অক্সিজেন ফিরে এসেছে বিশ্ব ক্রিকেটে পাকিস্তান ও ভারতের মহাযুদ্ধ সামনে মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে মার্কো রুবিও-এর আশ্বাস: যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় মিত্রদের পাশে থাকবে সুদানের এল-ফাশার হামলায় তিন দিনে অন্তত ৬,০০০ নিহত: জাতিসংঘের রিপোর্ট ওয়াশিংটনের ১০০ বছরের পুরনো পাবলিক গলফ কোর্সের সংস্কার বন্ধে মামলা দায়ের ওয়াদারিং হাইটস: সাহসী চেষ্টা কিন্তু অগভীর রূপান্তর পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরীক্ষা মায়ানমারে ৩০ মিনিটের ব্যবধানে দুইটি ৩.২ মাত্রার ভূমিকম্প ট্রেনে “ঘুম নেই, স্মৃতি অগণিত” কানাডীয় পর্যটকদের অভিজ্ঞতা বদলে দিল ভারতীয় যাত্রা

জাপান নৌসীমায় চিনা মাছ ধরার নৌকা আটক, নেটা গ্রেপ্তার: টোকিও-বেইজিং সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা

জাপানের নাগাসাকি উপকূলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইইজেড) একটি চিনা মাছ ধরার নৌকা আটক করা হয়েছে এবং এর নৌকা চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাপান সরকার জানিয়েছে, নৌকাটি যখন ইইজেডের মধ্যে ছিল, তখন ফিশারি কর্মকর্তা তাকে থামার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু নৌকাটি সেই নির্দেশ অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করলে জাপান কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া নৌকা চালক ৪৭ বছর বয়সী এবং নৌকায় আরও ১০ জন ক্রু ছিল। এটি ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো জাপানের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক চিনা মাছ ধরার নৌকা আটক হওয়ার ঘটনা।

ইইজেডে আটক নৌকা

একটি দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সাধারণত উপকূল থেকে ২৩০ মাইল পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এই এলাকায় দেশটির একচেটিয়া অধিকার থাকে মাছ ধরা, তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের উপর। জাপানের ফিশারি এজেন্সি নৌকাটিকে থামার জন্য নির্দেশ দেয়, কিন্তু নৌকাটি পালানোর চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ তা আটক করে। আটক নৌকাটি নাগাসাকি উপকূল থেকে প্রায় ১০২ মাইল দূরে অবস্থান করছিল।

Japan seizes Chinese fishing boat in disputed waters incident | Jornal  Portuário

টোকিও-বেইজিং উত্তেজনা

চীন ও জাপানের মধ্যে মাছ ধরা নিয়ে পূর্বেও উত্তেজনা দেখা গেছে। ২০১০ সালে পূর্ব চীন সাগরের একটি বিতর্কিত দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় চীনা নৌকা ও জাপানের কোস্ট গার্ডের সংঘর্ষ কূটনৈতিক বিবাদ তৈরি করেছিল। দুই দেশই এই দ্বীপগুলোর উপর নিজেদের দাবী জানান। চীন দীর্ঘদিন ধরে তার মাছ ধরার নৌকাদের ‘ধূসর জোন’ কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করে, যা প্রতিবেশী দেশের ওপর প্রভাব দেখানোর একটি কৌশল।

সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি তাইওয়ান নিয়ে মন্তব্য করেন যে জাপান যদি প্রয়োজন হয়, সেই দ্বীপ সংক্রান্ত সংঘাতে জড়িত হতে পারে। চীন এটিকে তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছে এবং জাপানকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে। চীনা রাষ্ট্রমাধ্যম তাকাইচিকে অতীতের সামরিক শাসনের রূপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। বেইজিং জাপানের বিপরীতে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন জাপানি কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও চুম্বকীয় উপকরণের উপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি, এবং চীনা পর্যটকদের জাপান ভ্রমণ হ্রাস।

Japan seizes Chinese fishing boat as tensions between nations increase

নৌকা চালকের মুক্তি

গ্রেপ্তারের একদিন পর ওই নৌকা চালককে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জাপান সরকারের এই পদক্ষেপ শুধু নৌকাদমন নয়, এটি সামুদ্রিক আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং দেশের নিরাপত্তা ও সম্পদের রক্ষার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা টোকিও-বেইজিং সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের সংঘর্ষের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।

জাপানের এই কঠোর নীতি স্পষ্টভাবে দেখায় যে, দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে জাপান কোনও ধরনের অনুপ্রবেশ বা লঙ্ঘন সহ্য করবে না। একই সঙ্গে এটি প্রতিবেশী চীনের প্রতি জাপানের অবস্থান ও নীতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ার ই-আবর্জনা নিষেধাজ্ঞা: কি বিশ্বব্যাপী টক্সিক বর্জ্য প্রবাহ বন্ধ করতে পারবে?

জাপান নৌসীমায় চিনা মাছ ধরার নৌকা আটক, নেটা গ্রেপ্তার: টোকিও-বেইজিং সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা

১২:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাপানের নাগাসাকি উপকূলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইইজেড) একটি চিনা মাছ ধরার নৌকা আটক করা হয়েছে এবং এর নৌকা চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাপান সরকার জানিয়েছে, নৌকাটি যখন ইইজেডের মধ্যে ছিল, তখন ফিশারি কর্মকর্তা তাকে থামার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু নৌকাটি সেই নির্দেশ অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করলে জাপান কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া নৌকা চালক ৪৭ বছর বয়সী এবং নৌকায় আরও ১০ জন ক্রু ছিল। এটি ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো জাপানের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক চিনা মাছ ধরার নৌকা আটক হওয়ার ঘটনা।

ইইজেডে আটক নৌকা

একটি দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সাধারণত উপকূল থেকে ২৩০ মাইল পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এই এলাকায় দেশটির একচেটিয়া অধিকার থাকে মাছ ধরা, তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের উপর। জাপানের ফিশারি এজেন্সি নৌকাটিকে থামার জন্য নির্দেশ দেয়, কিন্তু নৌকাটি পালানোর চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ তা আটক করে। আটক নৌকাটি নাগাসাকি উপকূল থেকে প্রায় ১০২ মাইল দূরে অবস্থান করছিল।

Japan seizes Chinese fishing boat in disputed waters incident | Jornal  Portuário

টোকিও-বেইজিং উত্তেজনা

চীন ও জাপানের মধ্যে মাছ ধরা নিয়ে পূর্বেও উত্তেজনা দেখা গেছে। ২০১০ সালে পূর্ব চীন সাগরের একটি বিতর্কিত দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় চীনা নৌকা ও জাপানের কোস্ট গার্ডের সংঘর্ষ কূটনৈতিক বিবাদ তৈরি করেছিল। দুই দেশই এই দ্বীপগুলোর উপর নিজেদের দাবী জানান। চীন দীর্ঘদিন ধরে তার মাছ ধরার নৌকাদের ‘ধূসর জোন’ কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করে, যা প্রতিবেশী দেশের ওপর প্রভাব দেখানোর একটি কৌশল।

সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি তাইওয়ান নিয়ে মন্তব্য করেন যে জাপান যদি প্রয়োজন হয়, সেই দ্বীপ সংক্রান্ত সংঘাতে জড়িত হতে পারে। চীন এটিকে তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছে এবং জাপানকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে। চীনা রাষ্ট্রমাধ্যম তাকাইচিকে অতীতের সামরিক শাসনের রূপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। বেইজিং জাপানের বিপরীতে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন জাপানি কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও চুম্বকীয় উপকরণের উপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি, এবং চীনা পর্যটকদের জাপান ভ্রমণ হ্রাস।

Japan seizes Chinese fishing boat as tensions between nations increase

নৌকা চালকের মুক্তি

গ্রেপ্তারের একদিন পর ওই নৌকা চালককে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জাপান সরকারের এই পদক্ষেপ শুধু নৌকাদমন নয়, এটি সামুদ্রিক আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং দেশের নিরাপত্তা ও সম্পদের রক্ষার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা টোকিও-বেইজিং সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের সংঘর্ষের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।

জাপানের এই কঠোর নীতি স্পষ্টভাবে দেখায় যে, দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে জাপান কোনও ধরনের অনুপ্রবেশ বা লঙ্ঘন সহ্য করবে না। একই সঙ্গে এটি প্রতিবেশী চীনের প্রতি জাপানের অবস্থান ও নীতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।